ইউরোপের সবচেয়ে দামী কোম্পানি হিসেবে নাম লেখালো ওজন-হ্রাসকারী ওষুধের নির্মাতা ‘ওয়েগোভি’

ফরাসী বিলাসবহুল বহুজাতিক কোম্পানি এলভিএমএইচ'কে পেছনে ফেলে ইউরোপের সবচেয়ে দামী ফার্ম এখন ওজন-হ্রাসকারী ওষুধ নির্মাতা 'ওয়েগোভি'। খবর বিবিসির।
ড্যানিশ ফার্মাসিউটিক্যাল জায়ান্ট নভো নরডিস্ক যুক্তরাজ্যে জনপ্রিয় ওষুধটি চালু করার পর তাদের শেয়ারের দাম বেড়েছে।
সোমবার ট্রেডিং শেষ হওয়ার সময়, ফার্মটির স্টক মার্কেটের মূল্য ছিল ৪২৮ বিলিয়ন ডলার।
ওষুধটি এখন যুক্তরাজ্যের পাবলিক হেলথ কেয়ার সিস্টেমসহ প্রাইভেট মার্কেটেও পাওয়া যাচ্ছে।
স্থূলত্বের চিকিৎসায় ব্যবহৃত ওয়েগোভি সপ্তাহে একবার করে নিতে হয়। এ ওষুধ গ্রহণকারী ব্যক্তির মনে হতে থাকে যে সে ভরপেট আছে। এতে করে সে খায় কম, ফলে কমতে থাকে ওজন।
ইলন মাস্কের মতো বিখ্যাত ব্যক্তিত্বরা এ ওষুধের ব্যবহারকারীর তালিকায় রয়েছেন বলে জানা গেছে। ২০২১ সালে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে নিয়ন্ত্রকদের অনুমোদন পাওয়ার পর থেকে হলিউডের পাশাপাশি সাধারণ মানুষের মধ্যেও ওষুধটির জনপ্রিয়তা বেড়েছে।
ওয়েগোভি এবং ডায়াবেটিসের চিকিৎসায় ব্যবহৃত ওজেম্পিক'কে (এ ওষুধের প্রতিক্রিয়াও একই ধাঁচের) 'অলৌকিক' ওষুধ হিসেবে উল্লেখ করা হয়।
তবে বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন, এ ওষুধগুলো স্বাস্থ্যকর ডায়েট এবং ব্যায়ামের বিকল্প নয়।
বিভিন্ন পরীক্ষায় দেখা গেছে, ব্যবহারকারীরা এসব ওষুধ নেওয়া বন্ধ করলে আবারও ওজন বাড়তে থাকে।
ওষুধগুলোর বিশ্বব্যাপী ঘাটতি থাকায় এগুলো সীমিত স্টকে যুক্তরাজ্যের ন্যাশনাল হেলথ সিস্টেম (এনএইচএস) এর জন্য এসেছে।
যুক্তরাজ্যে এনএইচএস'র নির্দেশিকা অনুযায়ী, রোগীরা সেমাগ্লুটাইড-সমৃদ্ধ ওয়েগোভি শুধুমাত্রই তখনই নিতে পারবেন যদি তাদের ওজন উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি হয় এবং ওজন-সম্পর্কিত স্বাস্থ্যগত সমস্যা থাকে।
অর্গানাইজেশন ফর ইকোনমিক কো-অপারেশন অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট (ওইসিডি) অনুসারে, যুক্তরাজ্যে প্রতি তিনজনের মধ্যে একজন প্রাপ্তবয়স্ক স্থূল, যা ইউরোপে সর্বোচ্চ।
গত মাসে একটি নতুন পরীক্ষায় দেখা গেছে, ওয়েগোভি স্ট্রোক বা হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকিও কমাতে পারে।
যদিও এ পরীক্ষার ফলাফলগুলি এখনও সম্পূর্ণভাবে পর্যালোচনার মধ্য দিয়ে যায়নি, বিশেষজ্ঞরা একমত যে ফলাফলগুলো বেশ তাৎপর্যপূর্ণ।