মোহাম্মদপুরে জমি দখলকে কেন্দ্র করে হামলা- ভাঙচুর: ‘চুক্তিতে দখল-ছিনতাইয়ে’ অংশ নেওয়া দুজন গ্রেপ্তার
রাজধানীর মোহাম্মদপুরের চাঁদ উদ্যান হাউজিং এলাকায় জমি দখলকে কেন্দ্র করে হামলা, ভাঙচুর ও মালামাল নিয়ে যাওয়ার ঘটনায় করা মামলায় দুজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। রবিবার (২৭ সেপ্টেম্বর) রাতে অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তারেরা হলেন- মো. লিমন (২৩) ও মো. মনোয়ার হোসেন সাদ্দাম (২৫)।
মোহাম্মদপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আব্দুল হালিম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
পুলিশ জানায়, শনিবারের ঘটনায় আনোয়ার হোসেন রিপন বাদী হয়ে ১০ জনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতনামা আরও ২০ থেকে ২৫ জনকে আসামি করে রোববার মোহাম্মদপুর থানায় মামলা করেন। মামলার পর অভিযান চালিয়ে মোহাম্মদপুরের ২৯ নম্বর বাসা থেকে লিমনকে এবং বাঁশবাড়ি এলাকা থেকে মনোয়ার হোসেন সাদ্দামকে গ্রেপ্তার করা হয়।
পুলিশের দাবি, গ্রেপ্তার দুজনের বিরুদ্ধে এর আগেও ছিনতাই ও মারামারির মামলা রয়েছে। তারা চুক্তিতে ছিনতাই এবং জমি দখলের কাজে অংশ নেওয়ার কথা স্বীকার করেছে।
শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) সকাল ১১টার দিকে মোহাম্মদপুর থানাধীন বেড়িবাঁধের পশ্চিম পাশে চাঁদ উদ্যানের 'রোজ ভিলা' সংলগ্ন একটি জমিতে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া সিসিটিভি ফুটেজে একদল মানুষকে ওই জমিতে থাকা একটি কার্যালয়ের তালা ভেঙে ভেতরে ঢুকতে দেখা যায়। পরে কার্যালয়ের বিভিন্ন মালামাল সরিয়ে নেওয়ার দৃশ্যও দেখা যায়।
ঘটনাটিতে প্রায় দেড় থেকে দুই শতাধিক মানুষ অংশ নেয় বলে পুলিশ জানিয়েছে।
পুলিশ জানায়, জমিটি মো. আলম নামের একজনের দখলে ছিল। শনিবার সকালে জনি ও রেজাউলের নেতৃত্বে ১৫০ থেকে ২০০ জন সেখানে গিয়ে আগের টিনের বেড়া ভেঙে দেন। পরে তারা জমিতে থাকা একটি অফিসে ঢুকে ভাঙচুর করেন এবং নতুন করে টিনের বেড়া দিয়ে জমিটি দখলের চেষ্টা করেন।
এর আগে, শনিবার মোহাম্মদপুর থানার ওসি আব্দুল হালিম দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ডকে (টিবিএস) বলেন, 'জমিটির মালিকানা নিয়ে বিরোধ রয়েছে। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোকে আদালতে যাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। আদালত যে পক্ষের পক্ষে রায় দেবেন, আইনগতভাবে সেই পক্ষই জমির অধিকার পাবেন।'
তিনি বলেন, 'শনিবার সকালে বেড়িবাঁধ এলাকায় একটি প্লট দখলের চেষ্টার খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে যায় এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।'
এদিকে, মামলার পর ঘটনায় জড়িত অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
