এখনো মার্কিন কর্মীদের চাকরি ব্যাপক পরিসরে দখল করেনি এআই: গবেষণা
বাজারে এসেছে একের পর এক অত্যাধুনিক সব কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, যা লাগানো যাচ্ছে উদ্ভাবনী নানান কাজে। শুরুটা হয়েছিল চ্যাটজিপিটির হাত ধরে, তখন থেকেই আশঙ্কা ছিল এআই মানব কর্মীদের ব্যাপকভাবে প্রতিস্থাপন করবে। আর উন্নত বিশ্বের তথ্যপ্রযুক্তি নির্ভরতার কার্বনে এই ভয়টা সবচেয়ে বেশি ছিল সেখানেই, বিশেষত যুক্তরাষ্ট্রে।
তবে চ্যাটজিপিটি চালুর পর থেকে দেশটির শ্রমবাজারে যে ব্যাপক অস্থিরতা দেখা দেবে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছিল, বাস্তবে এখনো তা ঘটেনি—ইয়েল বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি গবেষণা কেন্দ্রের নতুন সমীক্ষায় এমন তথ্য উঠে এসেছে।
এই গবেষণা এসেছে এমন এক সময়ে, যখন জেনারেটিভ আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স—যা চ্যাটজিপিটির মূল প্রযুক্তি—দ্রুত বিস্তার লাভ করছে এবং যুক্তরাষ্ট্রের বহু কোম্পানি খরচ কমাতে ক্রমবর্ধমান হারে এআই ও স্বয়ংক্রিয়তার ওপর নির্ভর করছে। ফলে বহু চাকরি ঝুঁকিতে পড়ার উদ্বেগ রয়েই গেছে।
চ্যাটজিপিটি এমন এক প্রযুক্তির ওপর দাঁড়িয়ে তৈরি, যা ব্যবহারকারীর নির্দেশে নতুন লেখা, ছবি বা অন্যান্য কনটেন্ট তৈরি করতে পারে। গবেষকরা চ্যাটজিপিটি চালুর পর থেকে অর্থনীতির বিভিন্ন খাতে কর্মী বণ্টনে কী পরিবর্তন এসেছে, তা পর্যালোচনা করেছেন।
গবেষণায় বলা হয়, "যেহেতু আমরা জেনারেটিভ এআই জনসমক্ষে উন্মুক্ত হওয়ার পর থেকে শ্রমবাজারের তথ্য বিশ্লেষণ করেছি, তাই যাচাই করা সম্ভব হয়েছে—এআই আসলেই কি শ্রমিকদের এক কাজ থেকে আরেক কাজে ঠেলে দিচ্ছে, কর্মী ছাঁটাই ঘটাচ্ছে, নাকি নতুন চাকরি তৈরি করছে।"
গতকাল বুধবার বাজেট ল্যাব প্রকাশিত গবেষণায় আরও বলা হয়, "আমাদের সূচকগুলো দেখাচ্ছে যে চ্যাটজিপিটি চালুর ৩৩ মাস পরও শ্রমবাজারে কোনো সুস্পষ্ট ধাক্কা বা বিপর্যয় দেখা যায়নি। এআই স্বয়ংক্রিয়তা এখনো অর্থনীতিতে বুদ্ধিবৃত্তিক শ্রমের চাহিদা নষ্ট করছে—এমন আশঙ্কা আপাতত অমূলক।"
তবে গবেষকরা সতর্ক করেছেন যে জেনারেটিভ এআই ব্যবহার এখনো প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে। তাঁদের বিশ্লেষণ ভবিষ্যতের পূর্বাভাস নয়। তাঁরা শুধু প্রতি মাসের হালনাগাদ তথ্য পর্যবেক্ষণের মাধ্যমে কর্মসংস্থান খাতে এআইয়ের কর্মসংস্থানের প্রভাব মূল্যায়নের পরিকল্পনা করছেন।
এর আগে, গত মে মাসে অ্যানথ্রপিক নামের শীর্ষস্থানীয় এক এআই ল্যাবের প্রধান নির্বাহী সতর্ক করেছিলেন যে, এআই একসময় নাটকীয় হারে বেকারত্ব বাড়াবে। জানুয়ারিতে সেলসফোর্সের সিইও মার্ক বেনিওফ বলেছিলেন, আজকের কোম্পানি প্রধানরা আসলে শেষ প্রজন্ম, যারা পুরোপুরি মানবনির্ভর কর্মী বাহিনী পরিচালনা করছেন।
যদিও নতুন গবেষণা বলছে, এআই এখনো সামগ্রিক শ্রমবাজারে তেমন প্রভাব ফেলছে না, তবে কিছু নির্দিষ্ট কোম্পানি এর সম্ভাবনা বিবেচনা করে বড় ধরনের কর্মীসংকোচন ঘটিয়েছে। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ফাইল স্টোরেজ সেবা ড্রপবক্স এবং ভাষাশিক্ষা অ্যাপ ডুওলিঙ্গোর মতো প্রতিষ্ঠান এআইকে ছাঁটাইয়ের অন্যতম কারণ হিসেবে উল্লেখ করেছে। জানুয়ারির এক জরিপে দেখা গেছে, বিশ্বব্যাপী অনেক নিয়োগকর্তা কর্মীসংখ্যা কমানোর পরিকল্পনা করছেন, যেহেতু এআই এখন কিছু কাজ করে ফেলতে পারছে।
কিন্তু একই সঙ্গে এআইয়ের সীমাবদ্ধতাও স্পষ্ট হয়ে উঠছে। বরং এমনও দেখা যাচ্ছে, এআই যে কাজ তৈরি করছে, সেটি যাচাই করতে মানুষকে বাড়তি পরিশ্রম করতে হচ্ছে।
ম্যাসাচুসেটস ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজির (এমআইটি) সাম্প্রতিক এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এআই ব্যবহার শুরু করা ৯৫ শতাংশ কোম্পানি আসলে এর মাধ্যমে কোনো মুনাফা করছে না।
এর একটি বড় কারণ হলো, অনেক কর্মী এআই টুল ব্যবহার করে নিম্নমানের, কেবল বাহ্যিকভাবে "ভালো দেখায়" এমন কাজ তৈরি করছেন, যেকারণে সহকর্মীদের তা সংশোধনের জন্য আরও কাজ করতে হচ্ছে। হার্ভার্ড বিজনেস রিভিউ-এর ভাষায়, এই ঘটনাকে বলা হচ্ছে "ওয়ার্কস্লপ"।
