আরাফাতের দিনে রেকর্ড সংখ্যক হাজীর অংশগ্রহণ, সমাপ্তির পথে ১৪৪৪ হিজরির হজ
চলতি বছর হজ পালন করছেন ২০ লাখের বেশি ইসলাম ধর্মালম্বী। হাজীদের সংখ্যার দিক থেকে যা গড়েছে নতুন রেকর্ড। মঙ্গলবার হাজীরা (সৌদি সময়) ওঠেন আরাফাত পাহাড়ে। মহামারির পর বৃহত্তম হজ এর মধ্যে দিয়েই সমাপ্তির দিকে এগোয়।
সূর্যোদয়ের সঙ্গে সঙ্গেই মিনায় তাঁবুতে অবস্থানকারী হাজীরা ফজরের নামাজ আদায় করেন। এরপর কোরআনের আয়াত তিলাওয়াত করতে করতে রওনা দেন আরাফাতের পাহাড়ের দিকে। ১,৪০০ বছর আগে মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা:) এই পাহাড়ে দাঁড়িয়ে বিদায় হজের ভাষণ দিয়েছিলেন।
ইসলামের পাঁচ স্তম্ভের একটি হজ, আরাফাত পর্বতে হাজীদের আরোহন হজের আমলগুলোর অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ অঙ্গ। আর্থিকভাবে স্বচ্ছল ও শারীরিকভাবে সক্ষম হাজীদের জন্য জীবনের এক অনন্য অভিজ্ঞতা। আরাফাতে সমবেত হওয়া যারা প্রথমবারের মতো হজ পালন করছেন, তাদের আধ্যাত্মিক মানসপটে গভীর ছাপ ফেলে।
জিলহজ মাসের ৯ তারিখ, আরাফাতের দিন – হজের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিন। কোনও হজ পালনকারী যদি এইদিনে অনুপস্থিত থাকেন, তাহলে তার হজপালন সম্পন্ন হয় না।
আরাফাতে আরোহন শুরুর তথ্য তুলে ধরে সৌদির হজ ও ওমরাহ বিষয়ক মন্ত্রণালয় জানায়, এদিন সকাল ১০টা নাগাদই খালি হয়ে যায় মিনায় গড়ে তোলা তাবুর শহর। হাজীদের পরিবহনে প্রস্তুত প্রায় ২০ হাজার বাস তাদের নিয়ে আরাফাতের উদ্দেশ্যে রওনা দেয়। আবার অনেকে হেঁটেও রওনা দেন।
মন্ত্রণালয়ের বিবৃতিতে বলা হয়, "নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী হাজীদের সহজে তাদের গন্তব্য পৌঁছে দেওয়া হয়েছে।"
জার্মানি থেকে আসা সিরিয় অভিবাসী মেহমেত তোকমাক আরব নিউজকে বলেন, "আরাফাতে উপস্থিত হওয়া আমার জীবনের সবচেয়ে মহত্তম অভিজ্ঞতা। খুব তরুণ বয়সেই হজ করছি, এখানে আসতে পেরে খুবই ভালো লাগছে। কর্তৃপক্ষের বন্দোবস্ত বেশ ভালো।"
আরাফাতের ময়দানে অবস্থান করে যোহর ও আসরের নামাজ আদায় করেন হজ পালনকারীরা। 'এরপর নির্ধারিত পরিকল্পনা অনুযায়ী তাদের মুজদালিফার উদ্দেশ্যে পাঠানোর বন্দোবস্ত করা হয়'।
বুধবার (সৌদি সময়) মিনায় ফিরে আসবেন হজ পালনকারীরা। মিনায় এসে বড় শয়তানকে পাথর মারা, কোরবানি ও মাথা মুণ্ডন বা চুল ছেঁটে মক্কায় কাবা শরিফ তাওয়াফ করবেন। তাওয়াফ শেষে মিনায় ফিরে গিয়ে ১১ ও ১২ জিলহজ অবস্থান ও প্রতিদিন তিনটি শয়তানকে পাথর নিক্ষেপ করবেন।
এদিকে তাপমাত্রা ৪৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস হওয়ায়, সৌদি সরকার হাজিদের স্বাস্থ্য সুরক্ষায় বিশেষ ব্যবস্থা নিয়েছে। প্রচণ্ড তাপে অনেকে প্রচণ্ড ক্লান্ত হয়ে যান, কারো কারো হিটস্ট্রোকও হতে পারে – এজন্য হাজার হাজার স্বাস্থ্য কর্মীকে প্রস্তুত রাখা হয়েছে।
