Skip to main content
  • অর্থনীতি
  • বাংলাদেশ
  • আন্তর্জাতিক
  • খেলা
  • বিনোদন
  • ফিচার
  • ইজেল
  • মতামত
  • অফবিট
  • সারাদেশ
  • কর্পোরেট
  • চাকরি
  • প্রবাস
  • English
The Business Standard বাংলা

কেওক্রাডং যাওয়া তার জন্য কঠিন ছিল, এখন তার ছাত্ররা যাচ্ছেন হিমালয়ের চূড়ায়

সবার ছোট মহি। তাই পরিবারে সে কিছুটা বেশিই প্রশ্রয় পেত। পাহাড়ের স্বপ্ন দেখায় কেউ বাধা দিত না ঠিকই, কিন্তু টাকা তো আর চাইলেই পাওয়া যায় না...
কেওক্রাডং যাওয়া তার জন্য কঠিন ছিল, এখন তার ছাত্ররা যাচ্ছেন হিমালয়ের চূড়ায়

ফিচার

সালেহ শফিক
04 February, 2026, 10:00 am
Last modified: 04 February, 2026, 03:18 pm

Related News

  • ৩ বছর পর খুলল অন্যরকম নিসর্গ কেওক্রাডং; ট্রেকিং নয়, গাড়িতে চড়েই যাওয়া যাচ্ছে চূড়ায়
  • ১ অক্টোবর থেকে কেওক্রাডং পাহাড়ে ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার হচ্ছে
  • মূক-বধিরদের গ্রাম দাধকাই, ভালোবাসা যেখানে ভাষাকে ছাড়িয়ে যায়
  • কেওক্রাডং ট্র্যাকিং: এটাই চ্যালেঞ্জ, এটাই আনন্দ

কেওক্রাডং যাওয়া তার জন্য কঠিন ছিল, এখন তার ছাত্ররা যাচ্ছেন হিমালয়ের চূড়ায়

সবার ছোট মহি। তাই পরিবারে সে কিছুটা বেশিই প্রশ্রয় পেত। পাহাড়ের স্বপ্ন দেখায় কেউ বাধা দিত না ঠিকই, কিন্তু টাকা তো আর চাইলেই পাওয়া যায় না...
সালেহ শফিক
04 February, 2026, 10:00 am
Last modified: 04 February, 2026, 03:18 pm
ইয়ালা শিখরে রোপফোর

টুটু ভাইরা কেওক্রাডং যাবে—এই খবর শুনেই মহিউদ্দিনের ঘুম ছুটে গেল। দশ দিনের ট্রিপে খরচ ধরা হয়েছে ৩,০০০ টাকা। ২০০৩ সালের হিসাবে এ টাকা মোটেও কম নয়। 

তখন মহিউদ্দিনের বয়স ষোল। তার বাবার ছোট একটি স্টেশনারি দোকান, আয় সীমিত; অথচ পরিবারের আকার ছোট নয়। টাকার ভাবনাই তাকে বেশি করে পেয়ে বসে। তবু পাহাড়ে যাওয়ার হাতছানিও উপেক্ষা করতে পারে না সে।

জীবনের লক্ষ্য নিয়ে তখনো বিশেষ ভাবেনি মহিউদ্দিন। ছোট আপু স্বপ্ন দেখতেন বিশ্ব ঘুরে দেখার, কিন্তু পরিবেশ-পরিস্থিতি অনুকূল ছিল না। তিনি চাইতেন, মহি যেন বিশ্বমানব হয়ে ওঠে। 

পুরান ঢাকার ফরাশগঞ্জের 'ঢাকা কেন্দ্র' তখন ছিল একটি মুখর জায়গা—গান, গল্পের আসর বসত, আবার চালু ছিল স্বল্পমেয়াদি কিছু কোর্সও। ছোট আপু মহিকে সেখানে নিয়ে গিয়ে প্যারামেডিক কোর্সে ভর্তি করান।

