যুক্তরাষ্ট্রে ভুল ঠিকানায় যাওয়া পরিচ্ছন্নতাকর্মীকে গুলি করে হত্যা
ঠিকানা ভুল করে অন্য এক বাড়ির দরজায় হাজির হয়েছিলেন এক নারী পরিচ্ছন্নতাকর্মী, আর তাতেই ঘটলো বিপর্যয়। যুক্তরাষ্ট্রের ইন্ডিয়ানা রাজ্যে বাড়ির মালিকের গুলিতে তার প্রাণ হারানোর অভিযোগ পাওয়া গিয়েছে। এই ঘটনায় বাড়ির মালিকের বিরুদ্ধে কোনো ফৌজদারি অভিযোগ আনা হবে কি না, তা নিয়ে তদন্ত শুরু করেছে মার্কিন কর্তৃপক্ষ।
ইন্ডিয়ানাপোলিসের শহরতলি হোয়াইটস্টাউনের ওই বাড়িতে অনধিকার প্রবেশের খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে ছুটে গিয়েছিল। বুধবার ভোরের এই ঘটনার পর তারা ঘটনাস্থলে সেই পরিচ্ছন্নতাকর্মী মারিয়া ফ্লোরিন্ডা রিওস পেরেজকে তার স্বামীর কোলে নিথর অবস্থায় উদ্ধার করে। তবে পুলিশের প্রাথমিক ধারণা, নিহত মারিয়া বা তার স্বামী কেউই বাড়ির ভেতরে ঢোকার কোনো চেষ্টা করেননি।
এই হত্যাকাণ্ডের তদন্তভার এখন বুন কাউন্টি প্রসিকিউটর অফিসের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে। তারাই সবদিক খতিয়ে দেখে সিদ্ধান্ত নেবে যে বাড়ির মালিকের বিরুদ্ধে মামলা করা হবে কি না।
শুক্রবার পুলিশ এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, এটি একটি 'জটিল, সংবেদনশীল এবং চলমান মামলা'। তাই এই মুহূর্তে গুলি চালানো ব্যক্তির পরিচয় প্রকাশ করা 'অনুচিত এবং বিপজ্জনক' হতে পারে। একইসাথে, এই ঘটনা নিয়ে অনলাইনে নানা গুজব ছড়ানোর বিষয়েও তারা সতর্ক করেছে এবং সবাইকে ধৈর্য ধরার জন্য অনুরোধ করেছে।
নিহত ৩২ বছর বয়সী মারিয়ার শোকে মুহ্যমান স্বামী মরিসিও ভেলাজকুয়েজ স্ত্রীর জন্য ন্যায়বিচার চেয়ে আকুতি জানিয়েছেন। জানা গেছে, গুয়াতেমালার নাগরিক এই দম্পতির চারটি সন্তান রয়েছে।
এক সাক্ষাৎকারে ভেলাজকুয়েজ জানান, একটি গুলি সটান দরজা ফুঁড়ে বেরিয়ে এসে তার স্ত্রীর গায়ে লাগে। তিনি বলেন, 'কোনো কিছু না বুঝেই এভাবে গুলি না করে তাদের উচিত ছিল প্রথমে পুলিশকে খবর দেওয়া।'
বুন কাউন্টি প্রসিকিউটর কেন্ট ইস্টউড জানিয়েছেন, রাজ্যের 'স্ট্যান্ড-ইয়োর-গ্রাউন্ড' আইনের প্যাঁচেই মামলাটি জটিল হয়ে উঠেছে। এই আইন অনুযায়ী, কোনো ব্যক্তি যদি মনে করেন তার জীবন বা শরীর গুরুতর বিপদের মুখে, তবে তিনি আত্মরক্ষার জন্য চূড়ান্ত ব্যবস্থা, এমনকি গুলিও চালাতে পারেন।
যুক্তরাষ্ট্রে এমন মর্মান্তিক ঘটনা এটাই প্রথম নয়। গত বছরই মিসৌরিতে ভুল বাড়ির দরজায় বেল বাজানোর অপরাধে র্যালফ ইয়ার্ল নামে এক কিশোরকে দুইবার গুলি করা হয়েছিল। একইভাবে, নিউইয়র্কে ভুল ড্রাইভওয়েতে গাড়ি নিয়ে ঢুকে পড়ায় কাইলিন গিলিস নামে এক তরুণী গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা যান, যে ঘটনায় বাড়ির মালিকের ২৫ বছরের জেল হয়েছে।
