৯০ শতাংশ কম খরচে হাইপারসনিক ক্ষেপণাস্ত্র উৎপাদন করছে চীনের বেসরকারি কোম্পানি
দুনিয়ার প্রথম বেসামরিক প্রতিষ্ঠান হিসেবে কম খরচে উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন হাইপারসনিক ক্ষেপণাস্ত্রের গণউৎপাদন শুরু করেছে চীনের একটি বেসরকারি এয়ারোস্পেস কোম্পানি—যা সামরিক প্রযুক্তি ও প্রতিরক্ষা শিল্পের শক্তির ভারসাম্যে বড় ধরনের পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে।
গতকাল মঙ্গলবার বেইজিংভিত্তিক লিংকং তিয়ানশিং টেকনোলজি তাদের সরকারি সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাকাউন্টে একটি ভিডিও প্রকাশ করে। সেখানে দেখা যায়, ওয়াইকেজে–১০০০ হাইপারসনিক ক্ষেপণাস্ত্র আকাশে উড়ছে এবং মরুভূমির একটি বাস্তব লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানছে।
কোম্পানির একজন প্রতিনিধি জানান, এই ক্ষেপণাস্ত্র ইতিমধ্যেই গণউৎপাদনে গেছে এবং এর উৎপাদন ব্যয় প্রচলিত ক্ষেপণাস্ত্রের তুলনায় মাত্র দশভাগের একভাগ।
ওয়াইকেজে–১০০০ ক্ষেপণাস্ত্রের পাল্লা ৫০০ থেকে ১,৩০০ কিলোমিটার, গতিবেগ শব্দগতির ৫ থেকে ৭ গুণ (মাক ৫–৭) এবং এটি ছয় মিনিট ধরে পাওয়ারড ফ্লাইট ধরে রাখতে সক্ষম।
এর উৎক্ষেপণ–যান বা লঞ্চার দেখতে সাধারণ শিপিং কনটেইনারের মতো করে ডিজাইন করা হয়েছে। ভিডিওতে দেখা যায়, একটি ট্রাক কনটেইনারটিকে মরুভূমির উৎক্ষেপণস্থলে নিয়ে যায়, এরপর কনটেইনারের চার কোণা থেকে স্বয়ংক্রিয়ভাবে স্টেবিলাইজার সাপোর্ট বের হয়ে আসে।
অ্যানিমেটেড ফুটেজে আরও দেখা গেছে, ক্ষেপণাস্ত্রটি মাঝপথে লক্ষ্যের অবস্থান শনাক্ত করতে পারে এবং স্বয়ংক্রিয়ভাবে হুমকি এড়িয়ে যেতে পারে। শত্রুপক্ষের পাল্টা প্রতিরোধকারী ক্ষেপণাস্ত্র হচ্ছে এই ধরনের হুমকি। এই সক্ষমতা থাকা ইঙ্গিত করে, এটি বিমানবাহী রণতরী সজ্জিত শত্রুর নৌবহরের (ক্যারিয়ার স্ট্রাইক গ্রুপ) বা আধুনিক আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার মতো প্রতিরক্ষা বলয়ও ভেদ করতে পারে।