বিশেষ পাঠ্যসূচিতে ব্যবহারিক শিক্ষাও ছিল অন্তর্ভুক্ত। মানচিত্র পড়া, পাখি চেনা, পাহাড়ের গল্প শোনার ক্লাস—সবই ছিল সেই কোর্সে। পাখি বিশেষজ্ঞ ইনাম আল হক, পর্বতারোহী ও বিমান চালক এনাম তালুকদার প্রমুখ সেখানে পাঠদান করেছেন। অ্যাস্ট্রনমিক্যাল অ্যাসোসিয়েশনের মশহুরুল আমিন জানিয়েছিলেন মহাকাশের নানা রহস্য।

পাহাড়ের আড্ডা

ঢাকা কেন্দ্রের ছাদে তখন প্রতি শুক্র ও সোমবার আড্ডা জমত। সেখানে পাহাড়ের গল্পই হতো বেশি। শুক্রবারের ছাদ আড্ডা শেষ করে মহিরা চলে যেতেন আজিমপুরে। সেখানে কিবরিয়া দীপু একটি পাঠচক্র পরিচালনা করতেন। ততদিনে লালবাগের ভ্রমণপিপাসুরা 'ভ্রমণ বাংলাদেশ' নামে একটি ক্লাব গড়ে তুলেছিলেন। ক্লাবের শামসুল আলম (বাবু ভাই), আরশাদ হোসেন টুটুল (টুটু ভাই) প্রমুখ সেই পাঠচক্রে অংশ নিতেন। সময় পেলে দুর্বার অভিযাত্রী হামিদুল হকও আসতেন। 

সন্ধ্যায় আরেক দফা আড্ডা বসত চারুকলার সামনের ফুটপাতে। সেখানে ভ্রামণিকরাই বেশি যোগ দিতেন। গল্পে গল্পে রাতের প্রথম ভাগ পেরোলে আড্ডা ভাঙত। সেই আড্ডাতেই সিদ্ধান্ত হয়েছিল সীতাকুণ্ড বেড়াতে যাওয়ার—যা ছিল মূলত কেওক্রাডং অভিযানের প্রস্তুতিপর্ব। সীতাকুণ্ড যাওয়ার খরচ বেশি ছিল না বলে মহির খুব কষ্ট হয়নি। কিন্তু কেওক্রাডংয়ের খরচ তো ছিল বেশি।

সবার ছোট মহি। তাই পরিবারে সে কিছুটা বেশিই প্রশ্রয় পেত। পাহাড়ের স্বপ্ন দেখায় কেউ বাধা দিত না ঠিকই, কিন্তু টাকা তো আর চাইলেই পাওয়া যায় না। শেষ পর্যন্ত ঈদের সালামি গোনা শুরু হলো, তাতেও সিংহভাগ টাকা বাকি রইল। বোনদের কাছে আবদার করলে সবার ছোট ভাইটিকে কেউ ফেরাল না। মহি উঠল গিয়ে কেওক্রাডংয়ের চূড়ায়। সেই যে পাহাড় তাকে পেয়ে বসেছিল, আজ চল্লিশ বছর বয়সেও তাকে ছেড়ে যায়নি।

২০০৩ সালে কেওক্রাডং শিখরে মহিউদ্দিন (সর্ব ডানে)।

বড় কথা হলো 'লেগে থাকা'

পাহাড়ে চড়া সহজ নয়। এর জন্য শরীরকে প্রস্তুত করতে হয়, নিয়ম-কানুন জানতে হয়, পোশাক-আশাক কিনতে হয়, পড়াশোনাও করতে হয়। সবচেয়ে বড় কথা, লেগে থাকতে হয়।

প্রয়াত এভারেস্টার সজল খালেদ ততদিনে 'এক্সট্রিমিস্ট' নামে একটি দল গড়ে তুলেছিলেন। উদ্দেশ্য ছিল পর্বতারোহী তৈরি করা। মহিউদ্দিন সে দলে ভিড়ে যান। তার লক্ষ্য একটাই—যেখান থেকে যতটা পারা যায়, শিখে নেওয়া। রমনা পার্ক ছিল তাদের প্র্যাকটিস গ্রাউন্ড। মাঝেমধ্যে দল বেঁধে হাঁটতে যেতেন মুন্সিগঞ্জের মাওয়া কিংবা ঢাকার আশুলিয়ায়।

