২০৫০ সালে যেভাবে সংকুচিত হবে জাপানের সমাজ
১৯ বছরের কেইইচি ইয়াসুনাগার কাছে ২০৫০ সাল এখনো দৃশ্যমান দিগন্তের অনেক বাইরে—যেন এক অস্পষ্ট ধারণা মাত্র, নির্দিষ্ট কোনো সময়বিন্দু নয়। অথচ এটি তার বাবা-মায়ের অবসর জীবনের সময়, তার নিজের মধ্য বয়সের পর্ব—যে সময় নিয়ে ভাবনাচিন্তা তার প্রজন্ম সাধারণত এড়িয়ে চলে। যেন পরে দেখা যাবে, এমনটাই মনোভাব।
তবে একবিংশ শতাব্দীর প্রথম চতুর্থাংশ (২০২৫ সাল) শেষেই বোঝা যাচ্ছে, জনসংখ্যাগত পরিবর্তনগুলো ইতোমধ্যেই দেশটির আগামী ২৫ বছরের রূপরেখা আঁকতে শুরু করেছে। মধ্য শতাব্দীতে পৌঁছাতে আজকের কিশোররা এমন এক জাপানের উত্তরাধিকার পাবে, যা আমূল বদলে যাবে: জনসংখ্যা হবে কয়েক কোটি কম, প্রবীণ বা বয়োবৃদ্ধ মানুষের অংশ হবে নজিরবিহীনভাবে বেশি, আর প্রজন্মগত ভারসাম্য ঝুঁকবে এমন এক দিকে, যা আগে কোনো সমাজ দেখেনি।
"২০৫০ সালে পরিস্থিতি কেমন হবে, সেটা কল্পনা করাই আমার জন্য কঠিন," বলেন ইয়াসুনাগা, যিনি বর্তমানে উচ্চবিদ্যালয়ের শেষ বর্ষে পড়ছেন এবং আগামী বসন্তে টোকিওর ওয়াসেদা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়ার পরিকল্পনা করছেন। "আমার মনে হয়, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) আমাদের দৈনন্দিন জীবনের কেন্দ্রে থাকবে। একই সঙ্গে মনে হয়, পেনশন ব্যবস্থা একসময় বিলুপ্ত হয়ে যাবে, আর অবসরের বয়স ক্রমেই বাড়তে থাকবে—৮০, কিংবা সবচেয়ে খারাপ ক্ষেত্রে ৯০ পর্যন্তও।"
ভবিষ্যৎ অনুমান করা সহজ নয়। ভূরাজনৈতিক টানাপোড়েন, প্রযুক্তিগত রূপান্তর, জলবায়ু পরিবর্তন এবং নীতিনির্ধারণ—সবকিছুই সবচেয়ে সতর্ক পূর্বাভাসকেও উল্টে দিতে পারে। তবে জনসংখ্যা সংক্রান্ত পূর্বাভাস একটি ব্যতিক্রম, যা সামনে কী অপেক্ষা করছে, তার তুলনামূলকভাবে স্পষ্ট আভাস দেয়।
জাপানের জাতীয় জনসংখ্যা ও সামাজিক নিরাপত্তা গবেষণা ইনস্টিটিউটের হিসাব অনুযায়ী, ২০৫০ সালে সেদেশের জনসংখ্যা কমে দাঁড়াবে আনুমানিক ১০ কোটি—বর্তমানের তুলনায় দুই কোটিরও বেশি কম। একই সময়ে মোট জনসংখ্যার মধ্যে ৬৫ বছর বা তার বেশি বয়সী মানুষের অনুপাত, যা চলতি বছরের সেপ্টেম্বরে ছিল ২৯ দশমিক ৪ শতাংশ, বেড়ে দাঁড়াবে ৩৭ দশমিক ১ শতাংশে।
