দ্য রক, ভ্যান ড্যাম; অ্যাকশন তারকাদের অভিনয় যখন সমালোচকদেরও তাক লাগিয়ে দেয়
অ্যাকশন সিনেমার তারকারা সাধারণত পেশিবহুল ও স্বল্প সংলাপের চরিত্রের জন্য পরিচিত। কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে এই ধারার একাধিক তারকা প্রমাণ করছেন, তাদের অভিনয়গুণ শুধুই মারধরে সীমাবদ্ধ নয়।
বক্স অফিসে তেমন সফল না হলেও ডোয়াইন জনসনের নতুন সিনেমা 'দ্য স্ম্যাশিং মেশিন' তাকে দিয়েছে অভিনয় জীবনের নতুন স্বীকৃতি। মুক্তির প্রথম সপ্তাহে ছবিটি আয় করেছে মাত্র ৬ মিলিয়ন ডলার। 'ফাস্ট অ্যান্ড ফিউরিয়াস' সিরিজ বা 'সান অ্যান্ড্রেয়াস'-এর সাফল্যের তুলনায় তা অনেক কম।
অভিনেতা নিজেও বিষয়টি স্বীকার করেছেন।
তিনি সামাজিক মাধ্যমে লিখেছেন, 'আমার হৃদয়ের গভীর থেকে ধন্যবাদ জানাই সবাইকে, যারা দ্য স্ম্যাশিং মেশিন দেখেছেন। আপনি বক্স অফিসের ফলাফল নিয়ন্ত্রণ করতে পারবেন না, কিন্তু আপনি নিয়ন্ত্রণ করতে পারেন নিজের অভিনয় আর সম্পূর্ণভাবে চরিত্রের মধ্যে মিশে যাওয়ার প্রতিশ্রুতি। আর আমি সব সময় সেই সুযোগের পেছনে ছুটব।'
এটি বড় অঙ্কের অর্থ উপার্জন করতে পারলেও তার এই পারফরম্যান্স এবার তাকে প্রথমবারের মতো অস্কারের শ্রেষ্ঠ অভিনেতা বিভাগে সম্ভাব্য প্রার্থীদের তালিকায় স্থান দিয়েছে।
বেনি সাফদির পরিচালনায় ও স্বাধীন প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান এ২৪-এর ব্যানারে নির্মিত এই চলচ্চিত্রটি জনসনের বহুদিনের আকাঙ্ক্ষিত প্রকল্প। এতে তিনি নিজের জীবনের সঙ্গে মিল খুঁজে পেয়েছেন।
চলচ্চিত্রটি মিক্সড মার্শাল আর্টস যোদ্ধা 'মার্ক কার'-এর জীবনের ওপর ভিত্তি করে নির্মিত, যা ২০০২ সালের প্রামাণ্যচিত্র 'দ্য স্ম্যাশিং মেশিন: দ্য লাইফ অ্যান্ড টাইমস অব এক্সট্রিম ফাইটার মার্ক কার'- থেকে অনুপ্রাণিত।
এতে কারের সাফল্য, পতন, নেশা এবং তার স্ত্রী ডন স্ট্যাপলসের সঙ্গে সম্পর্কের টানাপোড়েন দেখানো হয়েছে।
ছবিটি জনসনের নতুন কোনো অ্যাকশন ছবি আশায় মুখিয়ে থাকা দর্শকদের মন জয় করতে পারেনি। আবার কেউ কেউ ভেবেছিলেন এটি হয়তো আরেকটি 'দ্য রক' টাইপ অ্যাকশন ফিল্ম। ফলে ছবিটি থেকে যায় এক ধরণের মধ্যবর্তী অবস্থানে। সিনেমাটি সমালোচকদের প্রশংসা পেলেও, বাণিজ্যিক সাফল্য আসেনি।