তখন শামসুল আলম বাবু, রিফাত হাসান, নূর মোহাম্মদ প্রমুখ ছিলেন অগ্রবর্তী দলে। মহিউদ্দিন মনোযোগ দিয়ে তাদের অনুশীলন দেখতেন, আর নিজেও চেষ্টা করতেন। 

বাবু ভাইরা ২০০৪ সালে দার্জিলিংয়ের এইচএমআইয়ে পর্বতারোহনের বেসিক কোর্স করতে যান। মহিউদ্দিনও সুযোগের অপেক্ষায় থাকলেন। বরাবরের মতোই বাধা হয়ে দাঁড়াল টাকা। কোর্সটি করতে ফি দিতে হতো ২০০ মার্কিন ডলার। ২০০৮ সালে এক বড় আপা ভরসা দিলেন। সেই ভরসায় শেষবেলায় শিলিগুড়ি যাওয়ার বাসস্টেশনে বসে বন্ধু শামীমকে সঙ্গে নিয়ে অপেক্ষা করছিলেন তিনি। কিন্তু শেষ পর্যন্ত আপা টাকা জোগাড় করতে পারেননি। মহিউদ্দিন দেখলেন, এইচএমআইয়ের স্বপ্ন তাকে পেছনে ফেলে ছুটে চলেছে।

স্বপ্ন তো একটাই

স্বপ্ন ছুটে গেলেও হারিয়ে যায়নি। তার তো একটাই স্বপ্ন, হারিয়ে যাওয়ার সুযোগ নেই। তখন বিএমটিসিতে—বাংলা মাউন্টেনিয়ারিং অ্যান্ড ট্রেনিং ক্লাবে—পর্বতারোহীদের মিলনমেলা বসত। সপ্তাহের নির্দিষ্ট দিনে সব ক্লাবের সদস্যরা সেখানে জড়ো হতেন। বড় পর্দায় দেশ-বিদেশের আরোহীদের ছবি দেখানো হতো। ট্র্যাকিং ও হাইকিংয়ের উপকরণ—বুট, ক্রাম্পন, জ্যাকেট, রোপ, আইস এক্স, তাঁবু—এসবের সঙ্গে পরিচয় করানো হতো। 

পাখি বিশেষজ্ঞ ইনাম আল হক ছিলেন এর উদ্যোক্তা ও প্রেরণাদাতা। তিনি সবাইকে চানাচুর, বিস্কুট ও কোমল পানীয় দিয়ে আপ্যায়ন করতেন। নূর মোহাম্মদের মাধ্যমে মহিউদ্দিন বিএমটিসিতে যুক্ত হন, যা তার স্বপ্নপূরণের পথকে আরও প্রশস্ত করে।

টাকা না থাকায় মহিউদ্দিন কাজের বিনিময়ে বেড়াতেন। ভ্রমণদলে অনেক রকম কাজ থাকে—সরঞ্জাম বহন করা, রান্নার কাজ করা, কেউ আহত হলে তার ভার বহন করা। ২০০৭ সালে কক্সবাজারে আয়োজিত একটি ম্যারাথনে তিনি কাজ করে দেওয়ার বিনিময়ে ৪২ কিলোমিটার দীর্ঘ দৌড়ে অংশ নিতে পেরেছিলেন।

২০১৪ সালে কেয়াজরি অভিযান।

কাছাকাছি সময়ে মহিউদ্দিন গ্রামীণফোনে মোটা বেতনের একটি চাকরি পান। কিন্তু বছর দুই যেতেই কর্পোরেট ব্যবস্থায় হাঁপিয়ে ওঠেন। তখন এক বড় ভাই মশিউর রহমান 'সেইফ' নামে একটি এনজিও গড়ে তুলেছেন। স্বাস্থ্য ও শিক্ষা প্রকল্পের আওতায় সেখানে অ্যাডভেঞ্চার প্রোগ্রাম আয়োজন করা হতো। মহি মশিউর ভাইকে বললেন, "হাতখরচ পেলেই চলবে—শুধু একটি কাজ চাই।" মশিউর ভাই রাজি হলেন, মহি যুক্ত হয়ে গেলেন সেইফে।

