সাগর-রুনি হত্যার বিচার চেয়ে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে পরিবারের লিখিত অভিযোগ
সাংবাদিক দম্পতি সাগর সরওয়ার ও মেহেরুন রুনি হত্যা মামলার বিচার চেয়ে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে লিখিত অভিযোগ দাখিল করেছে তার পরিবার।
রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) পরিবারের পক্ষে মেহেরুন রুনির ভাই নওশের আল রোমান ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর আমিনুল ইসলামের হাতে এ অভিযোগ তুলে দেন।
অভিযোগ গ্রহণের পর সাংবাদিকদের চিফ প্রসিকিউটর আমিনুল ইসলাম জানান, সাগর-রুনি হত্যাকাণ্ডের বিচার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের অধিক্ষেত্রে পড়ে কি না বা এখানে বিচার সম্ভব কি না, তা আইনানুযায়ী যাচাই-বাছাই করবে প্রসিকিউশন টিম। পাশাপাশি প্রাথমিক তদন্তের ভিত্তিতে কোনো নতুন তথ্য পাওয়া গেলে তা সংশ্লিষ্ট টাস্কফোর্সকে হস্তান্তর করা হবে।
হাইকোর্টের নির্দেশে সাগর-রুনি হত্যা মামলাটির তদন্ত বর্তমানে একটি বিশেষ টাস্কফোর্স পরিচালনা করছে। এর আগে নিম্ন আদালতে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার জন্য তদন্তকারী কর্মকর্তা এ পর্যন্ত ১২৯ বার সময় নিয়েছেন।
চিফ প্রসিকিউটর আরও জানান, চট্টগ্রামে জুলাই গণহত্যা মামলার সাক্ষীদের ভয়ভীতি ও হুমকি দেওয়ার কিছু অভিযোগ প্রসিকিউশন পেয়েছে। বিষয়টি তদন্ত করে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
কোনো ধরনের হুমকি বা ভয়ভীতি দেখিয়ে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের বিচারকার্য ব্যাহত করা যাবে না বলেও হুঁশিয়ারি দেন তিনি।
সাগর রুনি হত্য মামলার লিখিত অভিযোগে বলা হয়, ২০১২ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি রাত ২টা থেকে সকাল ৭টার মধ্যে রাজধানীর পশ্চিম রাজাবাজারের ভাড়া বাসায় মাছরাঙা টেলিভিশনের বার্তা সম্পাদক সাগর সরওয়ার ও এটিএন বাংলার সিনিয়র করেসপন্ডেন্ট মেহেরুন রুনি খুন হন। কিন্তু দীর্ঘ ১৪ বছরেও এ হত্যাকাণ্ডের কোনো কিছু বের করতে পারেনি একাধিক তদন্ত সংস্থা।
এতে আরও উল্লেখ করা হয়, ঘটনার পর সংশ্লিষ্ট থানা পুলিশ, গোয়েন্দা পুলিশ ও র্যাব ব্যর্থ হওয়ার পর হাইকোর্টের নির্দেশে মামলাটি পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনকে (পিবিআই) তদন্ত করতে দেওয়া হয়। অথচ সংস্থাটি তদন্ত করলেও এখন পর্যন্ত কোনো সমাধান পাওয়া যায়নি। তাই আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের মাধ্যমে সুষ্ঠু ও সঠিক তদন্ত করে প্রকৃত হত্যাকারীদের খুঁজে বের করে বিচারের আওতায় আনার দাবি জানান পরিবারের সদস্যরা।
এছাড়া দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিতের দাবি জানানোর পাশাপাশি অভিযোগটি রেজিস্টারভুক্ত করে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার কথা উল্লেখ করেন তারা।