দ্য হলিউড রিপোর্টার লিখেছে, 'অভিনেতা রক্ত, ঘাম, অশ্রু, প্রোটিন ও অসহায়তার এক মাদকতাময় মিশ্রণ হাজির করেছেন।'
পরিচালক ক্রিস্টোফার নোলান মন্তব্য করেছেন, 'আমি মনে করি এটি বছরের সেরা অভিনয়, এর চেয়ে ভালো অভিনয় বহু বছর হয়তো দেখা যাবে না।'
তবে এই প্রথম নয়, অ্যাকশন তারকাদের মধ্যে অনেকেই এর আগেও অভিনয় দক্ষতা প্রমাণে পারিশ্রমিক কমিয়ে ছোট প্রকল্পে কাজ করেছেন।
নিচে এমনই কয়েকজনের কথা বলা হলো-
সিলভেস্টার স্ট্যালোন: কপল্যান্ড
অবিশ্বাস্য হলেও সত্য, ক্যারিয়ারের শুরুতেই একই বছরে শ্রেষ্ঠ অভিনেতা ও মৌলিক চিত্রনাট্য বিভাগে অস্কার মনোনয়ন পাওয়া অভিনেতা সিলভেস্টার স্ট্যালোনকে নিজের প্রতিভার স্বীকৃতি পেতে অপেক্ষা করতে হয়েছে তিন দশক।
১৯৭৬ সালের 'রকি' তাকে যে মর্যাদা এনে দিয়েছিল, তা পরে ঢেকে যায় 'র্যাম্বো সিরিজ, ওভার দ্য টপ' (১৯৮৭), 'কোবরা' (১৯৮৬)-এর মতো বাণিজ্যিক ছবিতে এবং 'অস্কার' (১৯৯১) বা 'স্টপ! অর মাই মাম উইল শুট' (১৯৯২)-এর মতো ব্যর্থ কমেডি প্রচেষ্টায়।
কিন্তু ১৯৯৭ সালের 'কপল্যান্ড'-এ অভিনয়ের পর তিনি আবার আলোচনায় আসেন। জেমস ম্যানগোল্ড পরিচালিত এই ছবিতে তার সহ-অভিনেতা ছিলেন রবার্ট ডি নিরো, হার্ভে কাইটেল ও রে লিওটা।
'ফার্স্ট ব্লাড' (১৯৮২)-এর তারকার ক্যারিয়ারে এটি ছিল এক গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত। এখানে তিনি অভিনয় করেছেন অর্ধ-বধির ও স্থূল দেহের এক শেরিফ ফ্রেডি হেফলিন চরিত্রে।
ম্যানগোল্ড প্রথমে তাকে নিতে চাননি। তিনি আশঙ্কা করেছিলেন স্ট্যালোনের খ্যাতি চরিত্রকে ছাপিয়ে যাবে। কিন্তু শেষ পর্যন্ত তার সূক্ষ্ম ও সংবেদনশীল অভিনয় সমালোচকদের দৃষ্টি কেড়েছিল।
ছবিটি বক্স অফিসে খুব একটা সাড়া না ফেললেও সমালোচকদের প্রশংসা পায়। আয় হয়েছিল ৬৩ মিলিয়ন ডলার, যেখানে তার আগের বছর মুক্তিপ্রাপ্ত 'ডেলাইট' আয় করেছিল ১৬০ মিলিয়ন।
জ্যঁ-ক্লদ ভ্যান ড্যাম: জেসিভিডি
যদি 'দ্য স্ম্যাশিং মেশিন'-এ ডোয়াইন জনসন নিজের জীবনের প্রতিফলন খুঁজে পান, তবে 'জেসিভিডি' (২০০৮)-এ জ্যঁ-ক্লদ ভ্যান ড্যাম সরাসরি নিজের জীবনই তুলে ধরেছেন।
ফ্রাঙ্কো-বেলজিয়ান পরিচালক মাবরুক এল মেচরি নির্মিত সিনেমাটিতে এই মার্শাল আর্টস কিংবদন্তি নিজের জীবনের বাস্তবতা তুলে ধরেছেন।
