প্রথম ওষুধ প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠান হিসেবে ট্রিলিয়ন-ডলার ক্লাবে নাম লেখাল এলি লিলি
ওজন কমানোর ওষুধের অভূতপূর্ব সাফল্যের জোরে ১ ট্রিলিয়ন ডলার বাজারমূল্যের মাইলফলক স্পর্শ করেছে যুক্তরাষ্ট্রের ওষুধ প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠান এলি লিলি। প্রযুক্তি খাতের প্রভাবশালী কোম্পানিগুলোর একচেটিয়া দলে প্রথমবারের মতো কোনো ওষুধ প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠান হিসেবে এই ক্লাবে নাম লেখাল তারা।
চলতি বছরে এলি লিলির শেয়ারদর বেড়েছে ৩৫ শতাংশেরও বেশি। ওজন কমানোর ওষুধের বৈশ্বিক বাজারে চাহিদা দ্রুত বাড়ায় কোম্পানির বাজারমূল্যও শক্ত অবস্থান নেয়। গত শুক্রবার প্রতিষ্ঠানটি ১ ট্রিলিয়ন ডলারের ক্লাবে প্রবেশ করে।
একসময় স্থূলতা চিকিৎসাকে বিশেষায়িত ক্ষেত্র মনে করা হলেও এখন এটি বিশ্বজুড়ে স্বাস্থ্যসেবা খাতের অন্যতম লাভজনক বিভাগে পরিণত হয়েছে। প্রথমদিকে এ বাজারে ডেনমার্কের নভো নরডিস্ক এগিয়ে থাকলেও, এলি লিলির স্থূলতা প্রতিরোধী ওষুধ মৌনজারো ও জেপবাউন্ড দ্রুত জনপ্রিয়তা পাওয়ায় প্রেসক্রিপশনের দিক থেকে কোম্পানিটি তার প্রতিদ্বন্দ্বীদের চেয়ে এগিয়ে গেছে।
গত সোমবার কোম্পানির শেয়ারদর ১.৩ শতাংশ বেড়ে রেকর্ড ১,০৫৭.৭০ ডলারে পৌঁছে।
২০২৩ সালের শেষের দিকে জেপবাউন্ড বাজারে আসার পর থেকে লিলির শেয়ারের দাম বেড়েছে ৭৫ শতাংশের বেশি।
সর্বশেষ প্রকাশিত ত্রৈমাসিকে লিলি স্থূলতা ও ডায়াবেটিসসংক্রান্ত পণ্য থেকে আয় করেছে ১০.০৯ বিলিয়ন ডলার, যা তাদের মোট ১৭ দশমিক ৬ বিলিয়ন ডলার আয়ের অর্ধেকেরও বেশি।
ওয়াল স্ট্রিটের পূর্বাভাস অনুযায়ী, ২০৩০ সালের মধ্যে ওজন কমানোর ওষুধের বৈশ্বিক বাজার ১৫০ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছাতে পারে। এর বেশিরভাগ বিক্রি নিয়ন্ত্রণ করবে এলি লিলি ও নভো নরডিস্ক।
ওজন কমানোর ওষুধের দাম কমাতে হোয়াইট হাউসের সঙ্গে সাম্প্রতিক চুক্তি এবং উৎপাদন বাড়ানোর পরিকল্পনা এলি লিলির ধারাবাহিক প্রবৃদ্ধির জন্য ইতিবাচক হিসেবে দেখা হচ্ছে। বিশ্লেষকদের মতে, এসব উদ্যোগ ভবিষ্যৎ বাজারে কোম্পানিটির অবস্থান আরও শক্ত করবে।
বিনিয়োগকারীরা এখন লিলির আরেক স্থূলতা প্রতিরোধী ওষুধ 'ওরফরগ্লিপ্রন'-এর দিকে নজর রাখছেন, যা আগামী বছরের শুরুর দিকেই অনুমোদন পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
