ইতিহাস বিকৃতির অভিযোগে ডাকসুর বিরুদ্ধে তদন্ত ও শাস্তির দাবি ছাত্র ফেডারেশনের
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) সংগ্রহশালায় অননুমোদিত পরিবর্তন ও ইতিহাস বিকৃতির অভিযোগ তুলে এর সুষ্ঠু তদন্ত এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে বিশ্ববিদ্যালয় আইন অনুযায়ী শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণসহ পাঁচ দফা দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ ছাত্র ফেডারেশন।
মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) বিকালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফুলার রোডে অবস্থিত স্বাধীনতা সংগ্রাম ভাস্কর্যের সামনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলন থেকে সংগঠনটির ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা এ দাবি জানায়।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন বাংলাদেশ ছাত্র ফেডারেশন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক সাদিক আহমেদ মাসুম।
লিখিত বক্তব্যে অভিযোগ করে তিনি বলেন, ডাকসু নেতৃবৃন্দ সংগ্রহশালায় জনপদের মানুষের সংগ্রামের ইতিহাস বিকৃত করেছেন। সংগ্রহশালায় ১৯৪৮ সালের ২১ মার্চ দেওয়া মোহাম্মদ আলী জিন্নাহর ভাষণকে 'ঐতিহাসিক বক্তব্য' হিসেবে চিত্রিত করা হলেও, উক্ত বক্তব্যের পরপরই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা যে 'মানি না, মানি না' স্লোগান দিয়ে প্রতিরোধ গড়ে তুলেছিলেন, তার কোনো স্মারক বা ছবি পাশে রাখা হয়নি।
তিনি বলেন, 'জিন্নাহর ছবির পাশে এই প্রতিবাদের ছবি না রাখা—এটাই বয়ানের রাজনীতি। জিন্নাহকে নিজেদের বয়ানের উপযোগী করে উপস্থাপন করার চেষ্টা করা হচ্ছে। ওই বক্তব্যের মধ্য দিয়ে জিন্নাহ এই অঞ্চলের মানুষের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছিলেন। তাই তার ছবিকে যারা পাশে কোনো প্রতিরোধের ছবি ছাড়া 'ঐতিহাসিক' হিসেবে উপস্থাপন করেছেন, তাদের অভিপ্রায় নিয়ে সন্দেহ রয়েছে।'
বক্তব্যে সাদিক আহমেদ মাসুম আরও জানান, এর প্রতিবাদে গতকাল তারা ডাকসু সংগ্রহশালা থেকে জিন্নাহর ছবিটি নামিয়ে ফেলেছেন। একইসঙ্গে মানুষের বিরুদ্ধে অবস্থান নিলে জনরোষের পরিণতি কী হয়, তার স্মারক হিসেবে জামায়াতে ইসলামীর সাবেক আমির ও রাজাকার গোলাম আযমকে জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমে জনতার জুতাপেটা করার একটি ছবি সেখানে টাঙিয়ে দেওয়া হয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনটির ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সাংগঠনিক সম্পাদক অর্ক বড়ুয়া বলেন, 'ডাকসু সংগ্রহশালার দায়িত্বে থাকা ডাকসুর মুক্তিযুদ্ধ ও গবেষণা বিষয়ক সম্পাদক এবং ডাকসুর সভাপতি হিসেবে উপাচার্য মহোদয় এই ঘটনার দায় এড়াতে পারেন না।'
ক্যাম্পাসের পরিস্থিতি নিয়ে অর্ক বড়ুয়া আরও বলেন, '৪৭ কিংবা '৭১-এর মতো মীমাংসিত বিষয় নিয়ে যারা নতুন করে বিতর্ক তৈরি করতে চায়, তাদের মূল উদ্দেশ্য ক্যাম্পাসকে অস্থিতিশীল করা। তাদের গতকালের পদক্ষেপের ফলে ক্যাম্পাস বরং আরও স্থিতিশীল হয়েছে বলে তিনি দাবি করেন।
ছাত্র ফেডারেশনের উত্থাপিত ৫ দফা দাবি
১. ডাকসু সংগ্রহশালায় অননুমোদিত পরিবর্তন ও ইতিহাস বিকৃতির ঘটনা সুষ্ঠুভাবে তদন্ত করা এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিধি মোতাবেক ব্যবস্থা গ্রহণ করা।
২. ডাকসু সংগ্রহশালা থেকে যা কিছু সরানো হয়েছে, তার পূর্ণাঙ্গ তালিকা জনসম্মুখে প্রকাশ করা এবং অপসারিত ঐতিহাসিক চিত্র ও স্মারক পুনর্বহাল করা।
৩. মহান বিজয় দিবসের আগেই স্বাধীনতা সংগ্রাম ভাস্কর্য চত্বর সংস্কার করা এবং ধ্বংসকৃত সকল ভাস্কর্য পুনর্নির্মাণ করা।
৪. ক্যাম্পাসজুড়ে থাকা সকল স্থাপনা সংস্কার ও সংরক্ষণে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া।
৫. দেশজুড়ে সংগঠিত মব সন্ত্রাস ও দঙ্গলের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া।