চলচ্চিত্রটিতে ভ্যান ড্যাম আত্মসমালোচনা করেছেন। এতে তিনি সরাসরি দর্শকের সঙ্গে কথা বলেন, যা তার আগের অ্যাকশন সিনেমাগুলোতে দেখা যায়নি।
এক ফরাসি টেলিভিশন প্রামাণ্যচিত্র থেকে সিনেমাটি অনুপ্রাণিত, যেখানে তিনি নিজের ভাবমূর্তি ও পেশাগত ভুল নিয়ে খোলামেলা কথা বলেন।
প্রথমে দ্বিধায় থাকলেও, ভ্যান ড্যামের ভক্ত এল মেচরি তাকে রাজি করাতে সক্ষম হন। ছবিটি বক্স অফিসে মাত্র ২ মিলিয়ন ডলার আয় করেছিল।
ভ্যান ড্যাম নিজেই বলেছিলেন, 'আমার পুরনো ভক্তরা; যারা সিনেমা দেখে বিনোদনের জন্য, তাদের এটা পছন্দ হবে না। তবে আমি মনে করি নতুন ধরনের দর্শক পাব।'
আগে কখনো তার ছবি না দেখা ও উচ্ছ্বাস না দেখানো সমালোচকরা অবশ্য এবার তার প্রশংসা করেন।
দ্য গার্ডিয়ান লেখে, 'ভ্যান ড্যাম সম্পর্কে যা জানতেন, সব ভুলে যান।'
দ্য ওয়াশিংটন পোস্ট জানায়, 'তিনি সত্যিই অভিনয় করতে পারেন।'
আর দ্য হলিউড রিপোর্টার মন্তব্য করে, 'ভ্যান ড্যাম প্রমাণ করলেন, তিনি শুধু চকচকে শরীরের পেশি নন।'
ডলফ লুন্ডগ্রেন: 'ক্রিড টু'
'রকি' সিরিজের পার্শ্বচরিত্রদের মধ্যে সবচেয়ে আকর্ষণীয় ছিলেন হারকিউলিস-সদৃশ ইভান ড্রাগো। শুধু শীতল যুদ্ধের সময়ে পশ্চিমা বিশ্বের শত্রুর প্রতীক হিসেবেই নয়, বরং প্রিয় চরিত্র অ্যাপোলো ক্রিডকে হত্যাকারী হিসেবেও তিনি পরিচিত।
তবে আরও চমকপ্রদ ছিল এই চরিত্রের অভিনেতা ডলফ লুন্ডগ্রেনকে ঘিরে পরবর্তী সময়ের খবর। দর্শকরা জানতে পেরে বিস্মিত হয়েছিলেন যে, তিনি আসলে এক মেধাবী প্রকৌশলী, যিনি পড়াশোনা করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের বিখ্যাত ম্যাসাচুসেটস ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজিতে (এমআইটি)।
শুধু তাই নয়, তিনি ছিলেন অভিনেত্রী ও গায়িকা গ্রেস জোনসের প্রেমিক; দু'জনের দেখা হয়েছিল 'অ্যা ভিউ টু অ্যা কিল' (১৯৮৫) সিনেমার সেটে।
'রকি ফোর'-এর (১৯৮৫) বিশাল সাফল্যের পরও লুন্ডগ্রেনের ক্যারিয়ার তেমন দূর এগোয়নি। যে চরিত্র তাকে খ্যাতি এনে দিয়েছিল, সেটিই তাকে একধরনের ধাঁচে বেঁধে ফেলেছিল—শীতল নির্মম, যান্ত্রিক ও প্রাণঘাতী মানুষ হিসেবে।
তবে অবশেষে স্বীকৃতি আসে সেই সিরিজেরই পরবর্তী কিস্তিতে, ক্রিড টু-তে, যা তার অভিনয় জীবনের শেষভাগে মুক্তি পায়।
'ক্রিড টু'-তে ড্রাগো ফিরে আসেন নিজের অতীত পাপের প্রায়শ্চিত্ত করতে; এমনকি মৃত প্রতিদ্বন্দ্বীর ছেলে অ্যাডোনিস ক্রিডও শেষে তাকে ক্ষমা করে দেন।