সমাজে ধূসর চুলের মানুষ যত বাড়বে, তত বাড়বে নির্ভরশীলতার হার—যেটা আসলে প্রতি ১০০ জন কর্মক্ষম মানুষের বিপরীতে তাদের ওপর নির্ভরশীল শিশু ও প্রবীণ মানুষের সংখ্যার অনুপাত। এটি বর্তমানের ৬৮ থেকে বেড়ে ৮৯-এ পৌঁছাবে, অর্থাৎ কার্যত একজন কর্মক্ষম মানুষকে একজন নির্ভরশীলের ভার বহন করতে হবে। এই জনমিতিগত রূপান্তরের অভিঘাত জাতীয় জীবনের প্রায় সব ক্ষেত্রেই ছড়িয়ে পড়বে।
গ্রামীণ সম্প্রদায়গুলো সঙ্কুচিত হবে এবং মৌলিক সেবা টিকিয়ে রাখতে হিমশিম খাবে। পরিবার কাঠামো বদলে যাবে—একা বসবাসকারী প্রবীণ, বিশেষত নারীর সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়বে। শ্রমশক্তি সংকুচিত হওয়ায় শিল্পখাত স্বয়ংক্রিয়তার দিকে ঝুঁকবে, অথচ সামাজিক সেবা খাতে কর্মীর ঘাটতি হবে ভয়াবহ। জনসংখ্যা যত বেশি বয়সী হবে, ততই চিকিৎসা ও প্রবীণসেবার চাহিদা বাড়বে, আর তরুণদের চাহিদা কেন্দ্র করে যেসব পণ্য ও সেবার বাজার গড়ে উঠেছে, সেগুলো সংকুচিত হবে।
চ্যালেঞ্জগুলো বিপুল, তবে জাপানের এই সংকট মোকাবিলার প্রতিক্রিয়া এমন সব পাঠ দেবে, যা একই ধরনের ভবিষ্যতের মুখোমুখি সব বার্ধক্যের ভার বাড়তে থাকা সমাজগুলোর জন্যও প্রাসঙ্গিক হবে।
"২৫ বছর পর বৈশ্বিক পরিস্থিতি কেমন হবে, তা বলা খুব কঠিন," বলেন ইয়াসুনাগা, যিনি একজন কূটনীতিক হওয়ার স্বপ্ন দেখেন।
তিনি যোগ করেন, "সরকারি কাঠামো ও অবকাঠামো টিকিয়ে রাখতে এআই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। তবে যেহেতু এটি শারীরিক শ্রমের বিকল্প নয়, তাই শ্রমঘাটতি পূরণে জাপানকে নতুন উপায় খুঁজতেই হবে।"
আকিতা: ভবিষ্যতের এক ঝলক
আকিতা ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি থেকে স্নাতক শেষ করে দাইকি নাকাদা টোকিওতে ক্যারিয়ার গড়ার পথ বেছে নেননি। বরং তিনি উত্তরের আকিতা প্রদেশের সেম্বোকু শহরে একটি পর্যটনভিত্তিক স্টার্টআপে যোগ দেন, যেখানে তার ইংরেজি দক্ষতা কাজে লাগছে।
"আকিতাকে প্রায়ই জাপানের বার্ধক্য ও জনসংখ্যা হ্রাসের সামনের সারির উদাহরণ বলা হয়," বলেন ২৪ বছর বয়সী নাকাদা, যিনি ওকিনাওয়া থেকে এসেছেন। "কিন্তু এখানকার নিজস্ব সংস্কৃতি ও আকর্ষণ রয়েছে। স্থানীয় অর্থনীতি পুনরুজ্জীবিত করতে আমি কী করতে পারি, সেটাই দেখতে চেয়েছি।"
চলতি বছরের ১ নভেম্বর পর্যন্ত আকিতার জনসংখ্যা ছিল প্রায় ৮ লাখ ৭৮ হাজার—এক বছরে ১ দশমিক ৯৩ শতাংশ কমেছে, যা দেশটির যেকোনো প্রদেশের মধ্যে সর্বোচ্চ পতন। ৬৫ বছরের বেশি বয়সী মানুষের অনুপাত ৪০ শতাংশ ছাড়িয়েছে, ফলে এই সীমা অতিক্রম করা একমাত্র প্রদেশ হয়েছে আকিতা। ২০৫০ সালে আকিতার জনসংখ্যা নেমে আসবে আনুমানিক ৫ লাখ ৬০ হাজারে—যা বর্তমান জনসংখ্যার মাত্র ৬০ শতাংশের কিছুটা বেশি হবে।