এইচএমআইয়ে বেসিক

দিনে দিনে এসে যায় ২০১২ সাল। বিএমটিসির এম এ মুহিত, মহিউদ্দিনকে এইচএমআইয়ের বেসিক কোর্স করার জন্য ২০০ ডলার দেন। এর মধ্যে মুহিত ভাই দুবার এভারেস্টের চূড়ায় আরোহন করেছেন। দ্বিতীয়বার তার সঙ্গেই নিশাত মজুমদার প্রথম বাংলাদেশি নারী হিসেবে এভারেস্ট জয় করেন। 

এইচএমআইতে আইস ও রক ক্লাইম্বিং শেখার অভিজ্ঞতা প্রথম কাজে লাগে ৬ হাজার ১৮৬ মিটার উঁচু নেপালের কেয়াজরি পাহাড় অভিযানে। দলে নেতৃত্ব দেন মুহিত ভাই। অভিযাত্রীদের মধ্যে ছিলেন নিশাত মজুমদার, সাদিয়া সুলতানা শম্পা, বাহলুল বিপ্লব, শামীম তালুকদার ও মহিউদ্দিন। খুব কাছে গিয়েও সেবার দলটি সামিট পুশ করতে পারেনি হুদহুদ ঝড়ের কারণে। তবে মহিউদ্দিন ফিরে এসেছিলেন দারুণ সব অভিজ্ঞতা নিয়ে।

২০১৫ সালে মহিউদ্দিন নিজ উদ্যোগে গড়ে তোলেন একটি ক্লাব—নাম 'অভিযাত্রী'। নূর মোহাম্মদ, নিশাত মজুমদার ও জাকারিয়া বেগকে নিয়ে শুরু হয় ক্লাবটির যাত্রা। ক্লাবের পক্ষ থেকে নিয়মিত ভ্রমণ, হাঁটা ও ক্যাম্পিংয়ের আয়োজন করা হতো। ছাব্বিশে মার্চে তাদের 'শোক থেকে শক্তি' নামের ওয়াক—ঢাকা থেকে স্মৃতিসৌধ পর্যন্ত হাঁটা—ব্যাপক সাড়া জাগিয়েছিল।

ততদিনে গাজীপুরে দেশের প্রথম আউটডোর অ্যাডভেঞ্চার ক্যাম্প 'দ্য বেস ক্যাম্প' প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। সেখানে মহিউদ্দিন ও নূর মোহাম্মদ প্রশিক্ষক হিসেবে ক্লাস নিতে শুরু করেন। একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা মারুফা হক ছিলেন বেস ক্যাম্পের শিক্ষার্থী। তিনি সেইফের প্ল্যানিং ও টেক্সট রাইটিংয়ের কাজেও যুক্ত ছিলেন। অ্যাডভেঞ্চারের প্রতি মহিউদ্দিনের আগ্রহ আর কাজ দেখে মারুফা হকের মনে হয়, এ মানুষটি আরও বড় কিছু করার জন্য তৈরি।

এমওআই প্রশিক্ষণ নেওয়ার সময় উত্তরাখণ্ডের এমআইএন বেস ক্যাম্পে মহিউদ্দিন।

নাম হলো রোপফোর

মারুফা আপা একটি পর্বতারোহন প্রশিক্ষণ ক্লাব গড়ে তোলার পরামর্শ দিলেন। প্রাথমিক খরচও তিনি নিজেই দেবেন বলে জানালেন। দলের নাম রাখা হলো 'রোপফোর'। 

এইচএমআইতে যে গ্রুপে মহির স্থান হয়েছিল, তার নাম থেকেই এই নাম নেওয়া। এর মধ্যে মহি এইচএমআইয়ের অ্যাডভার্স কোর্স এবং এমওআই (মেথড অব ইনস্ট্রাকশন) কোর্স শেষ করেছেন। রোপফোরের প্রধান প্রশিক্ষক হলেন মহিউদ্দিন। সব প্রস্তুতি গুছিয়ে ২০১৭ সালের ২৩ ফেব্রুয়ারি সংস্কৃতি বিকাশ কেন্দ্রের হলরুমে রোপফোরের আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু হয়।