প্রিমিয়ারের পর তিনি বলেন, 'প্রথমে ভেবেছিলাম, আমাকে কেবল প্রচারণার কাজে ব্যবহার করবে। কেউ আমার অভিনয় বা চরিত্র নিয়ে মাথা ঘামাবে না। আমি যেন এক ট্রফির মতো থাকব, বরং চরিত্রটিকে ১৯৮০-এর দশকেই রেখে দেওয়া ভালো। কিন্তু পরে স্ক্রিপ্টটা পড়ে ও পরিচালক সঙ্গে কথা বলে বুঝলাম, তিনি সত্যিই একটা অর্থপূর্ণ চরিত্র গড়ে তুলতে চান। তিনি পিতৃত্ব নিয়ে কিছু বলতে চেয়েছেন, যা ব্যক্তিগতভাবে আমাকে গভীরভাবে ছুঁয়ে যায়। তাই ছবিটি করার সিদ্ধান্ত নেই।'
'ক্রিড টু'-তে দ্রাগো বৃদ্ধ, ক্লান্ত ও প্রত্যাখ্যাত। বাস্তবে লুন্ডগ্রেনও তেমনই, যিনি একসময় কোটি ডলারের সিনেমার নায়ক থেকে ভিডিও রিলিজের ছবিতে নেমে এসেছিলেন।
ব্যক্তিজীবনেও পতন আসে, তবে সিলভেস্টার স্ট্যালন আবার তাকে ডাকেন 'দ্য এক্সপেন্ডেবলস' (২০১০)-এর জন্য। এরপর আসে 'ক্রিড টু' (২০১৮) ও 'অ্যাকুয়াম্যান' (২০১৮)।
সমালোচকরা তার অভিনয়ের ভীষণ প্রশংসা করেছেন।
স্ক্রিন ক্রাশ' লিখেছিল, 'লুন্ডগ্রেন দারুণ ও পরিপূর্ণ অভিনয় উপহার দিয়েছেন; এটি তার ক্যারিয়ারের অন্যতম সেরা পারফরম্যান্স।'
দ্য হলিউড রিপোর্টার মন্তব্য করেছে, 'লুন্ডগ্রেন তার জীবনের সবচেয়ে সূক্ষ্ম অভিনয় করেছেন। ৩৩ বছর আগের পরাজয়ের পর জনগণের দ্বারা প্রত্যাখ্যাত এক বৃদ্ধ, ভাঙা ড্রাগোকে তিনি জীবন্ত করে তুলেছেন তিনি।
জন সিনা: 'দ্য পিসমেকার'
রেসলিং থেকে সিনেমায় পা রাখা তারকাদের মধ্যে জন সিনা সবচেয়ে বড় চমক। ডব্লিউডব্লিউই-তে তিনি যেমন ছিলেন ১৭টি বিশ্ব খেতাব জয়কারী এক কিংবদন্তি, তেমনি হলিউডেও তার উত্থান হয়েছে দ্রুতগতিতে।
প্রথমদিকে সিনা অভিনয় করেছিলেন মূলত অ্যাকশন ঘরানার ছবিতে। যেমন: 'দ্য মেরিন' (২০০৬)। কিন্তু তার কমেডি প্রতিভা শিগগিরই পরিচালকদের নজর কাড়ে।
কৌতুকের সম্রাট জাড অ্যাপাটাউ তাকে 'ট্রেনরেক' (২০১৫)-এ নেন। এরপর সিনা হাজির হয়েছেন একের পর এক সিরিজ ও ছবিতে, যেমন 'বার্বি' (২০২৩)-এ সংক্ষিপ্ত উপস্থিতি, 'রিকি স্ট্যানিকি' (২০২৪)-এ ৯০–এর দশকের ফ্যারেলি ভাইদের ধাঁচের হাস্যরস চরিত্রে। এমনকি অস্কারে নগ্ন অবস্থায় উপস্থিত হওয়ার ঘটনায়ও তাকে নিয়ে আলোচনা কম হয়নি।
