‘অজ্ঞান’ আছেন মুজতবা খামেনি, কোম শহরে চলছে চিকিৎসা: মার্কিন-ইসরায়েলি গোয়েন্দা রিপোর্ট
ইরানের নবনিযুক্ত সর্বোচ্চ নেতা মুজতবা খামেনি বর্তমানে শারীরিক ও মানসিকভাবে কাজ করার ক্ষমতা হারিয়েছেন এবং পবিত্র নগরী কোমে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। একটি গোয়েন্দা মূল্যায়নের ভিত্তিতে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম 'দ্য টাইমস' এ তথ্য জানিয়েছে। ওই রিপোর্টে ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে যে, তিনি বর্তমানে দেশ পরিচালনা করার অবস্থায় নেই।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলি গোয়েন্দা তথ্যের ওপর ভিত্তি করে তৈরি এবং উপসাগরীয় মিত্রদের সঙ্গে শেয়ার করা একটি কূটনৈতিক মেমোতে বলা হয়েছে, নিহত সাবেক নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির ছেলে মুজতবা বর্তমানে 'অচেতন' এবং তার শারীরিক অবস্থা অত্যন্ত 'সংকটজনক'।
দ্য টাইমসের দেখা ওই মেমোতে প্রথমবারের মতো ইরানের সর্বোচ্চ নেতার অবস্থান প্রকাশ করা হয়েছে। তেহরান থেকে ৮৭ মাইল দক্ষিণে অবস্থিত এই কোম শহরটি শিয়া ইসলামে অত্যন্ত পবিত্র স্থান হিসেবে বিবেচিত। মেমোতে বলা হয়েছে, 'মুজতবা খামেনি কোমে চিকিৎসাধীন এবং তার অবস্থা অত্যন্ত গুরুতর। তিনি বর্তমান প্রশাসনের কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়ার প্রক্রিয়ায় অংশ নিতে পারছেন না।'
গোয়েন্দা সূত্রের খবর অনুযায়ী, শিয়া ধর্মীয় ক্ষমতার কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত কোমে বড় ধরনের একটি সমাধি বা মাজার নির্মাণের প্রাথমিক কাজ শনাক্ত করেছে গোয়েন্দা সংস্থাগুলো। সেখানে 'একের অধিক কবরের' ব্যবস্থা রাখা হচ্ছে। এতে ধারণা করা হচ্ছে, সাবেক সর্বোচ্চ নেতার পাশে তার পরিবারের অন্যান্য সদস্য—এবং সম্ভবত মুজতবা খামেনিকেও দাফন করার প্রস্তুতি রাখা হচ্ছে।
তরুণ খামেনির অবস্থান সম্পর্কে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলি গোয়েন্দা সংস্থাগুলো আগে থেকেই জানত বলে মনে করা হলেও, এই প্রথম তা জনসমক্ষে এল। এ বিষয়ে মার্কিন ন্যাশনাল সিকিউরিটি এজেন্সি এবং ওয়াশিংটনে অবস্থিত ইরানি রিপ্রেজেন্টেটিভের (পাকিস্তানি দূতাবাসে অবস্থিত) সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।
ইরান নিশ্চিত করেছে যে, যুদ্ধের প্রথম দিনে যে বিমান হামলায় তাঁর বাবা, মা, স্ত্রী জোহরা হাদ্দাদ-আদেল এবং এক ছেলে নিহত হন, সেই একই হামলায় নতুন এ সর্বোচ্চ নেতাও আহত হয়েছিলেন। মার্চ মাসের শুরুতে বাবার উত্তরসূরি হিসেবে মনোনীত হওয়ার পর থেকে তাকে প্রকাশ্যে দেখা যায়নি বা তার কণ্ঠস্বরও শোনা যায়নি।
এরপর থেকে ৫৬ বছর বয়সী খামেনির নামে দুটি বিবৃতি সরকারি টেলিভিশনে পড়ে শোনানো হয়েছে। গত সোমবার একটি এআই বা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা দিয়ে তৈরি ভিডিও প্রকাশ করা হয়, যেখানে তাকে একটি 'ওয়ার রুমে' বসে ইসরায়েলের ডিমোনা পারমাণবিক কেন্দ্রের মানচিত্র বিশ্লেষণ করতে দেখা যায়। তার নিজের কণ্ঠস্বরে কোনো অডিও না থাকা এই জল্পনাকে আরও জোরালো করেছে যে তিনি সত্যিই সংকটাপন্ন অবস্থায় আছেন।
ইরানি কর্মকর্তারা দাবি করছেন যে নতুন এই নেতা দেশ পরিচালনার দায়িত্বে আছেন। তবে বিরোধী শক্তিগুলো দাবি করছে, তিনি হাসপাতালে কোমায় রয়েছেন। অন্যান্য সূত্র থেকে তার পা ভেঙে যাওয়া এবং মুখে আঘাত পাওয়ার খবরও এসেছে।
তার এই শারীরিক অক্ষমতা এমন একটি দেশে বড় প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে যেখানে 'সুপ্রিম লিডার' বা সর্বোচ্চ নেতা হলেন চূড়ান্ত রাজনৈতিক ও ধর্মীয় কর্তৃপক্ষ। এর ফলে ধারণা করা হচ্ছে, ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) বর্তমানে দেশটির প্রকৃত ক্ষমতা দখল করে রেখেছে এবং খামেনি কেবল একজন 'পুতুল' বা নামমাত্র প্রধান হিসেবে কাজ করছেন।
প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প দাবি করেছেন যে তিনি অন্যান্য ইরানি কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনা করছেন, তবে তিনি স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন যে তিনি সর্বোচ্চ নেতার সঙ্গে কোনো যোগাযোগ করছেন না।
এর আগে খবর এসেছিল যে, ৮৬ বছর বয়সে নিহত আলী খামেনিকে তার নিজ শহর উত্তর-পূর্ব ইরানের মাশহাদ শহরের একটি মাজারে দাফন করা হবে। যদিও তেহরানে শোক সভার কথা শোনা গিয়েছিল, তবে এখন পর্যন্ত এর কোনো নির্দিষ্ট তারিখ ঘোষণা করা হয়নি।