'ইনাকা ট্রাভেল আকিতা' নামে একটি উদ্যোগের মাধ্যমে কাস্টমাইজড ট্যুর ও ফার্মস্টে আয়োজনের পাশাপাশি নাকাদা প্রদেশের হাই স্কুলের শিক্ষার্থীদের জন্য সম্পূর্ণ অর্থায়নে এক বছরের বিদেশে অধ্যয়ন কর্মসূচিও পরিচালনা করছেন। এ বছর তিনি 'কাকুনোদাতে অ্যালায়েন্স' নামে নিজস্ব স্টার্টআপ চালু করেছেন, যা কাকুনোদাতে স্টেশনের কাছের একটি বারের দায়িত্ব নিয়েছে—যাতে শহরে আসা পর্যটকরা আরও কিছুদিন সেখানে অবস্থান করেন।
"আমাদের কাছে আকিতার সামর্থ্য ও সীমাবদ্ধতা—দুটি নিয়েই স্পষ্ট ধারণা আছে, আর একই মূল্যবোধে বিশ্বাসী তরুণদের টানতে আমরা পারদর্শী," বলেন নাকাদা।
২০৫০ সালে এই তরুণ উদ্যোক্তার বয়স হবে প্রায় ৫০। "তখন আমি কোথায় থাকতে চাই—ভাবলে দেখি, আমার ঘাঁটি আকিতাই হবে," তিনি বলেন। "জাপানে সবচেয়ে দ্রুত জনসংখ্যা হারাচ্ছে যে প্রদেশ, সেটাই আকিতা। অর্থাৎ দেশের সামাজিক চ্যালেঞ্জগুলো এখানে সবার আগে চোখে পড়বে।"
ফাঁকা বাড়ি, বার্ধক্যগ্রস্থ প্রতিবেশী
'২০৫০ সমস্যা'—কম জন্মহার, জনসংখ্যা বার্ধক্য ও শ্রমসংকট থেকে উদ্ভূত সামগ্রিক সামাজিক চ্যালেঞ্জ—নিয়ে সচেতনতা বাড়াতে সরকারি-বেসরকারি উভয় পক্ষই কাজ করছে।
গত এক বছরে দাই-ইচি লাইফ রিসার্চ ইনস্টিটিউটও বিষয়টি গভীরভাবে বিশ্লেষণ করেছে। থিঙ্ক ট্যাঙ্কটির প্রধান অর্থনীতিবিদ তাকুয়া হোশিনো বলেন, ২০৫০ সালের দিকে তাকালে জাপানের চিত্র বদলে দেবে এমন কয়েকটি বড় প্রবণতা স্পষ্ট। এর মধ্যে সবচেয়ে জরুরি বিষয় হলো গ্রামীণ এলাকায় জনশূন্যতা।
"বিশেষ করে টোকিওকেন্দ্রিক জনসংখ্যার কেন্দ্রীভবন বহুদিনের প্রবণতা," বলেন হোশিনো। "এর ফলে গ্রামীণ এলাকায় তরুণদের টানতে সমস্যা হয়, পরিবার গঠন কঠিন হয়ে পড়ে, সন্তান জন্মও কমে যায়। এই চক্রটাই গ্রামে জনসংখ্যা হ্রাসকে আরও ত্বরান্বিত করছে।"
তার মতে, বহু পৌরসভা কঠিন বাস্তবতার মুখোমুখি হবে। মৌলিক সরকারি সেবা চালু রাখা কঠিন হয়ে উঠবে। হাসপাতাল, সেবাকেন্দ্র ও বিদ্যালয় বন্ধ হয়ে গেলে জীবনমান ক্ষতিগ্রস্ত হবে; শ্রমঘাটতি ও কর্মীদের বার্ধক্য স্থানীয় প্রশাসনকেই ঝুঁকিতে ফেলতে পারে। সামাজিক বন্ধন দুর্বল হবে, অবকাঠামো জীর্ণ হবে, এমনকি দুর্যোগ মোকাবিলার সক্ষমতাও কমে যেতে পারে।
