ফেডারেল রিজার্ভের গভর্নরকে বরখাস্ত করছেন ট্রাম্প, মার্কিন ইতিহাসে নজিরবিহীন

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ফেডারেল রিজার্ভের কর্মকর্তা লিসা কুককে অবিলম্বে তার পদ থেকে বরখাস্তের ঘোষণা দিয়েছেন। যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সঙ্গে তার চলমান দ্বন্দ্বে এই পদক্ষেপ পরিস্থিতিকে আরও উত্তপ্ত করে তুলেছে।
ট্রাম্প বলেছেন, মর্টগেজ চুক্তিতে লিসা কুক মিথ্যা তথ্য দিয়েছেন বলে বিশ্বাস করার 'যথেষ্ট কারণ' রয়েছে। সাংবিধানিক ক্ষমতার কথা উল্লেখ করে মার্কিন প্রেসিডেন্ট বলেন, এই ক্ষমতাবলে তিনি কুককে অপসারণ করতে পারেন।
এর জবাবে কুক বলেছেন, তাকে বরখাস্ত করার কোনো এখতিয়ার ট্রাম্পের নেই এবং তিনি পদত্যাগ করবেন না।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের কোনো সদস্যকে প্রেসিডেন্টের বরখাস্ত করার ঘটনা নজিরবিহীন। এমন এক সময়ে এই ঘটনা ঘটল, যখন ট্রাম্প সুদহার না কমানোর অভিযোগে ফেডের ওপর, বিশেষ করে এর চেয়ারম্যান জেরোম পাওয়েলের ওপর ক্রমাগত চাপ সৃষ্টি করে চলেছেন।
ট্রাম্পের এই সিদ্ধান্তে আইনি প্রশ্ন ওঠার সম্ভাবনা রয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, কুককে বরখাস্ত করার পেছনে যে যথেষ্ট কারণ ছিল, তা হোয়াইট হাউসকে প্রমাণ করতে হবে—সম্ভবত আদালতেই।
'আইনত কোনো কারণ না থাকা সত্ত্বেও প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প "কারণ দেখিয়ে" আমাকে বরখাস্ত করার ভান করছেন, যদিও এটা করার কোনো এখতিয়ার তার নেই,' এক বিবৃতিতে বলেছেন কুক।
তিনি আরও বলেন, 'আমি পদত্যাগ করব না। আমি যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতির সেবায় নিজ দায়িত্ব পালন করে যাব, ২০২২ সাল থেকে যেমনটা করে আসছি।'
কুকের আইনজীবী অ্যাবে ডেভিড লোয়েল বলেন, 'ট্রাম্পের এই বেআইনি পদক্ষেপ ঠেকানোর জন্য যা যা করা দরকার, আমরা তা-ই করব।'
ফেডারেল রিজার্ভ প্রেসিডেন্টের এই ঘোষণার বিষয়ে এখনও কোনো মন্তব্য করেনি। সোমবার গভীর রাতে নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম 'ট্রুথ সোশ্যালে' তিনি এই ঘোষণা দেন।
তিনি কুকের উদ্দেশে লেখা একটি চিঠি পোস্ট করেন। এতে তাকে ব্যাংকের বোর্ড অব গভর্নরস থেকে অবিলম্বে অপসারণের সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়।
ট্রাম্প এর আগেও একাধিকবার পাওয়েলকে বরখাস্ত করার সম্ভাবনার কথা বলেছেন।
কুক ফেডারেল রিজার্ভের বোর্ড অব গভর্নরসের সাত সদস্যের একজন এবং এই পদে দায়িত্ব পালনকারী প্রথম আফ্রিকান-আমেরিকান নারী।
ট্রাম্পের চিঠি অনুযায়ী, কুক এক নথিতে সই করে মিশিগানের একটি সম্পত্তিকে আগামী এক বছরের জন্য তার মূল বাসস্থান হিসেবে উল্লেখ করেন।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট বলেন, 'এর দুই সপ্তাহ পরেই আপনি জর্জিয়ার একটি সম্পত্তির জন্য আরেকটি নথিতে সই করেন, যেখানে বলা হয় সেটিই হবে আপনার আগামী এক বছরের মূল বাসস্থান।'
তিনি লিখেছেন, 'এটা অকল্পনীয় যে দ্বিতীয় প্রতিশ্রুতি দেওয়ার সময় আপনি আপনার প্রথম প্রতিশ্রুতির কথা জানতেন না।'
মর্টগেজ জালিয়াতির এই অভিযোগে গত সপ্তাহেই কুকের পদত্যাগ দাবি করেছিলেন ট্রাম্প। অভিযোগটি প্রথম প্রকাশ্যে আনেন হাউজিং ফাইন্যান্স নিয়ন্ত্রক ও ট্রাম্পের মিত্র বিল পাল্টে, অ্যাটর্নি জেনারেল প্যাম বন্ডির কাছে লেখা এক চিঠিতে।
ওই নিয়ন্ত্রক চিঠিটিকে একটি 'ফৌজদারি সুপারিশ'হিসেবে উল্লেখ করে বিচার বিভাগকে তদন্তের আহ্বান জানান। তদন্ত শুরু হয়েছে কি না, তা জানা যায়নি।
গত সপ্তাহে বিবিসিকে দেওয়া এক বিবৃতিতে কুক বলেছিলেন, তিনি গণমাধ্যমের কাছ থেকে এই অভিযোগের কথা জানতে পারেন। বিষয়টি কেন্দ্রীয় ব্যাংকে যোগ দেওয়ারও চার বছর আগের একটি মর্টগেজ লোনের আবেদন সংক্রান্ত বলেন জানান তিনি।
কুক বলেন, 'টুইটারে তোলা কিছু প্রশ্নের কারণে ভয় পেয়ে পদত্যাগ করার কোনো ইচ্ছে আমার নেই।'
যদি কুক বা ফেড ট্রাম্পের এই অপসারণের সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করে, তবে কেন্দ্রীয় ব্যাংক ও হোয়াইট হাউসের মধ্যে অচলাবস্থা তৈরি হতে পারে। উল্লেখ্য, ১৯৫১ সালে ফেড মার্কিন সরকার থেকে স্বাধীন হয়ে যায়।
পাওয়েলের প্রতি তার ক্রমবর্ধমান অসন্তোষ প্রকাশ করে তাকে 'নির্বোধ' ও 'একগুঁয়ে মূর্খ' বলে অভিহিত করেছেন ট্রাম্প। দ্রুত ও বড় আকারে সুদহার কমানোর আহ্বানকে সমর্থন করেননি বলে এভাবে তার সমালোচনা করেন প্রেসিডেন্ট।
অবশ্য গত সপ্তাহে পাওয়েল সেপ্টেম্বরে সুদহার কমানোর সম্ভাবনাকে জোরালো করেছেন।