শুল্কবিরতি বাড়াতে ফের আলোচনায় যুক্তরাষ্ট্র-চীন, প্রশস্ত হতে পারে ট্রাম্প-শি বৈঠকের পথ
বিশ্বের দুই শীর্ষ অর্থনীতির মধ্যে চলমান বাণিজ্য যুদ্ধের জটিলতা নিরসনে ও একে-অন্যের ওপর নতুন করে চড়া হারে শুল্ক আরোপ এড়াতে আবারও আলোচনায় বসছেন যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের শীর্ষ অর্থনৈতিক কর্মকর্তারা। আজ সোমবার (২৯ জুলাই) সুইডেনের রাজধানী স্টকহোমে এই আলোচনা হবে বলে একটি সূত্র রয়টার্সকে নিশ্চিত করেছে।
স্টকহোমের কেন্দ্রস্থলে সুইডিশ প্রধানমন্ত্রীর দপ্তর 'রোসেনবাদ'-এ স্থানীয় সময় বিকেলে শুরু হবে এই উচ্চপর্যায়ের বৈঠক। সকাল থেকেই এই ভবনে উত্তোলন করা হয়েছে যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের জাতীয় পতাকা, যা আলোচনার তাৎপর্য তুলে ধরছে।
আগামী ১২ আগস্ট পর্যন্ত চীনকে সময়সীমা বেঁধে দিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন। তার আগেই চীনকে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে একটি কার্যকর চুক্তিতে পৌঁছাতে হবে। মে ও জুন মাসে উভয় দেশের প্রাথমিক সমঝোতার ধারাবাহিকতায় এ ডেডলাইন দেয় ওয়াশিংটন। কিন্তু, চুক্তি না হলে, চীনের রপ্তানির ওপর তিন অংকের হারে শুল্ক আরোপ করে কার্যত দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যিক নিষেধাজ্ঞা জারি করতে পারে যুক্তরাষ্ট্র, যা বৈশ্বিক সরবরাহ শৃঙ্খলে ফের বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করবে।
স্টকহোমে এই আলোচনার ঠিক আগেই ট্রাম্প ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) সঙ্গে সবচেয়ে বড় বাণিজ্য চুক্তি করেছেন, যার আওতায় যুক্তরাষ্ট্রে ইউরোপীয় পণ্যের (গাড়িসহ) উপর গড়ে ১৫ শতাংশ শুল্ক নির্ধারণ করা হয়েছে।
তবে বিশ্লেষকরা বলছেন, চীন-যুক্তরাষ্ট্র আলোচনায় এমন নাটকীয় অগ্রগতি না হলেও, অন্তত ৯০ দিনের জন্য চলমান 'ট্যারিফ ট্রুস' বা শুল্ক বিরতির সময়সীমা বাড়ানোর সম্ভাবনা রয়েছে। এই বিরতি ট্রাম্প ও শি জিনপিংয়ের মধ্যে অক্টোবর-নভেম্বরে সম্ভাব্য বৈঠক আয়োজনের ক্ষেত্র প্রস্তুতে সহায়ক হবে।
যুক্তরাষ্ট্র ইতোমধ্যে চীনের ওপর খাতভিত্তিক নতুন শুল্ক আরোপের প্রস্তুতি নিয়েছে, যা আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে কার্যকর হতে পারে। এতে সেমিকন্ডাক্টর, ওষুধ, বন্দর-পর্যন্ত পণ্য পরিবহনের ক্রেনসহ বেশকিছু খাতের পণ্য অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
রোববার ইইউয়ের সঙ্গে চুক্তির আগে ট্রাম্প সাংবাদিকদের বলেন, "আমরা চীনের সঙ্গে একটি চুক্তির কাছাকাছি। আসলে অনেকটা চুক্তিই হয়ে গেছে, এখন শুধু দেখা যাক সেটা কতটা কার্যকর হয়।"
প্রভাবশালী ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম 'ফিন্যানশিয়াল টাইমস' জানায়, চীনের সঙ্গে বাণিজ্য আলোচনায় যেন বিঘ্ন না ঘটে এবং ট্রাম্প-শি বৈঠক যেন সফল হয়— সে লক্ষ্যে যুক্তরাষ্ট্র আপাতত প্রযুক্তি রপ্তানি নিয়ন্ত্রণ স্থগিত রেখেছে। মার্কিন বাণিজ্য বিভাগের ইন্ডাস্ট্রি অ্যান্ড সিকিউরিটি ব্যুরোকে চীনবিরোধী কঠোর সিদ্ধান্ত না নেয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলেও জানিয়েছে সংবাদমাধ্যমটি।
ট্রাম্প-শি বৈঠক হতে পারে অক্টোবরেই
আলোচনার পেছনে আরেকটি বড় প্রেক্ষাপট হলো, অক্টোবরে ট্রাম্প ও শি জিনপিংয়ের সম্ভাব্য শীর্ষ বৈঠক। ট্রাম্প জানিয়েছেন, চীন সফরের বিষয়ে তিনি শিগগিরই সিদ্ধান্ত নেবেন।
বেইজিংয়ের 'সিংহুয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের সেন্টার ফর ইন্টারন্যাশনাল সিকিউরিটি অ্যান্ড স্ট্র্যাটেজির' ফেলো সান চেংহাও বলেন, "এই বৈঠক চীনের ওপর ফেন্টানিল সংশ্লিষ্ট ২০ শতাংশ শুল্ক কমানোর সুযোগ এনে দিতে পারে। বিনিময়ে চীন ২০২০ সালের প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী যুক্তরাষ্ট্র থেকে কৃষিপণ্যসহ বিভিন্ন পণ্য ক্রয় বাড়াতে পারে।"
তবে বিশ্লেষকরা বলছেন, চীন এই আলোচনায় যুক্তরাষ্ট্রের বহিস্তরীয় ৫৫ শতাংশ শুল্ক হ্রাস এবং হাইটেক পণ্য রপ্তানি নিয়ন্ত্রণে ছাড় দেওয়ার দাবি তুলে ধরবে। বেইজিংয়ের মতে, এসব পদক্ষেপ যুক্তরাষ্ট্রের চীনের সঙ্গে বিপুল বাণিজ্য ঘাটতি কমাতেও সহায়ক হবে।