প্রথম পর্যায়ে তিন হাজার টাকা দিয়ে কেনা হলো দুটি ক্যারাবিনার (আংটা বা ধাতব রিং)। পর্বতারোহন উপকরণের জন্য তখনকার ঢাকায় 'পিক সিক্সটি নাইন' ছিল নামী প্রতিষ্ঠান। এর স্বত্বাধিকারী ফজলে রাব্বী রোপফোরকে প্রথম কাজ দিয়েছিলেন। হবিগঞ্জের প্যালেস রিসোর্টে ইউনিসেফ নিজের কর্মীদের জন্য টিম বিল্ডিং অ্যাক্টিভিটির আয়োজন করেছিল। সেই কর্মসূচিতে প্রশিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পান মহিউদ্দিন। সেবার তিনি ভালো অঙ্কের সম্মানীও পেয়েছিলেন।

হাজারিখিল যখন এইচএমআই

প্যালেস রিসোর্ট থেকে ফিরে এসে মহিউদ্দিন ঢাকা কেন্দ্রে রোপফোরের প্রথম পর্বতারোহন কর্মশালার আয়োজন করেন। নিবন্ধন ফি ছিল ১,৫০০ টাকা। একদিনের সেই কর্মশালায় অংশ নেন ২২ জন প্রশিক্ষণার্থী। শামসুল আলম বাবু প্রশিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন এবং প্রশিক্ষণ উপকরণ দিয়েও সহযোগিতা করেন।

এরপর ইউএসএইড রোপফোরকে একটি বড় প্রকল্পে যুক্ত করে। প্রকল্পটির নাম ছিল 'বনাঞ্চলে বিকল্প কর্মসংস্থান'। বিভিন্ন ধাপে এই প্রকল্পের আওতায় ৫০০ জনকে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। 

হাজারিখিল, মেধাকচ্ছপিয়া, খাদিমনগরসহ আটটি বনে ক্যাম্পিং ফ্যাসিলিটি গড়ে তোলা হয়। এক বছরের মধ্যেই প্রতিটি বন থেকে বিনিয়োগের পুরো অর্থ উঠে আসে। সুখের বিষয়, এখনো কয়েকটি ক্যাম্প চালু আছে। 

এই প্রকল্প রোপফোরকে আর্থিকভাবে স্বনির্ভর হতে বড় ভূমিকা রাখে। ক্যারাবিনারের পাশাপাশি এখন রোপফোরের কাছে পর্বতারোহন প্রশিক্ষণ পরিচালনার জন্য বিপুল পরিমাণ সেফটি ইকুইপমেন্ট রয়েছে।

কানামো পর্বত অভিযানে রোপফোরের চেয়ারম্যান মারুফা হক।

মহি চেয়েছিলেন, পাহাড় চড়ার কোর্সটি এমনভাবে নকশা করতে, যাতে আগ্রহীদের বেসিক কোর্স করতে এইচএমআইতে না গেলেও চলে। এতে সময় ও খরচ—দুটিই সাশ্রয় হবে। কোর্স নকশা সম্পন্ন হওয়ার পর হাজারিখিলকে প্রশিক্ষণ কেন্দ্র হিসেবে বেছে নেওয়া হয়। প্রশিক্ষণ পর্যায়ে শেখানো হয় ট্রেকিং, ক্যাম্পিং, সারভাইভাল টেকনিক, ম্যাপ রিডিং, ট্রি অ্যাক্টিভিটি, মাউন্টেনিয়ারিং টার্মিনোলজি, নট বাঁধা ও হাইট গেইনিং।

রক ক্লাইম্বিংয়ের প্রশিক্ষণ কেন্দ্র হিসেবে প্রথমে পশ্চিমবঙ্গের পুরুলিয়াকে বেছে নেওয়া হয়, আর আইস ক্লাইম্বিংয়ের জন্য হিমাচল প্রদেশকে। আট দিনের এই কোর্সের জন্য আগ্রহীদের দিতে হতো ২০,০০০ টাকা। 

সম্প্রতি ভারতের ভিসা জটিলতার কারণে রক ও আইস ক্লাইম্বিংয়ের জন্য নেপালকে বেছে নেওয়া হয়েছে। এতে প্রকৃত পাহাড় অভিযান প্রশিক্ষণের অংশ হয়ে গেছে। মেরা, লবুচে ও আইল্যান্ড পিক—এই তিনটি অভিযানের জন্য নির্বাচন করা হয়েছে, যেগুলোর প্রতিটিই ছয় হাজার মিটারের বেশি উঁচু।

