‘জাব উই মেট’ ছিল ইমতিয়াজ আলীর সবচেয়ে বেশি প্রত্যাখ্যান হওয়া চিত্রনাট্য, প্রথম ভরসা রেখেছিলেন কে?
স্রেফ নিজের বিনোদনের জন্যই 'জাব উই মেট'-এর গল্প লিখেছিলেন ইমতিয়াজ আলী। এটি যে কখনো সিনেমা বানানোর মতো 'যথেষ্ট ভালো' কোনো গল্প হবে, তা তিনি ঘুণাক্ষরেও ভাবেননি। কিন্তু ২০০৭ সালের এই ব্লকবাস্টার হিট তার সেই ধারণাকে তো বটেই, এমনকি যারা এই চিত্রনাট্যটিকে 'বোকামি' বলে প্রত্যাখ্যান করেছিল, তাদের সবাইকে ভুল প্রমাণ করেছে।
কারিনা কাপুর ও শহিদ কাপুর অভিনীত এই সিনেমার গল্প আবর্তিত হয় সম্পূর্ণ বিপরীত স্বভাবের দুজন অপরিচিত মানুষকে ঘিরে। ট্রেনে দেখা হওয়ার পর যাদের মধ্যে এক অদ্ভুত বন্ধুত্ব তৈরি হয়। সেই বন্ধুত্বই অনেক পরে প্রেমে রূপ নেয়। সিনেমাটির দারুণ সব সংলাপ, গান এবং গল্প আজও মানুষের মনে গেঁথে আছে।
নিজের প্রথম সিনেমা 'সোচা না থা'-এর শুটিংয়ের অবসরে তিনি 'জাব উই মেট' লিখেছিলেন। কিন্তু পাঞ্জাবে 'জাব উই মেট'-এর শুটিংয়ের সময়ও এই পরিচালক নিজের কাজ নিয়ে ভীষণ সন্দেহে ভুগতেন। এমনকি পরের দিন শুটিং হবে কি না, তা নিয়েও তিনি অনিশ্চয়তায় থাকতেন।
পিটিআইকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ইমতিয়াজ আলী বলেন, 'সত্যি বলতে, এই গল্পটা নিয়ে আমি খুব একটা গর্বিত ছিলাম না। আমি শুধু নিজেকে বিনোদন দেওয়ার জন্যই এই চিত্রনাট্যটি লিখেছিলাম। আমার কখনোই মনে হয়নি যে এটি সিনেমা বানানোর মতো ভালো কোনো গল্প।'
গল্পটি লেখার পর কাউকে এটি শোনাতে বেশ লজ্জা পেতেন ইমতিয়াজ। আর যখন শোনাতেন, তখন কী হতো?
পরিচালকের ভাষায়, 'বিশ্বাস করুন, আমার অন্য যেকোনো সিনেমার চেয়ে এই সিনেমাটি প্রযোজক ও অভিনয়শিল্পীদের কাছে সবচেয়ে বেশি প্রত্যাখ্যাত হয়েছে।'
চিত্রনাট্যে তারা কী ভুল পেয়েছিলেন—এমন প্রশ্নের জবাবে ইমতিয়াজ জানান, প্রযোজকদের কাছে গল্পটি শোনানোর সময় তিনি নানা ধরনের নেতিবাচক প্রতিক্রিয়া পেয়েছিলেন।
তিনি বলেন, 'প্রযোজকেরা বলত, "এই সিনেমাটা আসলে কী নিয়ে?", "এর মাধ্যমে কী অর্জন হবে?", "এখানে তো কোনো দ্বন্দ্ব নেই", "এই সিনেমায় যা যা ঘটছে, তা আসলে বেশ বোকামি", এভাবেই গল্পটি বারবার বাতিল হয়ে যাচ্ছিল।'
ইমতিয়াজ জানান, এই গল্পের ওপর প্রথম যিনি ভরসা রেখেছিলেন, তিনি হলেন প্রীতি জিনতা। তিনি বলেন, 'জাব উই মেট-এর অভিনয়শিল্পী খুঁজে পেতে অনেক সময় লেগেছিল। আমি একবার প্রীতি জিনতাকে গল্পটি শুনিয়েছিলাম। তিনিই প্রথম ব্যক্তি, যিনি এই গল্প ও চিত্রনাট্যটি পছন্দ করেছিলেন।'