পৌরসভা একীভূতকরণ ও 'কমপ্যাক্ট সিটি' কৌশল এড়ানো যাবে না, তবে ব্যয় বৃদ্ধি ও স্থানান্তরের বিরোধিতা দেখায়—পতন সামলানো কতটা কঠিন হবে।
একই সঙ্গে শহরগুলোও প্রভাবমুক্ত নয়। "শহরাঞ্চলেও প্রবীণ মানুষের সংখ্যা বাড়ছে, এমনকি সুবিধার খোঁজে যারা শহরে আসছেন, তাদের মধ্যেও," বলেন হোশিনো।
জাপানের সরকারি পূর্বাভাস অনুযায়ী, এককভাবে বসবাসকারী প্রবীণ পরিবারের অনুপাত ২০২০ সালের ১৩ দশমিক ২ শতাংশ থেকে ২০৫০ সালে বেড়ে হবে ২০ দশমিক ৬ শতাংশ। এর প্রায় ৬০ শতাংশই নারী। একা বসবাসকারী প্রবীণ নারীর সংখ্যা এবং শুধু প্রবীণ দম্পতি নিয়ে গঠিত পরিবারের সংখ্যা—উভয়ই দাঁড়াবে প্রায় ৬৩ লাখের কিছু বেশি।
"সামাজিক নিরাপত্তা নিয়ে বিতর্ক সাধারণত টাকাপয়সা ঘিরেই সীমাবদ্ধ থাকে," বলেন হোশিনো। "কিন্তু এখনই সবচেয়ে তাৎক্ষণিক সমস্যা হলো জনবলের ঘাটতি এবং পর্যাপ্ত সেবা সক্ষমতা ধরে রাখতে না পারা।"
কর্মক্ষম জনসংখ্যা নব্বইয়ের দশকের মাঝামাঝি থেকেই কমছে। নারী ও প্রবীণদের কর্মসংস্থান বাড়ায় এতদিন কিছুটা ভারসাম্য ছিল। তবে সেই বাফার বা সুরক্ষাসীমাও শেষের পথে। সামনে শ্রমঘাটতি আরও বাড়বে, স্বয়ংক্রিয়তা, উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধির চাপ এবং বিদেশি কর্মীর ওপর নির্ভরতা বাড়বে—যা নতুন প্রাতিষ্ঠানিক ও সামাজিক চ্যালেঞ্জ আনবে।
হারাচ্ছে দোলনা, নতুন শিশুর মুখ
২০২৬ সালের ১২ জানুয়ারি, ২০ বছর বয়সী সায়া তামাকি 'কামিং অব এজ ডে' উদযাপন করবেন—যদিও ২০২২ সালে জাপানে প্রাপ্তবয়স্ক হওয়ার বয়স আইনগতভাবে ১৮ করা হয়েছে।
১৯৭০ সালে যুদ্ধোত্তর প্রথম বেবি বুমের সময় প্রাপ্তবয়স্কে পৌঁছানো তরুণের সংখ্যা ছিল ২৪ লাখ ৬০ হাজার। ১৯৯৪ সালে তা সাময়িকভাবে বেড়ে ২০ লাখ ৭০ হাজারে পৌঁছালেও পরে আবার ধারাবাহিক পতনে নেমে আসে। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে এই সংখ্যা রেকর্ড সর্বনিম্নে—১০ লাখের সামান্য একটু বেশি।
টোকিওর মেইজি বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী তামাকি তার গবেষণায় লিঙ্গ ও এলজিবিটিকিউ বিষয় নিয়ে কাজ করেন। নিজেকে তিনি অ্যারোমান্টিক অ্যাসেক্সুয়াল হিসেবে পরিচয় দেন এবং সমাজে নারীর ভূমিকা ও সন্তান জন্ম নিয়ে ভাবেন।