মিশন হিমালয়া

২০১৮ সাল থেকে রোপফোর আয়োজন করছে 'মিশন হিমালয়া' নামে একটি প্রতিযোগিতামূলক কার্যক্রম। সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমে তরুণরা এতে আবেদন করেন এবং বিভিন্ন ধাপে নিজেদের প্রমাণ করার সুযোগ পান। সেখান থেকে সেরা তিনজনকে পর্বতারোহনের বৃত্তি দেওয়া হয়।

২০১৮ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত 'মিশন হিমালয়া'র মাধ্যমে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক পর্বতারোহী তৈরি হয়েছে। তাদের মধ্যে কয়েকজন এখন সফলভাবে পর্বত অভিযান পরিচালনা করছেন।

রোপফোর বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান, ক্লাব, স্কুল এবং ব্যক্তিগত পর্যায়েও আউটডোর অ্যাডভেঞ্চার অ্যাক্টিভিটি, টিম বিল্ডিং অ্যাক্টিভিটি, স্কুল ও ক্যাম্পাস অ্যাডভেঞ্চার কার্যক্রম, পাশাপাশি সামার ও উইন্টার ক্যাম্পিংয়ের আয়োজন করে।

মওলা বখশ ট্রাস্টে প্রথম পর্বতারোহন প্রশিক্ষণ কর্মশালা, ২০১৭ সাল।

দেশে পর্বতারোহনের আগ্রহ বাড়ছে। এর কারণ ব্যাখ্যা করতে গিয়ে মহিউদ্দিন বলেন, "বাংলাদেশের মানুষ চ্যালেঞ্জ নিতে ভালোবাসে। সুযোগ-সুবিধা কম হলেও আমাদের সাফল্য অনেক। অথচ এখানে পর্বতারোহন প্রশিক্ষণ কেন্দ্র খুব বেশি গড়ে ওঠেনি।" 

তিনিবলেন, "সম্প্রতি চট্টগ্রামে ভার্টিক্যাল ড্রিমার্স প্রশিক্ষণ ক্যাম্প আয়োজন করছে এবং তারা ভালো কাজ করছে। এককভাবে যারা প্রশিক্ষণ দিতে সক্ষম, তাদের মধ্যে শামসুল আলম বাবুর নামই আগে আসে, কিন্তু নানাবিধ ব্যস্ততার কারণে তিনি এ ক্ষেত্রে কম মনোযোগ দিতে পারেন।"

একজন পর্বতারোহীর কী কী গুণ থাকা দরকার—জানতে চাইলে মহিউদ্দিন বলেন, "শারীরিক ও মানসিক সক্ষমতার পাশাপাশি সহনশীলতা, একাগ্রতা, বিচক্ষণতা, দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা এবং সহমর্মিতা থাকা জরুরি।"

এভারেস্ট সামিটে যাননি কেন—এই প্রশ্নে মহিউদ্দিন জানান, "আমার জীবনে অনেক প্রতিবন্ধকতা ছিল। তাই চেয়েছি, আমার মতো করে আর কারও স্বপ্ন যেন বাধাগ্রস্ত না হয়। সে কারণেই নিজেকে প্রশিক্ষক হিসেবে তৈরি করেছি। একদিন যখন আমার ছাত্র-ছাত্রীরা এভারেস্ট জয় করবে, তখন নিজেকেই বিজয়ী ভাবব।"


ছবি: মহিউদ্দিন/রোপফোর 

              
    

Related Topics

টপ নিউজ

পাহাড় / কেওক্রাডং / হিমালয় / পাহাড় জয় / পাহাড়ে অভিযান

Comments

While most comments will be posted if they are on-topic and not abusive, moderation decisions are subjective. Published comments are readers’ own views and The Business Standard does not endorse any of the readers’ comments.