প্রতিটি চরিত্রে সিনা শুধু মজার সংলাপই দেন না, নিজের প্রতি আত্মবিদ্রূপ করার বিরল ক্ষমতাও দেখান। তবে তার প্রতিভা আরও গভীরভাবে প্রকাশ পায় এইচবিও সিরিজ 'দ্য পিসমেকার' (২০২২)-এ, যা 'দ্য সুইসাইড স্কোয়াড' (২০২১)-এর স্পিন-অফ সিরিজ।
যদিও দ্বিতীয় মৌসুমটি প্রথমটির মতো সাড়া ফেলতে পারেনি, তবে সিনার প্রশংসা হয়েছে।
কমিক বুক মুভি লিখেছে, 'জন সিনা সিরিজটিতে দুর্দান্ত অভিনয় করেছেন। তিনি এমন এক চরিত্রে গভীরতা যোগ করেছেন, যা প্রায় অসম্ভব ছিল। ক্রিস চরিত্রটি সহজেই হাস্যরসাত্মক কার্টুনে পরিণত হতে পারত, কিন্তু সিনা সেটিকে এমনভাবে ভারসাম্যপূর্ণ রেখেছেন যে আমরা তার সঙ্গে সহানুভূতি বোধ করি।'
দ্য ডেইলি বিস্ট-এর সমালোচক কাইয়া শুনিয়াতা বলেন, এই টেলিভিশন সিরিজে প্রধান চরিত্র হিসেবে সিনা প্রমাণ করেছেন, তিনি কেবল সেরা 'রেসলার-থেকে-অভিনেতা' নন, বরং আমাদের সময়ের অন্যতম সেরা টেলিভিশন অভিনেতা।
ভিন ডিজেল: ফাইন্ড মি গিলটি
অ্যাকশনধর্মী সিনেমা আর ভিন ডিজেলের নাম প্রায় সমার্থক। 'পিচ ব্ল্যাক' (২০০০), 'ট্রিপল এক্স' (২০০২), 'দ্য ক্রনিকলস অব রিডিক' (২০০৪) এবং বিশেষ করে 'ফাস্ট অ্যান্ড ফিউরিয়াস'- সিরিজে ডমিনিক টরেটো চরিত্র তাকে করেছে বিশ্বব্যাপী জনপ্রিয়।
তবে শুরু থেকেই ডিজেল চেয়েছিলেন কেবল পেশিবহুল অ্যাকশনহিরো হিসেবে সীমাবদ্ধ না থাকতে। তার প্রথম কাজ ছিল রবার্ট ডি নিরো ও রবিন উইলিয়ামস অভিনীত 'অ্যাওয়েকেনিংস' (১৯৯০)-এ এক সংক্ষিপ্ত ভূমিকা।
এরপর তিনি অভিনয় করেন স্টিভেন স্পিলবার্গ পরিচালিত 'সেভিং প্রাইভেট রায়ান' (১৯৯৮)-এ, আর পরে 'দ্য প্যাসিফায়ার' (২০০৫)-এ অভিনয়ের মাধ্যমে প্রবেশ করেন কমেডির জগতে।
তবু তার ক্যারিয়ারে এমন কোনো চরিত্র আসেনি, যা তার অভিনয়কে দেহসৌষ্ঠবের বাইরে এনে সত্যিকারের মূল্যায়ন দিতে পারে। সেই সুযোগ আসে কিংবদন্তি নির্মাতা সিডনি লুমেটের হাতে, যিনি 'ডগ ডে আফটারনুন' (১৯৭৫) ও 'নেটওয়ার্ক' (১৯৭৬)-এর মতো ক্লাসিক চলচ্চিত্রের পরিচালক।
২০০৬ সালের আদালতনির্ভর ড্রামা 'ফাইন্ড মি গিলটি'-তে ডিজেল অভিনয় করেন জ্যাকি ডি'নর্সিও চরিত্রে, যিনি একজন মাফিয়া সদস্য। সবার পরামর্শ উপেক্ষা করে তিনি নিজের আইনজীবীকে বরখাস্ত করেন এবং নিজেই আদালতে নিজের পক্ষে লড়েন।
ছবিতে মোটা চেহারা, পরচুলা ও অচেনা রূপে দর্শকদের সামনে হাজির হন ডিজেল। এতে তার অভিনয়ের প্রশংসা করেন প্রায় সবাই।
