করাচিতে কনস্যুলেটে হামলা: বিক্ষোভকারীদের ওপর গুলি চালিয়েছে মার্কিন মেরিন সদস্যরা
গত সপ্তাহের শেষে করাচিতে অবস্থিত যুক্তরাষ্ট্রের কুনস্যুলেটে হামলার সময় মার্কিন মেরিন সদস্যরা বিক্ষোভকারীদের ওপর গুলি চালিয়েছে বলে সোমবার দুইজন মার্কিন কর্মকর্তা জানিয়েছেন। কোনো কূটনৈতিক মিশনে মার্কিন বাহিনীর এই ধরণের বলপ্রয়োগের ঘটনা বিরল, যা ইরানের নেতাকে হত্যার প্রতিবাদে উত্তাল হয়ে ওঠা দেশটিতে উত্তেজনা আরও তীব্র করতে পারে।
ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলায় নিহত হওয়ার পর রোববার বিক্ষোভকারীরা মার্কিন কনস্যুলেটের বাইরের দেয়াল ভেঙে ভেতরে প্রবেশের চেষ্টা করলে ১০ জন নিহত হন।
প্রাথমিক তথ্যের বরাত দিয়ে ওই দুইজন মার্কিন কর্মকর্তা বলেন, মেরিনদের ছোড়া গুলিতে কেউ আঘাতপ্রাপ্ত বা নিহত হয়েছে কি না তা এখনো স্পষ্ট নয়। এছাড়া মিশনের সুরক্ষায় নিয়োজিত বেসরকারি নিরাপত্তা রক্ষী বা স্থানীয় পুলিশও গুলি চালিয়েছিল কি না, সে সম্পর্কেও তারা কিছু জানেন না।
মার্কিন কর্মকর্তাদের পক্ষ থেকে এটিই প্রথম নিশ্চিতকরণ যে বিক্ষোভকারীদের ওপর গুলি চালানোর ঘটনায় মেরিনরা সরাসরি জড়িত ছিলেন।
প্রাদেশিক সরকারের মুখপাত্র সুখদেব আসরদাস হেমমানি বলেন, 'নিরাপত্তা' কর্মীরা গুলি চালিয়েছেন, তবে তারা কোন বাহিনীর সদস্য তা তিনি নির্দিষ্ট করে বলেননি।
সাধারণত যুক্তরাষ্ট্রের কূটনৈতিক মিশনগুলোর দৈনন্দিন নিরাপত্তা কার্যক্রম পরিচালনা করে বেসরকারি ঠিকাদার ও স্থানীয় নিরাপত্তা বাহিনী। এই ঘটনায় মেরিন সদস্যদের সরাসরি জড়িত হওয়া এটিই প্রমাণ করে যে, কনসুলেট কর্তৃপক্ষ এই হুমকিকে কতটা গুরুত্বের সাথে দেখেছিল।
ইরানের পর পাকিস্তান বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম শিয়া ধর্মাবলম্বীদের আবাসস্থল। সোমবার পাকিস্তান সরকার দেশজুড়ে বড় ধরনের জনসমাবেশ নিষিদ্ধ করেছে। ইরানের ওপর হামলার প্রতিবাদে শুরু হওয়া বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ায় এ পর্যন্ত দেশজুড়ে ২৬ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে।
রোববার কনস্যুলেটের বাইরে বিক্ষোভকারীদের 'আমেরিকা ধ্বংস হোক! ইসরায়েল ধ্বংস হোক!' স্লোগান দিতে শোনা যায়। সেখানে রয়টার্সের সাংবাদিকরা গুলির শব্দ শুনেছেন এবং আশেপাশের রাস্তায় টিয়ার গ্যাস নিক্ষেপ করতে দেখেছেন।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, অন্তত একজন বিক্ষোভকারী কনস্যুলেটের দিকে অস্ত্র তাক করে গুলি চালাচ্ছেন। একই সঙ্গে রক্তাক্ত বিক্ষোভকারীদের গুলির শব্দের মধ্যে পালিয়ে যেতে দেখা গেছে।
করাচি পুলিশের একজন কর্মকর্তা রয়টার্সকে জানান, গুলিগুলো কনসুলেটের ভেতর থেকেই চালানো হয়েছিল।
মার্কিন মেরিন কর্তৃপক্ষ এই বিষয়ে প্রশ্নগুলো মার্কিন সামরিক বাহিনীর কাছে পাঠিয়েছে, যারা আবার প্রশ্নগুলো স্টেট ডিপার্টমেন্ট বা পররাষ্ট্র দপ্তরের কাছে পাঠিয়েছে। স্টেট ডিপার্টমেন্ট এই বিষয়ে মন্তব্যের অনুরোধে কোনো সাড়া দেয়নি।
দেশব্যাপী জনসমাবেশ নিষিদ্ধ থাকা সত্ত্বেও শিয়া সম্প্রদায়ের নেতারা লাহোর ও করাচিতে আরও বিক্ষোভের ডাক দিয়েছেন। পাকিস্তানে মার্কিন দূতাবাস রাজধানী ইসলামাবাদে অবস্থিত এবং করাচি ছাড়াও লাহোর ও পেশোয়ারে আরও দুটি কনস্যুলেট রয়েছে।
করাচিতে মার্কিন কনস্যুলেটের দিকে যাওয়ার রাস্তাগুলো বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে এবং এলাকায় ব্যাপক পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। লাহোর এবং ইসলামাবাদের মার্কিন মিশনগুলোর আশেপাশেও একই ধরণের সতর্কতামূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।