"অনেকে বলেন, বেশি নারী কর্মক্ষেত্রে এলে তারা সন্তান না নিয়ে ক্যারিয়ারকেই অগ্রাধিকার দেন," বলেন তামাকি। "কিন্তু এটাকে একক, সার্বজনিক প্রবণতা হিসেবে দেখা অতিরিক্ত সরলীকরণ।"
জাপানের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের এক জরিপে দেখা যায়, ২০২৫ সালের প্রথম ছয় মাসে জন্ম নিয়েছে প্রায় ৩ লাখ ১৯ হাজার শিশু—এক বছর আগের তুলনায় ১০ হাজারেরও বেশি কম। এই হারে চললে বছর শেষে নতুন রেকর্ড সর্বনিম্নে পৌঁছাতে পারে। জাপানের মোট প্রজনন হার ২০২৪ সালে টানা নবমবারের মতো কমে দাঁড়ায় ১ দশমিক ১৫-এ।
জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি, অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা ও প্রজনন চিকিৎসার উচ্চ খরচ—এসব কারণেই সন্তান নেওয়া অনেকের কাছে ঝুঁকিপূর্ণ মনে হয়। জন্মহার কমার ব্যাখ্যা অনেক থাকলেও কিছু মৌলিক বিষয়ে ঐকমত্য রয়েছে: চিকিৎসাবিজ্ঞানের অগ্রগতিতে শিশুমৃত্যু নাটকীয়ভাবে কমেছে; অর্থনৈতিক উন্নয়নে শিশুশ্রম কমে শিক্ষা-প্রাধান্য বেড়েছে; এবং নারীর সামাজিক অংশগ্রহণ বাড়ায় সন্তান জন্মের সামাজিক চাপ কমেছে।
বৈশ্বিক দৃষ্টিকোণ থেকে দেখলে, জনসংখ্যা হ্রাস মানবসমাজের সাফল্যেরই হাত ধরে আসে—এবং একবার এটা শুরু হলে, তা প্রায় অপরিবর্তনীয় বলে মনে করেন জনমিতি বিশারদরা।
'এমপাওয়ার মেইজি' নামে একটি ছাত্র সংগঠনের প্রধান তামাকি বলেন, সরকার শুধু সবাইকে "আরও সন্তান নিতে" বলছে, কিন্তু তাদের উচিৎ এর বদলে—যারা সন্তান নিচে চান, তাদের সহায়তায় মনোযোগ দেওয়া।
"এর মানে হতে পারে আর্থিক সহায়তা," তিনি বলেন, "অথবা সন্তান নিতে আগ্রহী এলজিবিটিকিউ দম্পতিদের জন্য নিরাপদ ও সহজলভ্য সহায়ক প্রজনন প্রযুক্তি সম্প্রসারণ।"
তিনি বলেন, "আমি এমন এক সমাজ চাই, যেখানে যারা সন্তান নিতে চান, তারা যেন সেটা বাস্তবে করতে পারেন।"
'বৃদ্ধ' শব্দের নতুন সংজ্ঞা
১৮ নভেম্বর জনসংখ্যা কৌশল সদর দপ্তরের প্রথম বৈঠকে মন্ত্রিসভার উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি বলেন, "জাপানের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ জনসংখ্যা হ্রাস—এই উপলব্ধি থেকেই লক্ষ্য হলো এমন সমাজ গড়া, যেখানে তরুণ ও নারীসহ সবাই নিজেদের পছন্দের সম্প্রদায়েই বসবাস চালিয়ে যেতে পারেন।"
