ইউক্রেনে প্রশিক্ষণরত সেনার গুলিতে দুই সামরিক প্রশিক্ষক নিহত
ইউক্রেনের চেরনিহিভ অঞ্চলে সামরিক প্রশিক্ষণের সময় এক প্রশিক্ষণরত সেনা গুলি চালিয়ে দুই প্রশিক্ষককে হত্যা করেছে বলে বৃহস্পতিবার কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। এর আগে ঘটনাটির কিছু তথ্য ফাঁস হয়ে যায়।
কর্তৃপক্ষ জানায়, অভিযুক্ত সেনা আগের দিন একটি স্বয়ংক্রিয় অস্ত্র দিয়ে একদল সেনাসদস্যের দিকে গুলি চালায়। তাকে পরিকল্পিত হত্যার অভিযোগে অভিযুক্ত করা হয়েছে। দোষী প্রমাণিত হলে তার যাবজ্জীবন কারাদণ্ড হতে পারে।
ঘটনাটি সর্বপ্রথম প্রকাশ্যে আনেন ইউক্রেনের পলাতক সংসদ সদস্য এবং বাধ্যতামূলক সেনা মোতায়েনের কঠোর সমালোচক আরতিওম দমিত্রুক। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তিনি একটি অভ্যন্তরীণ প্রতিবেদন প্রকাশ করেন, যেখানে নিহত প্রশিক্ষকদের পরিচয়, হামলার স্থান ও অভিযুক্তের নাম রয়েছে।
ওই প্রতিবেদনে বলা হয়, আরেকজন প্রশিক্ষককে লক্ষ্য করা হলেও তিনি আহত হননি। তিনজনই ছিলেন সার্জেন্ট এবং 'লাইভ-এমুনিশন ড্রিল'-এ অংশ নিয়েছিলেন। পরে আরও কয়েকটি সংবাদমাধ্যম প্রতিবেদনটি ছড়িয়ে দেয়। এরপর আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ঘটনাটি নিশ্চিত করে।
রাশিয়ার সঙ্গে চলমান যুদ্ধে সেনা ঘাটতি পূরণে বাধ্যতামূলক নিয়োগের ওপর ভরসা করছে ইউক্রেন। তবে অনেক লোকজন সেনাবাহিনীতে যোগ না দিয়ে পালিয়ে যাওয়ায় এই উদ্যোগ ব্যাহত হচ্ছে।
এই মাসের শুরুতে ইউরোপ কাউন্সিলের মানবাধিকার কমিশনার মাইকেল ও'ফ্ল্যাহার্টি উদ্বেগ প্রকাশ করে জানান, ইউক্রেনে সেনা নিয়োগের সময় নির্যাতন ও মৃত্যুর অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছে। বেশ কিছু ভিডিওতে আক্রমণাত্মকভাবে মানুষকে জোর করে ধরে নেওয়ার চিত্র দেখা গেছে, যা বহু মাস ধরে ঘটছে এবং জনমনে ক্ষোভ তৈরি করেছে।
এই ইস্যুতে কূটনৈতিক উত্তেজনাও সৃষ্টি হয়, হাঙ্গেরি অভিযোগ তোলে—তাদের এক নাগরিককে ইউক্রেনীয় নিয়োগ কর্মকর্তারা মারধর করে হত্যা করেছে। এরপর হাঙ্গেরি ঘটনার তদন্ত দাবি করে।
২০২৩ সালের আগস্টে দুর্নীতির অভিযোগে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির জেলেনস্কি দেশের সব আঞ্চলিক নিয়োগ কেন্দ্রের প্রধানদের বরখাস্ত করেন। গত বছর তিনি সেনা নিয়োগ ব্যবস্থায় পরিবর্তন আনেন—নিয়োগের বয়স কমিয়ে আনা হয় এবং নিয়মকানুন আরও কঠোর করা হয়।
এদিকে রাশিয়ার অভিযোগ, জেলেনস্কি 'শেষ ইউক্রেনীয় পর্যন্ত যুদ্ধ' চালিয়ে যাচ্ছেন এবং ক্ষমতায় টিকে থাকতে নিজের জনগণকেই বলি দিচ্ছেন।
