‘৩০০ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ বৃষ্টি’ থাইল্যান্ডে, বন্যায় বিপর্যস্ত দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া
থাইল্যান্ডের বেশকিছু অঞ্চল রেকর্ড বন্যার সঙ্গে লড়াই করছে। গত এক সপ্তাহে দেশের দক্ষিণাঞ্চলের ১০টি প্রদেশে এই বন্যা আঘাত হানে।
ব্যাপক বৃষ্টিপাত থেকে সৃষ্ট এ বন্যায় এখন পর্যন্ত অন্তত ৩৩ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। উদ্ধার ও ত্রাণ সহায়তায় নৌবাহিনীর জাহাজ ও হেলিকপ্টার মোতায়েন করেছে কর্তৃপক্ষ।
মালয়েশিয়া সীমান্তসংলগ্ন বাণিজ্যিক নগরী হাত ইয়াইয়ে ৩০০ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ বৃষ্টিপাত রেকর্ড হয়েছে—একদিনে ৩৩৫ মিলিমিটার।
শহরের অনেক রাস্তা, যানবাহন ও ঘরবাড়ি পানিতে ডুবে গেছে। বহু বাসিন্দা আশ্রয় নিয়েছেন ঘরের ছাদের ওপর, উদ্ধারের অপেক্ষায় রয়েছেন তারা।
বিরতিহীন বৃষ্টির প্রভাব পড়েছে প্রতিবেশী দেশগুলোতেও। ভিয়েতনামে গত এক সপ্তাহে মৃতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৯৮–এ। মালয়েশিয়ায় ১৯ হাজারের বেশি মানুষ ঘরবাড়ি ছেড়ে আশ্রয়কেন্দ্রে যেতে বাধ্য হয়েছেন।
ইন্দোনেশিয়ার উত্তর সুমাত্রায় ভূমিধসে অন্তত ১৯ জন নিহত হয়েছেন এবং আরও কমপক্ষে সাতজন এখনো মাটিচাপা অবস্থায় রয়েছেন বলে জানিয়েছে দেশটির জাতীয় অনুসন্ধান ও উদ্ধার সংস্থা।
থাইল্যান্ডে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের সংখ্যা ২০ লাখের বেশি হলেও আশ্রয়কেন্দ্রে নেওয়া হয়েছে মাত্র ১৩ হাজারকে। রয়টার্স জানিয়েছে, বন্যাকবলিত অঞ্চলের অধিকাংশ মানুষই বিচ্ছিন্ন অবস্থায় রয়েছেন এবং প্রয়োজনীয় সহায়তা পাচ্ছেন না।
সংকট মোকাবিলায় থাই সেনাবাহিনী জানিয়েছে, একটি বিমানবাহী রণতরী ও ত্রাণসামগ্রী বহনকারী ১৪টি নৌযান পাঠানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে তারা। সঙ্গে থাকবে ফিল্ড কিচেন—যা প্রতিদিন প্রায় ৩ হাজার মানুষের খাবার সরবরাহ করতে সক্ষম। প্রয়োজন হলে রণতরীটিকে 'ভাসমান হাসপাতাল' হিসেবেও ব্যবহারের প্রস্তুতি রয়েছে।
হাত ইয়াইয়ের সংখলা প্রদেশের গভর্নর জানান, নৌকা, হাই-ক্লিয়ারেন্স ট্রাক ও জেট স্কি ব্যবহার করে আটকে পড়া মানুষদের সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে।
মঙ্গলবার মন্ত্রিসভা সংখলাকে দুর্যোগ অঞ্চল ঘোষণা করেছে, যাতে ত্রাণতহবিল ব্যবহারের প্রক্রিয়া সহজ হয়।
তবে পানির উচ্চতা বাড়তে থাকায় অনেক মানুষ এখনো আটকে রয়েছেন।
স্বেচ্ছাসেবী উদ্ধার সংস্থা ম্যাচিমা রেসকিউ সেন্টার জানিয়েছে, গত তিন দিনে হাজারের বেশি ফোনকল পেয়েছে তারা—যাদের বেশিরভাগই উদ্ধারের আবেদন জানাচ্ছেন।
মানুষজন ম্যাচিমার ফেসবুক পেজেও সাহায্যের আবেদন করছেন। একজন লিখেছেন, "অনেক মানুষ আটকে আছে… দয়া করে সাহায্য করুন।" তিনি আরও জানান, "পরিস্থিতি খুব কঠিন। পানি দ্বিতীয় তলায় পৌঁছে গেছে, সেখানে শিশু, বয়স্ক, অসুস্থ ও প্রতিবন্ধী মানুষ আছে।"
আরেকজন লিখেছেন, তার পরিবার তিন দিন ধরে সাহায্যের অপেক্ষায় আছে: "এখন প্রতিটা সেকেন্ড খুব গুরুত্বপূর্ণ… দয়া করে পোস্টটি ছড়িয়ে দিন। আমার ফোনের চার্জ ৪০%।"
বহু মানুষ জানিয়েছেন, তারা কয়েক দিন ধরে খাবার ও পানি ছাড়াই আটকে আছেন।
মালয়েশিয়ায় ১৯ হাজারের বেশি মানুষকে নিরাপদে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। দেশটির উত্তর সীমান্তবর্তী এলাকায় ১২৬টি আশ্রয়কেন্দ্র খুলেছে সরকার।
কেলান্তান ও পারলিস রাজ্যে হাঁটুসমান পানির মধ্য দিয়ে উদ্ধারকর্মীরা বাসিন্দাদের সরিয়ে নিচ্ছেন। বাড়তে থাকা পানিতে বহু স্থানের সড়ক যোগাযোগ ইতোমধ্যে বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে।
দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় বছরের এই সময়ে মৌসুমি ভারী বৃষ্টি স্বাভাবিক হলেও এবার বন্যার মাত্রা অস্বাভাবিকভাবে বেশি বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।