জন্মহার বর্তমান ধারায় চলতে থাকলে পরিণতি চরম হতে পারে, সতর্ক করছেন বিশেষজ্ঞরা। তোহোকু বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক হিরোশি ইয়োশিদার হিসাব অনুযায়ী, ২৭২০ সালের ৫ জানুয়ারিতে জাপানে ১৪ বছর বা তার কম বয়সী শিশু থাকবে মাত্র একজন।
"জনসংখ্যা হ্রাস নিয়ে আলোচনায় প্রায়ই নারীদের সন্তান জন্মে উৎসাহিত করার দিকেই জোর দেওয়া হয়," বলেন নোমুরা রিসার্চ ইনস্টিটিউটের শিনইচিরো উমেয়া।
তিনি বলেন, "এভাবে বিষয়টি উপস্থাপন করলে দায় নারীদের ওপরই পড়ে যায়। অথচ কারো ব্যক্তিগত সিদ্ধান্তকে জোর করে নিয়ন্ত্রণ করা উচিত নয়।"
উমেয়ার মতে, জন্মহার না বাড়লে পরিকল্পনা কী—তা নিয়েও স্পষ্টতা নেই। জন্মহার পতন একটি বৈশ্বিক প্রবণতা; তবে জাপানে সেটা ২০–৩০ বছর আগেই তীব্রভাবে ঘটছে। যেসব দেশকে 'সাফল্যের উদাহরণ' বলা হয়, সেখানেও জনসংখ্যা বৃদ্ধি মূলত অভিবাসনের ফল—জন্মহারে টেকসই পরিবর্তনের ফলে নয়।
এর ফল অবকাঠামোর ওপর বাড়তি চাপ। জনসংখ্যা কমলে শহর-গ্রামের ভারসাম্য বদলে যায়। কিয়োটো বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক তোমোয়া মোরির সিমুলেশনে দেখা গেছে, সবচেয়ে খারাপ পরিস্থিতিতে ২১২০ সালের মধ্যে জাপানের অর্ধেক শহরই হারিয়ে যেতে পারে।
এই প্রেক্ষাপটে, কর্মক্ষম বয়সসীমা বাড়ানো একটি সম্ভাব্য সমাধান।
জাপানসহ বহু দেশে ৬৫ বছর বা তার বেশি বয়সীদের 'বৃদ্ধ' ধরা হয়—যার উৎস ১৯৫৬ সালের জাতিসংঘ প্রতিবেদন, যখন জাপানের গড় আয়ু ছিল ৬৫। এখন গড় আয়ু ৮০ ছাড়িয়েছে, স্বাস্থ্যসেবাও উন্নত। তাই ৬৫ বছরকে বার্ধক্যের সীমা ধরা আর বৈজ্ঞানিকভাবে যুক্তিসংগত নয়—এমন মত দিচ্ছে জাপানের একাধিক একাডেমিক সংগঠন।
এই বাস্তবতায় উমেয়া ও তার দল কর্মক্ষম বয়সের সংজ্ঞা ১৫–৬৪ থেকে বাড়িয়ে ১৫–৬৯ ধরে নির্ভরশীলতার হার পুনর্গণনা করেছেন। এতে ২০৫০ সালে এই হার দাঁড়ায় ৬৭ দশমিক ৮—২০২০ সালের ৬৮-এর কাছাকাছি।
"অর্থাৎ কর্মক্ষম বয়স পাঁচ বছর বাড়াতে পারলে ২০৫০ সালে নির্ভরশীলতার চাপ আজকের মতোই থাকবে," বলেন উমেয়া।
তবে এতে বিয়ে, সন্তান জন্মদান, অবসর—সব বড় জীবনের ধাপও পেছাতে হবে। পেনশন কাঠামো পুনর্বিবেচনা এবং বয়সজনিত শারীরিক ও মানসিক সীমাবদ্ধতা মোকাবিলায় প্রযুক্তি উন্নয়ন জরুরি।
"অবকাঠামোও বড় চ্যালেঞ্জ," যোগ করেন উমেয়া। "টোকিও বা ফুকুওকার মতো শহরে বর্তমান ব্যবস্থা টিকে থাকতে পারে, কিন্তু অন্যত্র কঠিন সিদ্ধান্ত নিতে হবে—একত্রীকরণ, অগ্রাধিকার নির্ধারণ, এমনকি কোথাও সেবা প্রত্যাহারও।"