MOST VIEWED

  • হরমুজ প্রণালি অতিক্রমের সময় একটি জ্বালানি তেলবাহী জাহাজ। ফাইল ছবি: সংগৃহীত
    হরমুজ প্রণালিতে বাংলাদেশের তেলবাহী ট্যাংকার চলাচলে বাধা দেবে না ইরান
  • ছবি: সংগৃহীত
    জ্বালানি সহায়তা দিতে আগ্রহী ভারত ও চীন
  • ছবি: টিবিএস
    তিন শর্তে পেট্রোল পাম্প থেকে দিনে ৫ লিটার তেল পাবে রাইড শেয়ারিং মোটরবাইক
  • প্রতীকী ফাইল ছবি: আল জাজিরা
    ইসরায়েলে বিরতিহীনভাবে বাজছে সাইরেন, লক্ষ্যবস্তু মোসাদ সদর দপ্তর ও বিমানবন্দর
  • ছবি: এএফপি
    নেতানিয়াহুর নিহত অথবা গুরুতর আহত হওয়ার খবর ইরানি সংবাদমাধ্যমে; তুমুল জল্পনা
  • ইরান থেকে লক্ষ্য করে ছোড়া ক্ষেপণাস্ত্র ইসরায়েলের আশকেলনে প্রতিহত করা হয়। ফাইল ছবি: রয়টার্স
    দীর্ঘ যুদ্ধের জন্য প্রস্তুত ইরান, ইতি টানতে পারে কেবল ‘অর্থনৈতিক আঘাত’: সিএনএন-কে ইরানি কর্মকর্তা

Related News

  • ৩ বছর পর খুলল অন্যরকম নিসর্গ কেওক্রাডং; ট্রেকিং নয়, গাড়িতে চড়েই যাওয়া যাচ্ছে চূড়ায়
  • ১ অক্টোবর থেকে কেওক্রাডং পাহাড়ে ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার হচ্ছে
  • মূক-বধিরদের গ্রাম দাধকাই, ভালোবাসা যেখানে ভাষাকে ছাড়িয়ে যায়
  • কেওক্রাডং ট্র্যাকিং: এটাই চ্যালেঞ্জ, এটাই আনন্দ

Most Read

1
হরমুজ প্রণালি অতিক্রমের সময় একটি জ্বালানি তেলবাহী জাহাজ। ফাইল ছবি: সংগৃহীত
অর্থনীতি

হরমুজ প্রণালিতে বাংলাদেশের তেলবাহী ট্যাংকার চলাচলে বাধা দেবে না ইরান

2
ছবি: সংগৃহীত
বাংলাদেশ

জ্বালানি সহায়তা দিতে আগ্রহী ভারত ও চীন

3
ছবি: টিবিএস
বাংলাদেশ

তিন শর্তে পেট্রোল পাম্প থেকে দিনে ৫ লিটার তেল পাবে রাইড শেয়ারিং মোটরবাইক

4
প্রতীকী ফাইল ছবি: আল জাজিরা
আন্তর্জাতিক

ইসরায়েলে বিরতিহীনভাবে বাজছে সাইরেন, লক্ষ্যবস্তু মোসাদ সদর দপ্তর ও বিমানবন্দর

5
ছবি: এএফপি
আন্তর্জাতিক

নেতানিয়াহুর নিহত অথবা গুরুতর আহত হওয়ার খবর ইরানি সংবাদমাধ্যমে; তুমুল জল্পনা

6
ইরান থেকে লক্ষ্য করে ছোড়া ক্ষেপণাস্ত্র ইসরায়েলের আশকেলনে প্রতিহত করা হয়। ফাইল ছবি: রয়টার্স
আন্তর্জাতিক

দীর্ঘ যুদ্ধের জন্য প্রস্তুত ইরান, ইতি টানতে পারে কেবল ‘অর্থনৈতিক আঘাত’: সিএনএন-কে ইরানি কর্মকর্তা

The Business Standard
Top

Contact Us

The Business Standard

Main Office -4/A, Eskaton Garden, Dhaka- 1000

Phone: +8801847 416158 - 59

Send Opinion articles to - oped.tbs@gmail.com

For advertisement- sales@tbsnews.net

Copyright © 2022 THE BUSINESS STANDARD All rights reserved. Technical Partner: RSI Lab