ড্যাপ বাস্তবায়নে কর্তৃপক্ষের নিষ্ক্রিয়তা কেন অবৈধ নয়: হাইকোর্ট
রাজধানী ঢাকার বিশদ অঞ্চল পরিকল্পনা (ড্যাপ) বাস্তবায়ন কেন দৃশ্যমান হচ্ছে না এবং পরিকল্পনাটি যথাযথভাবে বাস্তবায়নে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নিষ্ক্রিয়তা কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না—তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেছেন আদালত।
আইন ও মানবাধিকার বিষয়ক সংগঠন 'মানবাধিকার ও সমাজ উন্নয়ন সংস্থা'র (মওসুস)- দায়ের করা এক রিট আবেদনের ওপর শুনানি নিয়ে সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) বিচারপতি খিজির আহমেদ চৌধুরী ও বিচারপতি এ এফ এম সাইফুল করিমের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট ডিভিশন বেঞ্চ এ আদেশ দেন।
গৃহায়ন ও গণপূর্ত সচিব, রাজউক চেয়ারম্যানসহ সংশ্লিষ্টদেরকে চার সপ্তাহের মধ্যে রুলের জবাব দিতে বলেছেন আদালত।
আদালতে রিটের পক্ষে শুনানি করেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী এবং মানবাধিকার ও সমাজ উন্নয়ন সংস্থার (মওসুস) চেয়ারম্যান ডক্টর মো. গোলাম রহমান ভূঁইয়া।
রিট আবেদনে সংবিধানের ২৭ অনুচ্ছেদের (আইনের দৃষ্টিতে সমতা) উল্লেখ করে বলা হয়, রাজধানী ঢাকার পরিকল্পিত, পরিবেশবান্ধব ও জনবান্ধব নগরায়ণের লক্ষ্যে ড্যাপ প্রণয়ন করা হয়েছিল। কিন্তু দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও এর বাস্তবায়ন কাঙ্ক্ষিত মাত্রায় দৃশ্যমান নয়। ফলে নগরে জলাধার ও উন্মুক্ত স্থান দখল, অপরিকল্পিত ভবন নির্মাণ, পরিবেশের মারাত্মক ভারসাম্যহীনতা এবং অসহনীয় যানজটসহ নানা নাগরিক সংকট তীব্র হচ্ছে।
ড্যাপের বিধান বাস্তবায়নে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যকর পদক্ষেপ ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতেই জনস্বার্থে এ রিট আবেদনটি করা হয়।
শুনানি শেষে ড. মো. গোলাম রহমান ভূঁইয়া বলেন, 'ড্যাপের কার্যকর বাস্তবায়ন কেবল কোনো সাধারণ নগর পরিকল্পনার বিষয় নয়; এটি নাগরিকদের মৌলিক অধিকার, পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের নিরাপদ বসবাসের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত।'
হাইকোর্টের এই আদেশের ফলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জবাবদিহিতা বৃদ্ধি পাবে এবং ঢাকার টেকসই ও পরিকল্পিত রূপান্তর ত্বরান্বিত হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