তবে সিনেমাটি তৈরিতে দেরি হওয়ায় শেষ পর্যন্ত প্রীতি জিনতাকে আর নেওয়া সম্ভব হয়নি। ইমতিয়াজ তখন তার প্রথম পছন্দ কারিনা কাপুরের কাছেই ফিরে যান।
ইমতিয়াজ যখন প্রীতিকে চিত্রনাট্য শোনাচ্ছিলেন, তখন একটি দৃশ্যের কথা শুনে তিনি হো হো করে হেসে ওঠেন। দৃশ্যটি ছিল—স্টেশনে ট্রেনের জন্য অপেক্ষারত গীতকে রেখে শহিদের চরিত্র আদিত্য পালিয়ে যায়।
ইমতিয়াজ বলেন, 'আমি ভেবেছিলাম সে হয়তো আমাকে নিয়ে হাসছে। এতে আমি একটু অস্বস্তিতে পড়ে যাই। কিন্তু তারপর সে আমার দিকে তাকিয়ে বলল, "এটা সত্যিই দারুণ মজার।" আমি তাকে জিজ্ঞেস করলাম, "তোমার কি এটা ভালো লাগছে?" সে বলল, "আমার ভীষণ ভালো লাগছে। এরপর কী হলো?" তখন আমার মনে হলো, "যাক, অন্তত এমন কেউ তো আছে, যে এই গল্পটা পছন্দ করেছে।"'
এই সিনেমার চিত্রনাট্য এবং স্মরণীয় সব সংলাপ ইমতিয়াজ আলী নিজেই লিখেছিলেন।
ইমতিয়াজ জানান, এই সংলাপগুলো তিনি হিমাচল প্রদেশের মানালির একটি হোটেলের ঘরে আটকা পড়া অবস্থায় লিখেছিলেন। বাইরে তখন ভারী তুষারপাত হচ্ছিল। মাত্র ২১ দিনের মধ্যে শুটিং শুরু করতে হওয়ায় তার হাতে এই সংলাপগুলো সংশোধন করার বা দ্বিতীয়বার দেখার কোনো সুযোগ ছিল না।
ইমতিয়াজ বলেন, 'আমরা লোকেশন দেখতে মানালি গিয়েছিলাম। আর ভাগ্যক্রমে, সেখানে প্রবল তুষারপাত শুরু হয় এবং আমরা একটি হোটেলে আটকা পড়ি। পুরো দিন আমাকে হোটেলের ঘরেই থাকতে হয়েছিল, বাইরে বের হওয়ার কোনো উপায় ছিল না। তাই আমাকে শুধু বসে বসে সংলাপ লিখতে হয়েছিল। আমার খুব খারাপ লাগছিল যে হাতে একদম সময় নেই। ওই এক দিন আর এক রাতেই আমি সব সংলাপ লিখে ফেলি। আমি ফিরে দেখারও সুযোগ পাইনি যে এটা ঠিক হলো নাকি ভুল হলো। আমি শুধু লিখেই গেছি।'
ইমতিয়াজের নতুন সিনেমা
গত ১২ জুন প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পেয়েছে ইমতিয়াজ আলীর নতুন সিনেমা 'ম্যায় ওয়াপাস আউঙ্গা'। ভারত ভাগের প্রেক্ষাপটে নির্মিত এই রোমান্টিক ড্রামায় সেই যুগের প্রেম ও বিরহের গল্প তুলে ধরা হয়েছে। এতে প্রধান চরিত্রে অভিনয় করেছেন দিলজিৎ দোসাঞ্জ, নাসিরুদ্দিন শাহ, বেদাং রায়না এবং শর্বরী ওয়াঘ। এর সংগীত পরিচালনা করেছেন এ আর রহমান এবং গান লিখেছেন ইরশাদ কামিল। এর মাধ্যমে 'রকস্টার', 'হাইওয়ে', 'তামাশা' এবং 'অমর সিং চমকিলা'র পর এই ত্রয়ী আবারও এক হলেন।
