আগুনে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের নথি-সার্ভার ক্ষতিগ্রস্ত
রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র প্রকল্পের পাইওনিয়ার বেজে একটি অভ্যন্তরীণ সার্ভার কক্ষে আগুনে সার্ভার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এ ছাড়াও বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ নথিও পুড়ে গেছে। গত সোমবার ভোর ৪টার দিকে এ ঘটনা ঘটলেও দুদিন পর গতকাল বুধবার বিষয়টি জানাজানি হয়।
১২.৬৫ বিলিয়ন ডলার ব্যয়ে নির্মাণাধীন এই প্রকল্পের মালিক বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি কমিশন (বিএইসি) এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয় ঘটনাটি নিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানায়নি। জানা গেছে, অগ্নিকাণ্ডে প্ল্যান্টে সংরক্ষিত বিপুল সংখ্যক সরকারি নথিপত্র ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তবে প্রকল্প কর্মকর্তাদের দাবি, সব নথির ডিজিটাল ব্যাকআপ আছে।
আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার (আইএইএ) তথ্য অনুযায়ী, পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের অভ্যন্তরীণ সার্ভারগুলোতে কেন্দ্রের কার্যক্রম, নিরাপত্তা, লজিস্টিকস, যোগাযোগ, নিয়ন্ত্রক সংস্থার নিয়ম মেনে চলা এবং বিভিন্ন নথি ব্যবস্থাপনা-সংক্রান্ত বিপুল পরিমাণ তথ্য সংরক্ষণ ও প্রক্রিয়াজাত করা হয়।
আইএইএ জানিয়েছে, পারমাণবিক স্থাপনাগুলোতে সাধারণত আলাদা ও কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রিত নেটওয়ার্ক ব্যবহার করা হয়। তাই কোনো অভ্যন্তরীণ সার্ভার কক্ষ ক্ষতিগ্রস্ত হলে প্রশাসনিক ও লজিস্টিক কার্যক্রমে বড় ধরনের সমস্যা তৈরি হতে পারে। তবে নিরাপত্তা-সংশ্লিষ্ট সিস্টেমগুলো সচল থাকলে এতে সরাসরি পারমাণবিক নিরাপত্তা হুমকির মুখে পড়ার কথা নয়।
বুধবার রাতে এক বিবৃতিতে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ প্রকল্প ও বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি কমিশন জানায়, অগ্নিকাণ্ডের স্থানটি রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের মূল স্থাপনার বাইরে অবস্থিত। ফলে এ ঘটনায় বিদ্যুৎকেন্দ্রের মূল স্থাপনাসমূহের নির্মাণ কার্যক্রম ও কমিশনিং কার্যক্রম প্রভাবিত হওয়ার সুযোগ নাই এবং বিদ্যুৎকেন্দ্রের কার্যক্রম স্বাভাবিকভাবে অব্যাহত রয়েছে।
আরও বলা হয়, অগ্নিকাণ্ডে অস্থায়ী ভবনের দুটি কক্ষের অফিস আসবাবপত্র, ডকুমেন্টস, আইটি ও যোগাযোগ-সংক্রান্ত সরঞ্জামাদি আংশিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। প্রাথমিকভাবে স্প্লিট-টাইপ এসি'র ইনডোর ইউনিটের ত্রুটি থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়ে থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে, বিষয়টি এখনো তদন্তাধীন।
জানতে চাইলে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. আনোয়ার হোসেন টিবিএসকে বলেন, ঘটনাটি তেমন গুরুতর নয়। এতে বিদ্যুৎকেন্দ্রের কার্যক্রমে কোনো প্রভাব পড়বে না।
তিনি বলেন, "চার সেট হার্ড কপি ম্যানুয়ালি সংরক্ষণ করা আছে। তাই অভ্যন্তরীণ সার্ভার কক্ষ ক্ষতিগ্রস্ত হলেও এতে কোনো প্রভাব পড়বে না।"
ফায়ার সার্ভিস প্রাথমিকভাবে ধারণা করেছে, বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিট থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়ে থাকতে পারে। বিষয়টি খতিয়ে দেখার জন্য একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।
