ট্রাম্পের গ্রিনল্যান্ড দখলের হুমকির প্রতিবাদে ডেনমার্কে বিক্ষোভ
আর্কটিক দ্বীপ গ্রিনল্যান্ড দখলের বিষয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের হুমকির মুখে আজ (১৭ জানুয়ারি) ডেনমার্কজুড়ে হাজার হাজার মানুষ গ্রিনল্যান্ডের প্রতি সংহতি প্রকাশ করে সমবেত হয়েছেন। তারা গ্রিনল্যান্ডবাসীদের আত্মনিয়ন্ত্রণের অধিকারকে সম্মান জানানোর জন্য মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি দাবি জানিয়েছেন।
ট্রাম্প দাবি করেছেন, গ্রিনল্যান্ডের কৌশলগত অবস্থান এবং খনিজ সম্পদের বিশাল ভাণ্ডারের কারণে এটি মার্কিন নিরাপত্তার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তিনি এটি দখল করার জন্য শক্তি প্রয়োগের সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেননি। এমন পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে, ডেনমার্কের অনুরোধে ইউরোপীয় দেশগুলো এই সপ্তাহে গ্রিনল্যান্ড দ্বীপে সামরিক কর্মী পাঠিয়েছে।
'গ্রিনল্যান্ড বিক্রির জন্য নয়' বলে স্লোগান দিয়ে এবং গ্রিনল্যান্ডের লাল-সাদা 'এরফালাসরপুট' পতাকার পাশাপাশি 'গ্রিনল্যান্ড থেকে হাত সরিয়ে নাও' স্লোগান সংবলিত ব্যানার হাতে বিক্ষোভকারীরা কোপেনহেগেনের সিটি হল স্কয়ারে জড়ো হন। এরপর সেখান থেকে তারা মার্কিন দূতাবাসের অভিমুখে পদযাত্রা করেন।
ডেনমার্কে গ্রিনল্যান্ডবাসীদের সংগঠন 'উয়াগুত'-এর চেয়ারম্যান জুলি রাডেমাকার বলেন, 'গ্রিনল্যান্ডবাসী হিসেবে আমরা যে বিশাল সমর্থন পাচ্ছি তার জন্য আমি অত্যন্ত কৃতজ্ঞ... আমরা বিশ্বের কাছে এই বার্তাও পাঠাচ্ছি যে আপনাদের সবাইকে জেগে উঠতে হবে।'
তিনি আরও যোগ করেন, 'গ্রিনল্যান্ড এবং গ্রিনল্যান্ডবাসীরা অনিচ্ছাসত্ত্বেও গণতন্ত্র ও মানবাধিকারের লড়াইয়ের সম্মুখভাগে চলে এসেছে।'
কয়েক শতাব্দী ধরে কোপেনহেগেন থেকে শাসিত ৫৭,০০০ জনসংখ্যার এই গ্রিনল্যান্ড ভূখণ্ড ১৯৭৯ সাল থেকে উল্লেখযোগ্য স্বায়ত্তশাসন ভোগ করে আসছে। তবে এটি এখনও ডেনমার্ক রাজতন্ত্রের অংশ হিসেবে রয়ে গেছে, যারা এই অঞ্চলের প্রতিরক্ষা ও পররাষ্ট্র নীতি নিয়ন্ত্রণ করে এবং প্রশাসনের সিংহভাগ অর্থের যোগান দেয়।
গ্রিনল্যান্ডের পার্লামেন্টে নির্বাচিত পাঁচটি রাজনৈতিক দলই শেষ পর্যন্ত স্বাধীনতার পক্ষে থাকলেও এই পদক্ষেপের সময়সীমা নিয়ে তাদের মধ্যে মতভেদ রয়েছে। তবে দলগুলো সাম্প্রতিক দিনগুলোতে স্পষ্ট জানিয়েছে যে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে যোগদানের চেয়ে তারা বরং ডেনমার্কের অংশ হিসেবে থাকতেই পছন্দ করবে।
ডেনমার্কের এই বিক্ষোভগুলো গ্রিনল্যান্ডিক গোষ্ঠীগুলো এবং এনজিও 'অ্যাকশনএইড ডেনমার্ক'-এর সহযোগিতায় আয়োজিত হয়েছে।
ডেনমার্কের গ্রিনল্যান্ডিক স্থানীয় সমিতিগুলোর যৌথ সংগঠন 'ইনুইট'-এর চেয়ারম্যান ক্যামিলা সিজিং বলেন, 'আমরা ডেনমার্ক সাম্রাজ্যের প্রতি সম্মান এবং গ্রিনল্যান্ডের আত্মনিয়ন্ত্রণের অধিকারের প্রতি সম্মান জানানোর দাবি জানাই।'
ডেনিশ কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে প্রায় ১৭,০০০ গ্রিনল্যান্ডবাসী ডেনমার্কে বসবাস করেন।
এদিকে, একটি জরিপে দেখা গেছে যে মাত্র ১৭ শতাংশ আমেরিকান প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের গ্রিনল্যান্ড দখলের প্রচেষ্টাকে সমর্থন করেছেন। ডেমোক্র্যাট ও রিপাবলিকান উভয় দলের একটি বিশাল অংশ এই দ্বীপ দখলে সামরিক শক্তি ব্যবহারের বিরোধিতা করেছেন, তবে ট্রাম্প এই জরিপকে 'ফেইক' বলে অভিহিত করেছেন।