দ্য নিউইয়র্ক টাইমস একে বলেছে 'অসাধারণ পারফরম্যান্স'।
সমালোচক রজার এবার্ট বলেছেন, 'অবিশ্বাস্য এক অভিনয়।'
যদিও ছবিটি বাণিজ্যিক সাফল্য পায়নি, তবু সমালোচকদের মতে, ডিজেল প্রমাণ করেছেন তার ভেতরে লুকিয়ে আছে গভীর মানবিকতা।
সমালোচক ব্রোগান মরিস লিখেছেন, 'ডিজেলের জন্য ফাইন্ড মি গিলটি প্রমাণ যে, তার বাহ্যিক শক্তিমত্তা ও আত্মবিশ্বাসের নিচে লুকিয়ে আছে গভীর এক মানবিক দিক, যা এই ছবিটিকে অনন্য করে তুলেছে।'
ডেভ বাউটিস্টা: নক অ্যাট দ্য ক্যাবিন
চারবারের ওয়ার্ল্ড হেভিওয়েট চ্যাম্পিয়ন ডেভ বাউটিস্টার জীবনের গল্প যেন এক ক্লিশে উপন্যাসের মতো। দারিদ্র্য ও অপরাধঘেরা এক বস্তিতে তার বেড়ে ওঠা।
নিজের আত্মজীবনী 'বাউটিস্টা আনলিশড'-এ তিনি লিখেছেন, ৯ বছর বয়সেই তিনি তিনটি খুনের সাক্ষী হন; স্কুলে তার কোনো আগ্রহ ছিল না, আর খাবারের জন্যই মারামারিতে নামতে হয়েছিল তাকে।
রেসলিং-এ তার সাফল্য আসে দ্রুতই, কিন্তু সিনার মতোই তিনি চেয়েছিলেন অভিনয়ে নিজেকে প্রমাণ করতে।
তার অভিনয় জীবনে গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রগুলো পেতে সময় লাগে, তবে আসার পর একে একে বড় সাফল্য এনে দেয়।
'গার্ডিয়ান্স অব দ্য গ্যালাক্সি' (২০১৪–২৩)-এর কোমল হৃদয়ের, বোকাসোকা কিন্তু শক্তিশালী ড্র্যাক্স চরিত্রে তিনি দর্শকদের মুগ্ধ করেন। এরপর 'ডিউন' (২০২১–২৪)-এর ভয়ংকর রব্বান হারকোনেন চরিত্রে অভিনয় করে প্রমাণ করেন, তার ভেতর রয়েছে নাটকীয়তার গভীর ক্ষমতা।
তবে অভিনয়ে তার স্থায়ী অবস্থান নিশ্চিত হয় এম. নাইট শ্যামলানের 'নক অ্যাট দ্য ক্যাবিন' (২০২৩)-এ।
'ব্লেড রানার' ২০৪৯ (২০১৭)-এ তার পারফরম্যান্স দেখে মুগ্ধ হয়েই শ্যামলান তাকে নেন এই ছবিতে। গল্পটি এক কন্যা ও তার বাবা-মাকে ঘিরে, যাদের জিম্মি করে কিছু অজানা অস্ত্রধারী।
তারা দাবি করে পরিবারটি যেন পৃথিবীর শেষ রোধে নিজেদের মধ্যে একজনকে বলি দেয়। এই চরিত্রে বাউটিস্টা এমন এক সংবেদনশীল ও শক্তিশালী অভিনয় দেন, যা তার বলিষ্ঠ শারীরিক উপস্থিতির বাইরের দিককে প্রকাশ করে।
দ্য হলিউড রিপোর্টার বাউটিস্টাকে বলেছে 'চমৎকার ও বহুমুখী অভিনেতা'।
এমনকি তারা রেসলার থেকে অভিনেতাদের তালিকায় তাকে রেখেছে শীর্ষে—দ্য রক ও সিনারও ওপরে।
