উৎপাদন ব্যয় ও যৌক্তিক মুনাফা বিবেচনা করে ওষুধের দাম নির্ধারণ করা হয়: স্বাস্থ্যমন্ত্রী
স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন জানিয়েছেন, ওষুধের দাম নির্ধারণ ও অনুমোদনের ক্ষেত্রে উৎপাদন বা আমদানি ব্যয়, কাঁচামালের মূল্য, কর-শুল্ক, সরবরাহ ব্যয়, বাজারদর এবং যৌক্তিক মুনাফাসহ বিভিন্ন বিষয় বিবেচনা করে সরকার। অযৌক্তিকভাবে নির্ধারিত মূল্যের বেশি দামে ওষুধ বিক্রি করলে আইন অনুযায়ী শাস্তির বিধান রয়েছে।
সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) জাতীয় সংসদের অধিবেশনে মহিলা আসন-৫-এর সংসদ সদস্য নেওয়াজ হালিমা আরলীর এক প্রশ্নের লিখিত জবাবে এ তথ্য জানান তিনি।
এসময় মন্ত্রী জানান, দেশের প্রাইমারি হেলথ কেয়ার তালিকাভুক্ত অধিকাংশ ওষুধের মূল্য সরকার নির্ধারণ করে। এসব মূল্যকে বেঞ্চমার্ক হিসেবে বিবেচনা করা হয়। প্রাইমারি হেলথ কেয়ার তালিকায় থাকা ১১৭টি ওষুধের বিভিন্ন ডোজ ও ফরমের মূল্য নির্ধারণ করেছে সরকার।
তিনি আরও বলেন, সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানকে ওই মূল্যসীমার মধ্যে সর্বোচ্চ খুচরা মূল্য নির্ধারণের জন্য নির্ধারিত ফরমে প্রস্তাব দিতে হয়। আবেদন যাচাইয়ের পর প্রস্তাবিত মূল্যের অনুমোদন দেওয়া হয় এবং মূল্যসনদ ইস্যু করা হয়।
মন্ত্রী বলেন, অন্যদিকে প্রাইমারি হেলথ কেয়ার তালিকার বাইরে থাকা ওষুধের মূল্যকে 'নির্দেশক মূল্য' হিসেবে অভিহিত করা হয়। এসব ওষুধের দাম সংশ্লিষ্ট উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান নিজেরাই নির্ধারণ করে। পরে ভ্যাট প্রদানের জন্য ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তরের কাছে নির্ধারিত ফরমে মূল্যসনদের আবেদন করতে হয়।
তিনি বলেন, এ ধরনের আবেদনের সঙ্গে প্রস্তাবিত মূল্য, বৈধ মেয়াদের অ্যানেক্সার, সক্রিয় উপাদানের অনুমোদিত ব্লকলিস্টের কপি এবং মূল্য পুনর্নির্ধারণের ক্ষেত্রে আগের মূল্যসনদের কপি জমা দিতে হয়। প্রতিষ্ঠানের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে লাইসেন্সিং কর্তৃপক্ষ মূলত ভ্যাট প্রদানের উদ্দেশ্যে মূল্যসনদ ইস্যু করে।
ওষুধের দাম নির্ধারণে নতুন কাঠামোর কথা তুলে ধরে মন্ত্রী জানান, ঔষধ ও কসমেটিকস আইন, ২০২৩-এর ১২ ধারা অনুযায়ী 'ঔষধের মূল্য নির্ধারণ কমিটি' পুনর্গঠন করা হয়েছে। ১৫ সদস্য ও চার পর্যবেক্ষক নিয়ে গঠিত এ কমিটির সভাপতি স্বাস্থ্য সেবা বিভাগের সিনিয়র সচিব বা সচিব। ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তরের মহাপরিচালক কমিটির সদস্যসচিব।
ঔষধ শিল্প ও ব্যবসায়ী সংগঠনের প্রতিনিধিরা এ কমিটিতে পর্যবেক্ষক হিসেবে থাকলেও সিদ্ধান্ত গ্রহণে তাদের কোনো ভোটাধিকার নেই বলে জানান মন্ত্রী।
তিনি বলেন, আইন, সংশ্লিষ্ট বিধিমালা এবং সরকারি ঔষধমূল্য নীতির আলোকে তালিকাভুক্ত, আমদানিকৃত ও দেশে উৎপাদিত ওষুধের সর্বোচ্চ খুচরা মূল্য নির্ধারণ, অনুমোদন এবং প্রয়োজন অনুযায়ী পুনর্নির্ধারণ করবে এই কমিটি। মূল্য নির্ধারণের সময় উৎপাদন বা আমদানি ব্যয়, কর ও শুল্ক, সরবরাহ ব্যবস্থার যৌক্তিক ব্যয়, দেশীয় ও প্রাসঙ্গিক আন্তর্জাতিক মূল্য, বাজারে বিকল্প ওষুধের প্রাপ্যতা এবং যৌক্তিক মুনাফা বিবেচনা করা হবে।
তিনি আরও বলেন, পাশাপাশি কোনো ওষুধ কতটা অপরিহার্য, সংশ্লিষ্ট রোগের বোঝা, জনগণের ক্রয়ক্ষমতা, সরকারি স্বাস্থ্যব্যয়ে সম্ভাব্য প্রভাব এবং বাজারে পর্যাপ্ত সরবরাহ রয়েছে কি না—এসব বিষয়ও মূল্যায়ন করবে কমিটি।
মন্ত্রী জানান, ঔষধ ও কসমেটিকস আইন, ২০২৩-এর ৩০(৪) ধারা অনুযায়ী নির্ধারিত মূল্যের বেশি দামে ওষুধ বিক্রি করা দণ্ডনীয় অপরাধ। এ অপরাধে সর্বোচ্চ দুই বছরের কারাদণ্ড বা সর্বোচ্চ দুই লাখ টাকা অর্থদণ্ড অথবা উভয় দণ্ডের বিধান রয়েছে।
