চাইলে রাশিয়ার কাছ থেকে সব ভূখণ্ডই ফিরে পেতে পারে ইউক্রেন: ট্রাম্প
রাশিয়া–ইউক্রেন যুদ্ধ নিয়ে ফের সুর বদলেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি বলেছেন, ইউক্রেন চাইলে যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর দখলকৃত সব ভূখণ্ডই ফিরে পেতে পারে।
জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে ভাষণ দেওয়ার পর মঙ্গলবার নিউইয়র্কে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির সঙ্গে বৈঠক শেষে ট্রাম্প নিজের প্ল্যাটফর্ম ট্রুথ সোশ্যাল-এ লিখেছেন, ইউরোপ ও ন্যাটোর সমর্থনে এবং রাশিয়ার অর্থনৈতিক সংকটকে কাজে লাগিয়ে, ২০২২ সালে যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে রাশিয়া যে সমস্ত অঞ্চল দখল করেছে, কিয়েভ তা পুনরুদ্ধার করতে পারবে।
ট্রাম্প এতদিন ধরে যুদ্ধ শেষ করার কথা বললেও সব সময়ই ইঙ্গিত দিয়েছিলেন, তার সমাধান সম্ভবত ভূখণ্ড সমঝোতার মধ্য দিয়েই আসবে। জেলেনস্কি সেই প্রস্তাব বারবার প্রত্যাখ্যান করেছিলেন।
পোস্টে ট্রাম্প আরও লিখেছেন, ইউক্রেন 'সম্ভবত এর চেয়েও বেশি কিছু অর্জন করতে পারে', যদিও সুনির্দিষ্ট কিছু বলেননি।
ক্রিমিয়ার প্রসঙ্গ তিনি এড়িয়ে গেছেন। ২০১৪ সালে অঞ্চলটি দখল করে রাশিয়া যুক্ত করে নিলেও ২০২২ সালের পূর্ণমাত্রার আগ্রাসনের পর সেটি ইউক্রেনের বড় রাজনৈতিক প্রশ্নে পরিণত হয়েছে।
পোস্টে ট্রাম্প বলেছেন, 'ইউক্রেন–রাশিয়ার সামরিক ও অর্থনৈতিক বাস্তবতা বোঝার পর আমি সিদ্ধান্তে পৌঁছেছি। রাশিয়া এখন গুরুতর অর্থনৈতিক সমস্যায় আছে—এটাই ইউক্রেনের জন্য পদক্ষেপ নেওয়ার সময়।'
জেলেনস্কি এ অবস্থান পরিবর্তনকে 'বড় অগ্রগতি' বলে মন্তব্য করেন। জাতিসংঘ ভবনে সাংবাদিকদের তিনি জানান, যুদ্ধ শেষে যুক্তরাষ্ট্র ইউক্রেনকে নিরাপত্তা নিশ্চয়তা দিতে প্রস্তুত বলে ইঙ্গিত দিয়েছে। তবে এর বিস্তারিত এখনো স্পষ্ট নয়। তার মতে, এর মধ্যে নতুন অস্ত্র, আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ও ড্রোন সরবরাহ থাকতে পারে।
ফক্স নিউজকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে জেলেনস্কি বলেন, ট্রাম্পের হঠাৎ মন্তব্যে তিনি বিস্মিত হলেও এটিকে ইতিবাচক সংকেত হিসেবে দেখছেন। তার ভাষায়, 'আমি মনে করি, যুক্তরাষ্ট্র ও ট্রাম্প যুদ্ধের শেষ পর্যন্ত আমাদের পাশে থাকবে।'
জাতিসংঘে ভাষণের পর ট্রাম্প আরও বলেন, রাশিয়ার যুদ্ধবিমান যদি ন্যাটোর আকাশসীমা লঙ্ঘন করে, তবে সেটি ভূপাতিত করা উচিত। সম্প্রতি এস্তোনিয়া, পোল্যান্ড ও রোমানিয়ার আকাশসীমায় রাশিয়ার ফাইটার জেট ও ড্রোন প্রবেশের অভিযোগ উঠেছে।
ঘটনার পর ন্যাটো কঠোর বিবৃতি দিয়ে রাশিয়ার কর্মকাণ্ডকে 'উস্কানিমূলক ও বিপজ্জনক' আখ্যা দিয়েছে এবং প্রয়োজনে নিজেদের নিরাপত্তায় সব ধরনের সামরিক ও অসামরিক ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছে। ন্যাটো মহাসচিব মার্ক রুটে বলেন, 'আমরা প্রতিরক্ষামূলক জোট, তবে সরল নই। আমরা জানি কী হচ্ছে।'
পোল্যান্ডের প্রেসিডেন্ট কারোল নাভরকি জাতিসংঘে বলেন, মধ্য ও পূর্ব ইউরোপ রাশিয়ান ড্রোন দেখে ভয় পাবে না, প্রয়োজনে যথাযথ জবাব দেবে।
তবে রাশিয়া এস্তোনিয়ার আকাশসীমা লঙ্ঘনের অভিযোগ অস্বীকার করেছে এবং পোল্যান্ডের ঘটনাকে 'অনিচ্ছাকৃত' দাবি করেছে।
ন্যাটো মিত্ররা যদি রাশিয়ান বিমান ভূপাতিত করে, যুক্তরাষ্ট্র সেই সিদ্ধান্তে পাশে থাকবে কি না—প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প বলেন, 'তা পরিস্থিতির ওপর নির্ভর করবে।' তবে তিনি ন্যাটোর প্রতিরক্ষা ব্যয় বাড়ানোর পদক্ষেপের প্রশংসা করেন।
বিশ্লেষকদের মতে, এ বক্তব্য আবারও প্রমাণ করে যে পররাষ্ট্রনীতিতে ট্রাম্পের কৌশল অনিশ্চিত ও অপ্রত্যাশিত। এ বছরের শুরুতে তিনি সরাসরি জেলেনস্কিকে বলেছিলেন, রাশিয়ার সঙ্গে দীর্ঘ যুদ্ধে ইউক্রেনের 'কার্ড নেই'। এমনকি আগস্টে আলাস্কায় পুতিনের সঙ্গে বৈঠকের আগে ইউক্রেনকে কিছু ভূখণ্ড ছেড়ে দেওয়ার সম্ভাবনার কথাও তুলেছিলেন।
তবে সর্বশেষ পোস্টে তিনি ইঙ্গিত দিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্র ন্যাটোর কাছে অস্ত্র বিক্রি অব্যাহত রাখবে—যা পরে ইউক্রেনকে সহায়তা করতে পারে। যদিও এটি পূর্ববর্তী প্রশাসনের মতো খোলা সমর্থন নয়, কিন্তু এ বছরের শুরুতে ট্রাম্পের অবস্থান থেকে এটি যে অনেকটা ভিন্ন, তা স্পষ্ট।
