যে কারণে অমিতাভ ঘোষের পরবর্তী পাণ্ডুলিপি পড়তে আরও ৮৯ বছর অপেক্ষা করতে হবে
যে লেখা এ বছর, এ দশক, এমনকি এই শতাব্দীতেও পড়া যাবে না। ভারতীয় লেখক অমিতাভ ঘোষের নতুন পাণ্ডুলিপি পড়তে অপেক্ষা করতে হবে আরও ৮৯ বছর।
তার লেখাটি যুক্ত হতে যাচ্ছে 'ফিউচার লাইব্রেরি' প্রকল্পে, আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন লেখকদের পাণ্ডুলিপির একটি ক্রমবর্ধমান সংগ্রহের সঙ্গে।
মার্গারেট অ্যাটউড, হান কাং, ওশান ভুয়ংসহ খ্যাতনামা লেখকেরা ইতোমধ্যে এই প্রকল্পে গোপন পাণ্ডুলিপি জমা দিয়েছেন। ঘোষের লেখাসহ সব পাণ্ডুলিপিই ২১১৪ সাল পর্যন্ত সংরক্ষণে রাখা হবে।
নরওয়ের রাজধানী অসলোতে ডাইকমান বিয়রভিকা পাবলিক লাইব্রেরির বিশেষ এক কক্ষে এই পাণ্ডুলিপিগুলো সংরক্ষিত রয়েছে। প্রকল্পের শেষে সব লেখা একত্র করে বই আকারে প্রকাশ করা হবে। মুদ্রণের জন্য ব্যবহার হবে নর্ডমারকার 'ফিউচার লাইব্রেরি' বনে ২০১৪ সালে রোপণ করা এক হাজার স্প্রুস গাছের কাগজ। বনটি তৈরি করেছিলেন প্রকল্পটির উদ্যোক্তা কেটি প্যাটারসন।
'দ্য সার্কেল অব রিজন' ও 'সি অব পপিজ'-এর লেখক অমিতাভ ঘোষ বলেন, ফিউচার লাইব্রেরি প্রকল্পে যুক্ত হওয়ার আমন্ত্রণ পাওয়া তার কাছে ছিল 'গভীর শ্রদ্ধা ও বিনম্র আস্থার বহিঃপ্রকাশ'।
৬৮ বছর বয়সী ভারতীয় ঔপন্যাসিক অমিতাভ ঘোষ তার লেখায় সাম্রাজ্য, অভিবাসন ও পরিবেশগত পরিবর্তনের ইতিহাসকে ফুটিয়ে তুলেছেন। জলবায়ু পরিবর্তন নিয়ে নিয়মিত লেখালেখি করেন তিনি। গঙ্গার বদ্বীপজুড়ে বিস্তৃত সুন্দরবনকে কেন্দ্র করেই লেখা তার উপন্যাস দ্য হাংরি টাইড, জঙ্গলনামা ও গান আইল্যান্ড।
তিনি বলেন, 'প্রকল্পটির কেন্দ্রে একটি বন থাকা আমার জন্য বিশেষ অর্থবহ। বহুদিন ধরে আমি বিশাল ম্যানগ্রোভ সুন্দরবন নিয়ে কাজ করেছি।'
'বৈশ্বিক সংকটের এই সময়ে উত্তর মেরুর বন আর গ্রীষ্মমণ্ডলের বনকে যুক্ত করা হবে রোমাঞ্চকর এক চ্যালেঞ্জ। এমন এক বিশাল উদ্যোগের অংশ হতে পেরে আমি আবেগাপ্লুত, যেখানে পরিবেশ, সাহিত্য আর ধৈর্য একসঙ্গে মিলে গেছে,' বলেন তিনি।
অমিতাভ ঘোষের শৈশব কেটেছে ভারত, বাংলাদেশ ও শ্রীলঙ্কায়। অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয় থেকে তিনি সামাজিক নৃতত্ত্বে পিএইচডি করেছেন। উপন্যাসের পাশাপাশি লিখেছেন নন-ফিকশন ও প্রবন্ধগ্রন্থ। পেয়েছেন জ্ঞানপীঠ, পদ্মশ্রী ও ড্যান ডেভিডের মতো গুরুত্বপূর্ণ সম্মাননা।
প্রকল্পটির উদ্যোক্তা কেটি প্যাটারসন বলেন, 'ঘোষের লেখনী মহাসাগর ও শতাব্দী পেরিয়ে দেখায় জলবায়ু সংকট কীভাবে সাম্রাজ্য, অভিবাসন ও পুরাণের ইতিহাসের সঙ্গে অঙ্গাঙ্গিভাবে জড়িত। অন্তরঙ্গ বিষয়কে বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটের সঙ্গে এবং দৃশ্যমানকে অদৃশ্যের সঙ্গে যুক্ত করার বিরল ক্ষমতা রয়েছে ঘোষের।'
অমিতাভ ঘোষ আগামী বছর মে বা জুনে নরওয়ের 'ফিউচার লাইব্রেরি' বনে এক অনুষ্ঠানে তার পাণ্ডুলিপি জমা দেবেন। সেখানেই জানানো হবে লেখাটির শিরোনাম।
অ্যাটউড, হান কাং ও ভুয়ং ছাড়াও প্রকল্পে অংশ নিয়েছেন ডেভিড মিচেল, এলিফ শাফাক, কার্ল ওভে নাউসগার্ড, সিতসি ডানগারেম্বগা, জুডিথ শালানস্কি, ভ্যালেরিয়া লুইসেলি ও টমি অরেঞ্জ।
২০২২ সালের জুনে অসলো সিটি করপোরেশন এক চুক্তি সই করে, যাতে প্রকল্প চলাকালীন বনটি 'ফিউচার লাইব্রেরি ট্রাস্ট'-এর অধীনে থাকবে বলে নিশ্চিত করা হয়।
