লন্ডনে ইরানি দূতাবাসের ব্যালকনিতে উঠে পতাকা নামিয়ে ফেললেন বিক্ষোভকারী, গ্রেপ্তার ২
লন্ডনে ইরানবিরোধী বিক্ষোভ চলাকালে এক ব্যক্তি দেশটির দূতাবাসের ব্যালকনিতে উঠে জাতীয় পতাকা টেনে নামিয়ে ফেলেছেন। শনিবার বিকেলে পশ্চিম লন্ডনের কেনসিংটনে দূতাবাস ভবনের সামনে শত শত মানুষের অংশগ্রহণে হওয়া বিক্ষোভে এমন ঘটনা ঘটে। এসময় বিক্ষোভকারীরা সরকারবিরোধী স্লোগান এবং পতাকা নাড়াতে থাকেন।
লন্ডনের মেট্রোপলিটন পুলিশ জানিয়েছে, বিক্ষোভে শৃঙ্খলাভঙ্গের দায়ে দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এ ছাড়া অবৈধভাবে ভবনে প্রবেশের অভিযোগে আরেক ব্যক্তিকে পুলিশ খুঁজছে।
শনিবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, এক ব্যক্তি দূতাবাসের ব্যালকনিতে দাঁড়িয়ে ইরানের জাতীয় পতাকা টেনে নামিয়ে ফেলছেন। সেটি সরিয়ে তিনি ইসলামি বিপ্লব-পূর্ব যুগের 'সিংহ ও সূর্য' খচিত পতাকা স্থাপন করেন। তবে পরবর্তীতে ইরান দূতাবাস তাদের এক্স (সাবেক টুইটার) অ্যাকাউন্টে একটি ছবি পোস্ট করে জানায়, পতাকাটি আবারও যথাস্থানে স্থাপন করা হয়েছে।
পুলিশ জানিয়েছে, গ্রেপ্তারকৃত দুজনের মধ্যে একজনকে জরুরি কর্মীর ওপর হামলা ও গুরুতর জবরদখলের অভিযোগে এবং অন্যজনকে শুধু জবরদখলের অভিযোগে আটক করা হয়েছে।
পুলিশ এক বিবৃতিতে জানায়, 'কোনো বড় ধরনের বিশৃঙ্খলা দেখা যায়নি। দূতাবাসের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পুলিশ সদস্যরা ওই এলাকায় অবস্থান করবেন।' এর আগে শনিবার সকালেই পুলিশ জানিয়েছিল, যেকোনো বিশৃঙ্খলা এড়াতে সেখানে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
ইরানে গত ২৮ ডিসেম্বর থেকে শুরু হওয়া সরকারবিরোধী বিক্ষোভের জেরে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ইরানি দূতাবাসের সামনে প্রতিবাদ কর্মসূচি পালন করা হচ্ছে। লন্ডনের বিক্ষোভে অনেকেই ইরানের শেষ শাহ মোহাম্মদ রেজা পাহলভির নির্বাসিত ছেলে রেজা পাহলভির ছবি বহন করছিলেন। ১৯৭৯ সালের বিপ্লবের মাধ্যমে ইরানে রাজতন্ত্রের পতন ঘটেছিল। বর্তমানে ইরানে চলমান বিক্ষোভে অনেকেই রেজা পাহলভির ফিরে আসার এবং রাজতন্ত্র পুনরুদ্ধারের দাবি জানাচ্ছেন।
ইরানে বিক্ষোভ দমনে সহিংসতায় অন্তত ৫০ জন নিহত হওয়ার খবর জানিয়েছে দুটি মানবাধিকার সংস্থা। এ ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে গত সপ্তাহে যুক্তরাজ্য, জার্মানি এবং ফ্রান্স যৌথ বিবৃতি দিয়েছে। ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী স্যার কিয়ার স্টারমার, ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল মাঁখো এবং জার্মান চ্যান্সেলর ফ্রেডরিখ মারজ ওই বিবৃতিতে বলেন, 'ইরানি কর্তৃপক্ষের দায়িত্ব তাদের জনগণকে রক্ষা করা এবং প্রতিশোধের ভয় ছাড়া মত প্রকাশের স্বাধীনতা ও শান্তিপূর্ণ সমাবেশের সুযোগ দেওয়া।'
অর্থনৈতিক সংকট থেকে শুরু হওয়া এই বিক্ষোভ এখন ১৩তম দিনে গড়িয়েছে এবং তা ইসলামি প্রজাতন্ত্রের অবসানের দাবিতে বড় আকার ধারণ করেছে। তবে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি বিক্ষোভকারীদের 'সমস্যা সৃষ্টিকারী' হিসেবে আখ্যা দিয়ে অভিযোগ করেছেন, তারা মার্কিন প্রেসিডেন্টকে খুশি করার চেষ্টা করছে। বর্তমানে ইরানে ইন্টারনেট সংযোগ বিচ্ছিন্ন (ব্ল্যাকআউট) রাখা হয়েছে।
