২০২৮ সালে যুক্তরাষ্ট্রের কারখানায় রোবট কর্মী নিয়োগ দেবে হুন্দাই
দক্ষিণ কোরিয়ার বিখ্যাত গাড়ি নির্মাতা প্রতিষ্ঠান হুন্দাই মোটর গ্রুপ জানিয়েছে, তারা ২০২৮ সাল থেকে যুক্তরাষ্ট্রের জর্জিয়ায় অবস্থিত তাদের উৎপাদন কারখানায় হিউম্যানয়েড বা মানবাকৃতির রোবট মোতায়েন করার পরিকল্পনা করছে। উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ এবং একঘেয়ে কাজগুলো স্বয়ংক্রিয় করার লক্ষ্যের অংশ হিসেবে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
সোমবার লাস ভেগাসে অনুষ্ঠিত কনজ্যুমার ইলেকট্রনিক্স শো (সিইএস)-এ হুন্দাই তাদের অঙ্গপ্রতিষ্ঠান বোস্টন ডায়নামিক্সের তৈরি 'অ্যাটলাস' হিউম্যানয়েড রোবটের উৎপাদন সংস্করণ উন্মোচন করেছে। প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে, ২০২৮ সালের মধ্যে তারা এমন একটি কারখানা তৈরির লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে, যা বছরে ৩০ হাজার রোবট তৈরি করতে সক্ষম হবে।
যদিও রোবটগুলোর দাম প্রকাশ করা হয়নি, তবে হুন্দাই এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, তাদের 'ফিজিক্যাল এআই' কৌশলের অংশ হিসেবে সব উৎপাদন কেন্দ্রেই পর্যায়ক্রমে রোবট ব্যবহারের পরিকল্পনা রয়েছে। শুরুতে ২০২৮ সাল থেকে রোবটগুলো যন্ত্রাংশ সাজানোর কাজ করবে। নিরাপত্তা ও গুণগত মান নিশ্চিত হওয়ার পর ধীরে ধীরে কাজের পরিধি বাড়ানো হবে।
হুন্দাইয়ের পরিকল্পনা অনুযায়ী, ২০৩০ সালের মধ্যে অ্যাটলাস রোবটগুলো যন্ত্রাংশ সংযোজন বা অ্যাসেম্বলির কাজে যুক্ত হবে। দীর্ঘমেয়াদে ভারী বোঝা বহন, একঘেয়ে নড়াচড়া এবং জটিল অপারেশনাল কাজগুলোও রোবটের কাঁধে তুলে দেওয়া হবে। এতে কর্মীদের শারীরিক চাপ কমবে এবং ঝুঁকিপূর্ণ কাজগুলো নিরাপদে সম্পন্ন হবে।
হুন্দাইয়ের সহযোগী প্রতিষ্ঠান কিয়া কর্পোরেশনের শ্রমিক ইউনিয়ন গত বছর এআই যুগে শ্রমিকদের অধিকার রক্ষায় একটি বিশেষ বডি বা সংস্থা গঠনের আহ্বান জানিয়েছিল। অটোমেশন বাড়ার ফলে চাকরি হারানোর আশঙ্কা থেকেই শ্রমিকরা এই দাবি তুলেছিলেন।
সিইএস-এ হুন্দাই মোটরের ভাইস চেয়ার জেহুন চ্যাং বলেন, 'আমরা চাকরি হারানোর উদ্বেগটি বুঝি। তবে রোবট রক্ষণাবেক্ষণ এবং তাদের প্রশিক্ষণের জন্য মানুষের প্রয়োজন হবেই। এ জন্য অতিরিক্ত জনবলেরও দরকার হবে।'
হুন্দাই জানিয়েছে, অ্যাটলাস রোবটগুলো মাইনাস ২০ ডিগ্রি থেকে ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রায় কাজ করতে সক্ষম। এতে মানুষের হাতের মতো স্পর্শকাতর সেন্সর রয়েছে এবং এটি ৫০ কেজি (১১০ পাউন্ড) পর্যন্ত ওজন তুলতে পারে। রোবটগুলো সম্পূর্ণ স্বয়ংক্রিয়ভাবে কাজ করতে পারবে।
কোম্পানিটি আশা করছে, ভবিষ্যতে হিউম্যানয়েড রোবট ফিজিক্যাল আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স বা বাস্তবিক এআই বাজারের সবচেয়ে বড় অংশ দখল করবে। এই খাতের উন্নয়নে হুন্দাই এনভিডিয়া এবং গুগলের মতো বিশ্বসেরা এআই প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে অংশীদারত্বের ভিত্তিতে কাজ করছে।
