ট্রাম্পের সঙ্গে নিজের নোবেল পুরস্কার ভাগ করে নিতে চান ভেনেজুয়েলার মাচাদো; শিগগিরই দেশে ফেরার পরিকল্পনা
গত সোমবার ফক্স নিউজের প্রাইম টাইমে প্রচারিত এক অনুষ্ঠানে ভেনেজুয়েলার বিরোধীদলীয় নেতা মারিয়া কোরিনা মাচাদো মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ভূয়সী প্রশংসা করেন। নিকোলা মাদুরো যুক্তরাষ্ট্রের হাতে আটক হওয়ার পর এবং ট্রাম্প মাচাদোকে ভেনেজুয়েলার পরবর্তী নেতা হিসেবে নাকচ করে দেওয়ার পর এটিই ছিল টেলিভিশনে দেওয়া মাচাদোর প্রথম সাক্ষাৎকার।
২০২৪ সালে মাদুরোর বিরুদ্ধে সফল নির্বাচনী প্রচারণা চালিয়েছিলেন মাচাদো। ১০ মিনিটের এই সাক্ষাৎকারের বড় অংশজুড়েই তিনি ভেনেজুয়েলার বিরোধী দলকে সমর্থন দিতে নারাজ ট্রাম্পের দৃষ্টি আকর্ষণের চেষ্টা করেন। এমনকি গত অক্টোবরে পাওয়া নিজের নোবেল শান্তি পুরস্কারটিও তিনি ট্রাম্পকে দেওয়ার প্রস্তাবও দেন। দীর্ঘদিন ধরে এই পুরস্কার পাওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করে আসছেন ট্রাম্প।
ফক্স নিউজের উপস্থাপক শন হ্যানিটিকে মাচাদো বলেন, 'এই পুরস্কার যেহেতু ভেনেজুয়েলার জনগণের, তাই আমরা অবশ্যই এটি তাকে (ট্রাম্পকে) দিতে চাই এবং তার সঙ্গে ভাগাভাগি করে নিতে চাই।'
মাচাদো আরও জানান, গত অক্টোবরে পুরস্কারটি ট্রাম্পকে উৎসর্গ করার পর থেকে তার সঙ্গে মার্কিন প্রেসিডেন্টের আর কোনো কথা হয়নি।
ভেনেজুয়েলার অন্তর্বর্তীকালীন নেতা হিসেবে মাচাদো কিংবা এডমান্ডো গঞ্জালেজ কাউকে সমর্থন না দিয়ে ট্রাম্প শর্তসাপেক্ষে মাদুরোর ভাইস প্রেসিডেন্ট ডেলসি রদ্রিগেজকে বেছে নিয়েছেন। মাচাদো নির্বাচনে অযোগ্য ঘোষিত হওয়ার পর গঞ্জালেজ প্রার্থী হয়েছিলেন। মাচাদো ও গঞ্জালেজ দীর্ঘদিন ধরে দাবি করে আসছেন, গঞ্জালেজই ভেনেজুয়েলার বৈধ প্রেসিডেন্ট।
গত শনিবার মাচাদো সম্পর্কে ট্রাম্প বলেন, 'দেশের ভেতরে তার কোনো জনসমর্থন বা সম্মান নেই। তিনি খুব ভালো একজন নারী, কিন্তু তার প্রতি মানুষের শ্রদ্ধা নেই।'
মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ট্রাম্পকে বুঝিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্র যদি এখন বিরোধীদের সমর্থন দেয়, তবে ভেনেজুয়েলা আরও অস্থিতিশীল হয়ে উঠতে পারে। সিআইএর একটি গোপন গোয়েন্দা বিশ্লেষণেও এই মতামতের প্রতিফলন ঘটেছে বলে নথিটি সম্পর্কে অবগত এক ব্যক্তি জানিয়েছেন।
সোমবার মাচাদো বলেন, বিরোধী দল ক্ষমতায় এলে তারা ভেনেজুয়েলাকে যুক্তরাষ্ট্রের নিরাপত্তা মিত্রে এবং সমগ্র আমেরিকার জন্য একটি জ্বালানি হাবে পরিণত করবে। পাশাপাশি বিদেশি বিনিয়োগের সুরক্ষা নিশ্চিত করা হবে এবং মাদুরোর শাসনামলে দেশ ছেড়ে পালিয়ে যাওয়া লাখ লাখ ভেনেজুয়েলানকে দেশে ফিরিয়ে আনা হবে।
তিনি বলেন, 'এই সমাজতান্ত্রিক ও অপরাধী সরকার আমাদের জনগণের ওপর যে ধ্বংসযজ্ঞ চালিয়েছে, আমরা তা পেছনে ফেলে লাতিন আমেরিকায় ভেনেজুয়েলাকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রধান মিত্রে পরিণত করব।'
তবে মাচাদোর আন্দোলনকে কীভাবে সরকার গঠনের সুযোগ দেওয়া হবে, তা এখনো অস্পষ্ট। ভেনেজুয়েলায় নতুন করে নির্বাচন হবে কি না, সে বিষয়ে ট্রাম্প কোনো ইঙ্গিত দেননি। তিনি শুধু বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র এখন দেশটির 'দায়িত্বে' রয়েছে।
সোমবার মাচাদো দাবি করেন, 'অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন হলে বিরোধী দল ৯০ শতাংশেরও বেশি ভোট পাবে।'
২০২৪ সালের নির্বাচনের পর মাচাদো এক বছরেরও বেশি সময় আত্মগোপনে ছিলেন। ডিসেম্বরে নোবেল শান্তি পুরস্কার নিতে তিনি গোপনে ভেনেজুয়েলা ত্যাগ করে নরওয়েতে যান। পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকতে না পারলেও তিনি অসলোতে সমর্থকদের সঙ্গে দেখা করেন।
সোমবার নিজের বর্তমান অবস্থানের কথা গোপন রেখে তিনি বলেন, 'আমি যত দ্রুত সম্ভব ফিরে যাওয়ার পরিকল্পনা করছি।'
