ইরানে ফ্রি ইন্টারনেট সুবিধা পাচ্ছেন স্টারলিংক ব্যবহারকারীরা: দাবি মানবাধিকার সংস্থার
ইরানে যারা ইলন মাস্কের স্টারলিংক স্যাটেলাইট ইন্টারনেট ব্যবহার করেন, তারা মঙ্গলবার এই পরিষেবাটি বিনামূল্যে ব্যবহার করতে পেরেছেন। ইরানিদের ইন্টারনেটে প্রবেশাধিকার পেতে সহায়তা করা মার্কিন সংস্থা 'হোলিস্টিক রেজিলিয়েন্স' এই তথ্য জানিয়েছে।
হোলিস্টিক রেজিলিয়েন্স-এর নির্বাহী পরিচালক আহমদ আহমাদিয়ান বলেন, স্টারলিংকের মূল প্রতিষ্ঠান রকেট নির্মাতা স্পেসএক্স মঙ্গলবার সকালে এই পরিষেবার ফি মওকুফ করেছে। তিনি জানান, দেশটিতে গণবিক্ষোভের মুখে চলমান প্রায় সম্পূর্ণ যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন অবস্থার মধ্যে অনলাইনে আসার জন্য স্টারলিংক-কে কোনো অর্থ দিতে হচ্ছে না বলে ইরানের বাসিন্দারা তাকে জানিয়েছেন। তবে দ্য নিউ ইয়র্ক টাইমস মি. আহমাদিয়ানের এই দাবির সত্যতা যাচাই করতে সক্ষম হয়নি।
২০০২ সালে ইলন মাস্কের প্রতিষ্ঠিত প্রতিষ্ঠান স্পেসএক্স-এর কাছে মন্তব্যের অনুরোধ করা হলেও তারা কোনো সাড়া দেয়নি। তবে ব্লুমবার্গ এর আগেই প্রতিবেদন প্রকাশ করেছিল যে স্পেসএক্স ইরানে বিনামূল্যে স্টারলিংক পরিষেবা প্রদান করছে।
ইরানি কর্তৃপক্ষ সাম্প্রতিক দিনগুলোতে দেশটিতে চলমান বিক্ষোভের ওপর কঠোর দমন-পীড়ন চালাচ্ছে এবং মানুষকে তথ্য পাওয়া ও অনলাইনে সংগঠিত হওয়া থেকে বিরত রাখতে যোগাযোগ ব্যবস্থা অবরুদ্ধ করে রেখেছে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, ইরানি বাহিনী নিরস্ত্র বিক্ষোভকারীদের ওপর গুলি বর্ষণ করেছে; তবে এতে নিহত ও আহতের সংখ্যা স্পষ্ট নয়।
সংঘাতপূর্ণ অঞ্চল, দুর্গম এলাকা এবং প্রাকৃতিক দুর্যোগকবলিত স্থানগুলোতে ইন্টারনেট ব্যবহারের ক্ষেত্রে মাস্কের স্টারলিংক পরিষেবা প্রায়শই একমাত্র মাধ্যম হয়ে ওঠে। এটি হাজার হাজার কৃত্রিম উপগ্রহের ওপর নির্ভর করে যা পৃথিবীর টার্মিনালগুলোর সাথে যোগাযোগের মাধ্যমে উচ্চগতির ইন্টারনেট পৌঁছে দেয়। উদাহরণস্বরূপ, রাশিয়ার বিরুদ্ধে যুদ্ধে ইউক্রেনীয় বাহিনী এই পরিষেবাটি ব্যাপকভাবে ব্যবহার করেছে।
বিভিন্ন স্থানে স্টারলিংক পরিষেবা চালু বা বন্ধ করার সক্ষমতা এবং স্যাটেলাইট ও রকেটের মাধ্যমে মহাকাশে আধিপত্য মাস্ককে একজন অত্যন্ত প্রভাবশালী এবং অনিশ্চিত ভূ-রাজনৈতিক ব্যক্তিতে পরিণত করেছে।
স্টারলিংক স্পেসএক্স-এর জন্য অত্যন্ত লাভজনক একটি প্রকল্প হিসেবে প্রমাণিত হয়েছে। কোম্পানিটি সম্প্রতি ইনসাইডার শেয়ার কেনার একটি প্রস্তাব দিয়েছে যা এর বাজারমূল্য ৮০০ বিলিয়ন ডলারে নিয়ে যাবে; বর্তমানে এটি বিশ্বের অন্যতম মূল্যবান বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়েছে এবং শেয়ারহোল্ডারদের জানিয়েছে যে তারা শেয়ার বাজারে তালিকাভুক্ত হওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে।
ইরানি কর্তৃপক্ষ আগেও স্টারলিংক নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেছিল। ২০২২ সালে যখন দেশটিতে সরকারবিরোধী বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে, তখন মাস্ক আন্দোলনকারীদের অনলাইনে থাকতে সাহায্য করার জন্য সেখানে স্টারলিংক পরিষেবা উন্মুক্ত করেছিলেন। সেই সময় ইরান সরকার স্পেসএক্স-এর বিরুদ্ধে তাদের সার্বভৌমত্ব লঙ্ঘনের অভিযোগ তুলেছিল।
আহমাদিয়ান এ বিষয়ে বলেন, ইরান স্টারলিংক টার্মিনালগুলো নিষিদ্ধ করেছে এবং গত অক্টোবরে একটি আইন কার্যকর করেছে যেখানে এই পরিষেবা ব্যবহারের জন্য মৃত্যুদণ্ডসহ কঠোর শাস্তির বিধান রাখা হয়েছে। তিনি আরও জানান, কর্তৃপক্ষ সম্প্রতি স্টারলিংক ব্লক করার জন্য স্যাটেলাইট ইন্টারনেটের সিগন্যাল জ্যাম করার করার চেষ্টা করছে বলেও মনে হচ্ছে।
যুক্তরাষ্ট্র ভিত্তিক মানবাধিকার বিষয়ক অলাভজনক সংস্থা 'মিয়ান গ্রুপ'-এর ডিজিটাল অধিকার ও নিরাপত্তা বিষয়ক পরিচালক আমির রাশিদি বলেন, ইরানে যারা স্টারলিংক ব্যবহার করছেন তারা মঙ্গলবার একটি সফটওয়্যার আপডেট পেয়েছেন। এই আপডেটের উদ্দেশ্য হলো সিগন্যাল বা সংকেতকে আরও শক্তিশালী করা, যাতে ইরান সরকারের চালানো 'জ্যামিং' বা সংকেত বিঘ্নিত করার প্রচেষ্টাকে এড়ানো বা নসাৎ করা যায়।