এই রূপান্তর সামলাতে প্রযুক্তিই হবে মূল চাবিকাঠি—পানি রিসাইকেল ব্যবস্থা থেকে স্বয়ংক্রিয় যানবাহন পর্যন্ত। অঞ্চলভেদে কৌশলও আলাদা হবে।
"তবে শেষ পর্যন্ত সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো স্থানীয় উদ্যোগ," বলেন উমেয়া। "মানুষ বড় শহরে আরও কেন্দ্রীভূত হতে চাইতে পারে, কিন্তু এর মূল্য দিতে হবে গ্রামাঞ্চলকে। তাই অপেক্ষা না করে আঞ্চলিক কর্তৃপক্ষগুলোকেই নেতৃত্ব নিতে হবে।"
সামনে এগোনোই একমাত্র পথ
সব অনিশ্চয়তার মধ্যেও আজকের তরুণরা ভবিষ্যৎ থেকে মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছে না।
এ বছরের 'কামিং অব এজ ডে'র আগে বিজ্ঞাপন সংস্থা হাকুহোদো ১৮ থেকে ৮৯ বছর বয়সী ৮০০ জনকে জিজ্ঞেস করে—১০০ বছরের জীবনে সুখ মানে কী। যার জবাবে উত্তরদাতাদের মাত্র ৩০ শতাংশ ১০০ বছর বাঁচার ইচ্ছাপোষণ করেন। কিন্তু নতুন প্রাপ্তবয়স্কদের মধ্যে এই হার ছিল অর্ধেকেরও বেশি।
তাদের পার্থক্য ছিল ব্যবস্থার প্রতি আশাবাদে নয়, বরং জীবনের প্রতি দৃষ্টিভঙ্গিতে—এগিয়ে যাওয়ার ইচ্ছা, "অনেক কিছু নিয়ে চেষ্টা করার" আকাঙ্ক্ষা, আর দীর্ঘজীবনে আনন্দ খোঁজার মানসিকতায়।
নিইগাতার সাদো দ্বীপের ২০ বছর বয়সী হিজুকি তানাকা টোকিওতে বার ও রেস্তোরাঁয় কাজ করে নিজের খরচ চালান, পাশাপাশি পড়ছেন চিত্রাঙ্কন ও শিল্পকলা বিষয়ে। ২০৫০ সালের কথা ভাবলে তিনি আশঙ্কা করেন—এআই হয়তো মানবসৃষ্ট নকশা, সৃজনশীলতা ও কারুশিল্পকে কোণঠাসা করবে।
"আমি সত্যিই আশা করি, ২০৫০ সালেও হাতে তৈরি চমৎকার কাজের জন্য জায়গা থাকবে—এবং সেগুলো করা মানুষরা গর্ব ও উদ্যম নিয়ে কাজ করতে পারবেন," তিনি বলেন।
জনসংখ্যা সংকটের মধ্যে বেড়ে ওঠা এই প্রজন্ম তুলনামূলকভাবে সুস্থ জীবনযাপন করছে। তাদের কাছে দীর্ঘায়ু আর ব্যতিক্রম নয়, বরং স্বাভাবিক বাস্তবতা—যা সঠিক সিদ্ধান্তের মাধ্যমে সামলাতে হবে। ভবিষ্যৎ আরামদায়ক বা নিরাপদ হবে—এমন নিশ্চয়তা অবশ্য নেই। তবে তা কখনো ছিলও না।
"আমি এমন একজন ৪৫ বছর বয়সী হতে চাই, যে সত্য ও সহানুভূতির সঙ্গে বাস্তবতার মুখোমুখি হবে," বলেন তানাকা, যিনি জানুয়ারিতে ২১ বছরে পা দেবেন। "যে মানুষের সঙ্গে সম্পর্ককে মূল্য দেয় এবং সোজাসাপ্টা, আন্তরিকভাবে পৃথিবীর সঙ্গে যুক্ত থাকে।"
