চট্টগ্রামে শিল্পকারখানায় গ্যাস সরবরাহে উন্নতি, অন্য এলাকায় এখনো চাপ কম
গত দুই দিনে চট্টগ্রামে শিল্পকারখানায় গ্যাস সরবরাহের উল্লেখযোগ্য উন্নতি হয়েছে। তবে শিল্পোদ্যোক্তারা বলছেন, ঢাকা, গাজীপুর, নারায়ণগঞ্জ, মানিকগঞ্জ ও নরসিংদীর কারখানাগুলোতে এখনো অনুমোদিত মাত্রার তুলনায় অনেক কম চাপে গ্যাস পাওয়া যাচ্ছে।
পেট্রোবাংলা বলছে, গ্যাস সরবরাহ সংকটের আগের পর্যায়ে ফিরে এসেছে। তবে গ্যাসনির্ভর ১০টির বেশি কারখানার তথ্য ও সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, অনুমোদিত ১০–১৫ পিএসআইয়ের বিপরীতে অনেক কারখানা মাত্র ২–৩ পিএসআই চাপে গ্যাস পাচ্ছে। কোনো কোনো কারখানায় মাঝেমধ্যে চাপ ৭ পিএসআই পর্যন্ত উঠলেও তা স্থায়ী হচ্ছে না।
এদিকে, ভোলা ও সিলেটে গ্যাস সরবরাহ আগে থেকেই তুলনামূলকভাবে স্থিতিশীল ছিল।
অর্থাৎ, গত ২১ জুলাই সংকট শুরুর পর যেসব এলাকার শিল্পকারখানা সবচেয়ে বেশি ভুগছিল, সেগুলোর মধ্যে চট্টগ্রামেই পরিস্থিতি প্রায় স্বাভাবিক হয়েছে।
পেট্রোবাংলার কর্মকর্তারা বলছেন, সার্বিক গ্যাস সরবরাহ এখন ২১ জুলাইয়ের আগের পর্যায়ে ফিরেছে। তবে শিল্পকারখানায় আগের চাপ ফিরতে আরও কিছুটা সময় লাগতে পারে।
গাজীপুরের শ্রীপুরে অবস্থিত ইসরাক স্পিনিং মিলস লিমিটেডের দৈনিক সুতা উৎপাদন সক্ষমতা ১৮০ টন। প্রতিষ্ঠানটির অনুমোদিত গ্যাসের চাপ ১৫ পিএসআই। মূল পাইপলাইনের কাছাকাছি হওয়ায় প্রতিষ্ঠানটি অন্যদের তুলনায় ভালো চাপে গ্যাস পেত।
তবে বুধবার প্রতিষ্ঠানটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক ফজলুল হক দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ডকে বলেন, "আমরা ৩ পিএসআই চাপে গ্যাস পাচ্ছি। এটি আগের তুলনায় সামান্য বেশি। কিন্তু স্বাভাবিক উৎপাদন চালানোর জন্য যথেষ্ট নয়।"
নিটওয়্যার শিল্পমালিকদের সংগঠন বিকেএমইএর অভ্যন্তরীণ হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে কয়েকটি শিল্পপ্রতিষ্ঠান তাদের গ্যাসের চাপের তথ্য শেয়ার করেছে, যা দেখেছে টিবিএস।
এতে দেখা যায়, ফতুল্লার পোশাক কারখানা উইজডম অ্যাটায়ার্স লিমিটেড অনুমোদিত ১০ পিএসআইয়ের বিপরীতে দুপুর ১২টা ১৫ মিনিটে মাত্র ২ পিএসআই চাপে গ্যাস পাচ্ছিল।
ফতুল্লার বিসিক শিল্প এলাকায় বাইজিদ নিট গার্মেন্টস লিমিটেড অনুমোদিত ৫ পিএসআইয়ের বিপরীতে বুধবার দুপুর ১২টায় মাত্র ০.০১ পিএসআই চাপে গ্যাস পাচ্ছিল।
এ ছাড়া আরও কয়েকজন শিল্পমালিকের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, তাদের কারখানায় গ্যাসের চাপ ২ থেকে ৪ পিএসআইয়ের মধ্যে ওঠানামা করছিল।
সুতা উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান লিটল স্টার স্পিনিং মিলস লিমিটেডের চেয়ারম্যান খোরশেদ আলম টিবিএসকে বলেন, "গ্যাস সরবরাহ পরিস্থিতি আগের মতোই। অর্থাৎ চাপ ১ থেকে ২ পিএসআইয়ের মধ্যে থাকে।"
তবে তিনি বলেন, তার কারখানা পাইপলাইনের শেষ প্রান্তে হওয়ায় আগেও তুলনামূলক কম চাপে গ্যাস পেত। পরিস্থিতির আরও উন্নতি হবে বলে আশা করছেন তিনি।
অন্যদিকে, নারায়ণগঞ্জের আলী হোসাইন টেক্সটাইল লিমিটেডের সহকারী ব্যবস্থাপক মো. তানজিন হাকিম নাঈম বলেন, তাদের কারখানায় পরিস্থিতির উন্নতি হয়েছে।
তিনি বলেন, "দিনের বেলায় গ্যাসের চাপ ওঠানামা করেছে। তবে সন্ধ্যার পর ৫ থেকে ৬ পিএসআই পাওয়া যাচ্ছে।"
শিল্পমালিকরা বলছেন, স্পিনিং মিলে স্বাভাবিক উৎপাদনের জন্য কমপক্ষে ৭ পিএসআই গ্যাসের চাপ প্রয়োজন। তবে নিটওয়্যার কারখানায় এর চেয়ে কম চাপেও উৎপাদন চালানো যায়।
বর্তমান পরিস্থিতিতে উৎপাদনকারীরা গ্যাসের পাশাপাশি অন্যান্য উৎস থেকে পাওয়া জ্বালানি ব্যবহার করে উৎপাদন চালিয়ে যাচ্ছেন। এতে তারা ৫০ থেকে ৬০ শতাংশ এবং কোনো কোনো ক্ষেত্রে এর চেয়েও বেশি উৎপাদন করতে পারছেন।
এদিকে, চট্টগ্রামের শীর্ষস্থানীয় তৈরি পোশাক প্রস্তুতকারী এশিয়ান গ্রুপের নির্বাহী পরিচালক বেলায়েত হোসেন টিবিএসকে বলেন, সেখানে প্রায় সব কারখানায় গ্যাস সরবরাহ পরিস্থিতি আগের অবস্থার কাছাকাছি এসেছে।
তিনি বলেন, "২১ জুলাইয়ের আগে যে চাপ পাওয়া যেত, তার তুলনায় এখন গড়ে ৫ শতাংশ কম পাওয়া যাচ্ছে।"
শিল্পমালিকরা বলছেন, সার্বিকভাবে উৎপাদন আগের তুলনায় বেড়েছে।
পেট্রোবাংলার পরিচালক (অপারেশনস অ্যান্ড মাইনস) প্রকৌশলী মো. শোয়েব বলেন, সব স্টেশনে গ্যাসের প্রবাহ সংকটের আগের পর্যায়ে ফিরে এসেছে।
এরপরও শিল্পকারখানাগুলো কেন আগের মতো গ্যাসের চাপ পাচ্ছে না—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, "আগে থেকেই দৈনিক প্রায় ১,৩০০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাসের ঘাটতি ছিল।"
তিনি বলেন, শিল্পকারখানায় সরবরাহ করা গ্যাসের চাপ আরও বাড়বে।
