'আমাদের গ্রিনল্যান্ড লাগবে' : আবারও ডেনমার্কের ভূখণ্ড দখলের হুমকি দিলেন ট্রাম্প
গ্রিনল্যান্ডকে যুক্তরাষ্ট্রের অংশ করার প্রস্তাব আবারও দিয়েছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। এর আগে ডেনমার্কের নেতারা ট্রাম্পকে দ্বীপটি নিয়ে 'হুমকি দেওয়া বন্ধ করতে' অনুরোধ করেছিলেন।
সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় মার্কিন প্রেসিডেন্ট বলেন, 'জাতীয় নিরাপত্তার দিক থেকে গ্রিনল্যান্ড আমাদের প্রয়োজন।'
ট্রাম্প বারবার ডেনমার্কের আধা-স্বায়ত্তশাসিত এই অঞ্চলকে যুক্তরাষ্ট্রের অংশ করার কথা বলছেন। এর কারণ হিসেবে তিনি এর কৌশলগত অবস্থান এবং খনিজ সম্পদের প্রাচুর্যের কথা উল্লেখ করেছেন।
গ্রিনল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী জেনস ফ্রেডেরিক নিয়েলসেন ট্রাম্পের মন্তব্যের কড়া জবাব দিয়ে বলেছেন, 'আর নয়।' যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিনল্যান্ড দখলের ধারণাকে তিনি 'কল্পনা' বলে অভিহিত করেছেন।
তিনি বলেন, 'আর কোনো চাপ নয়। আর কোনো ইঙ্গিত নয়। দখলের আর কোনো কল্পনা নয়। আমরা আলোচনার জন্য প্রস্তুত। তবে এটি সঠিক পদ্ধতি মেনে এবং আন্তর্জাতিক আইনের প্রতি শ্রদ্ধা রেখে হতে হবে।'
এর আগে ডেনমার্কের প্রধানমন্ত্রী মেটে ফ্রেডেরিকসেন বলেছিলেন, 'মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ডেনিশ রাজ্যের তিনটি জাতির কোনোটিকেই দখল করার অধিকার নেই।'
ফ্রেডেরিকসেন আরও জানান, ডেনমার্ক 'এবং এর ফলে গ্রিনল্যান্ড' ন্যাটো জোটের সদস্য এবং জোটের নিরাপত্তা গ্যারান্টির আওতায় রয়েছে। তিনি বলেন, দ্বীপটিতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রবেশাধিকার দেওয়ার একটি প্রতিরক্ষা চুক্তি ইতিমধ্যেই বিদ্যমান।
ট্রাম্পের জ্যেষ্ঠ সহযোগী স্টিফেন মিলারের স্ত্রী কেটি মিলার সোশ্যাল মিডিয়ায় গ্রিনল্যান্ডের একটি মানচিত্র মার্কিন পতাকার রঙে 'খুব শীঘ্রই' লেখা দিয়ে পোস্ট করার পর ডেনমার্কের প্রধানমন্ত্রী তার বিবৃতি দেন। কেটি মিলার একজন ডানপন্থী পডকাস্টার এবং ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদের একজন সাবেক সহযোগী ছিলেন।
ডেনমার্কের মার্কিন রাষ্ট্রদূত মিলারের পোস্টের জবাবে 'বন্ধুত্বপূর্ণ স্মরণ করিয়ে' দেন যে, দুই দেশ মিত্র এবং ডেনমার্ক তাদের আঞ্চলিক অখণ্ডতার প্রতি শ্রদ্ধা আশা করে।
গ্রিনল্যান্ডের ভবিষ্যৎ নিয়ে এই দুশ্চিন্তা শুরু হয়েছে শনিবার ভেনেজুয়েলায় একটি বড় সামরিক অভিযানের পর। সেই অভিযানে প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো ও তার স্ত্রীকে আটক করে নিউইয়র্কে নিয়ে যাওয়া হয়।
ট্রাম্প পরে বলেছিলেন, যুক্তরাষ্ট্র ভেনেজুয়েলা 'চালাবে' এবং মার্কিন তেল কোম্পানিগুলো 'দেশের জন্য অর্থ উপার্জন শুরু করবে'।
এই পরিস্থিতি আবার নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে যে, যুক্তরাষ্ট্র হয়তো আর্কটিকের বিশাল এই দ্বীপ (গ্রিনল্যান্ড) দখল করার জন্য বল প্রয়োগের কথা বিবেচনা করতে পারে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট এর আগে এই সম্ভাবনা উড়িয়ে দেননি।
ট্রাম্প দাবি করেছেন, গ্রিনল্যান্ডকে যুক্তরাষ্ট্রের অংশ করলে আমেরিকার নিরাপত্তা স্বার্থ সুরক্ষিত হবে। কারণ এর কৌশলগত অবস্থান এবং উচ্চ-প্রযুক্তি খাতের জন্য গুরুত্বপূর্ণ খনিজ সম্পদের প্রাচুর্য রয়েছে।
ট্রাম্প প্রশাসনের সম্প্রতি গ্রিনল্যান্ডের জন্য একজন বিশেষ দূত নিয়োগের পদক্ষেপ ডেনমার্কে ক্ষোভের সৃষ্টি করেছে।
গ্রিনল্যান্ডের জনসংখ্যা ৫৭ হাজার। ১৯৭৯ সাল থেকে এটি ব্যাপক স্বায়ত্তশাসন ক্ষমতা ভোগ করছে। তবে প্রতিরক্ষা ও বৈদেশিক নীতি এখনো ডেনমার্কের হাতেই আছে।
বেশির ভাগ গ্রিনল্যান্ডবাসী ডেনমার্ক থেকে চূড়ান্ত স্বাধীনতা চাইলেও জনমত জরিপে দেখা গেছে, যুক্তরাষ্ট্রের অংশ হওয়ার ঘোর বিরোধিতা করেন তারা।
বিবিসিকে দেওয়া মন্তব্যে যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী স্যার কেয়ার স্টার্মার বলেছেন, কেবল ডেনমার্ক ও গ্রিনল্যান্ডই এই অঞ্চলের ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করতে পারে। তিনি বলেন, 'গ্রিনল্যান্ড এবং ডেনমার্ক রাজ্যকেই গ্রিনল্যান্ডের ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করতে হবে, এবং কেবল গ্রিনল্যান্ড ও ডেনমার্ক রাজ্যকেই।'
অন্যদিকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের এক প্রতিনিধি ট্রাম্পের এই দাবি প্রত্যাখ্যান করেছেন যে, ইইউ'র এই অঞ্চল নিয়ন্ত্রণে যুক্তরাষ্ট্রের 'প্রয়োজন' আছে।
ট্রাম্প সপ্তাহান্তে এয়ার ফোর্স ওয়ানে সাংবাদিকদের বলেছিলেন, 'ইইউ'র আমাদের প্রয়োজন [গ্রিনল্যান্ড নিয়ন্ত্রণে] এবং তারা তা জানে।'
ইউরোপীয় কমিশনের প্রধান মুখপাত্র পলা পিনহো বিবিসিকে বলেছেন, এটি 'নিশ্চিতভাবে' ইইউ'র অবস্থান নয়। তিনি আরও বলেন, এই ইস্যুতে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কোনো আলোচনার বিষয়ে তিনি অবগত নন।
