উদ্যোক্তাদের ঋণগ্রহীতা নয়, বরং অংশীদার হিসেবে দেখতে হবে: অর্থমন্ত্রী
উদ্যোক্তাদের ঋণগ্রহীতা নয়, বরং অংশীদার হিসেবে বিবেচনা করার আহ্বান জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।
তিনি বলেন, 'ফাইন্যান্সিংয়ের সঙ্গে হৃদয় থেকে ভালোবাসা থাকতে হবে। ফাইন্যান্সিং ইজ নট এনাফ। আপনি যে মানুষটির সঙ্গে ফাইন্যান্সিং করছেন, তার সঙ্গে আপনার একটি বন্ধন থাকতে হবে। তাকে সাপোর্ট দিতে হবে। হি ইজ এ পার্টনার, নট বরোয়ার। তাকে পার্টনার হিসেবে দেখতে হবে। সেটা করতে পারলে অনেকটা কাজ এগিয়ে যায়।'
সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে কর্মসংস্থান ব্যাংকের উদ্যোগে আয়োজিত 'স্মল বিজনেস মাইক্রোফাইন্যান্স অ্যান্ড মাইক্রো এন্টারপ্রাইজ ফান্ড (এসবিএমএমইএফ)-প্রকল্পের উদ্বোধন ও ঋণের চেক বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
কর্মসংস্থান ব্যাংকের কর্মকর্তাদের উদ্দেশে অর্থমন্ত্রী বলেন, 'শুধু ঋণ দিলেই হবে না; ঋণগ্রহীতাদের পণ্যের মানোন্নয়ন, দক্ষতা উন্নয়ন, নকশা, ব্র্যান্ডিং ও বিপণনেও সহায়তা দিতে হবে।'
আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, 'দেশের শিক্ষিত, অর্ধশিক্ষিত ও দরিদ্র মানুষের মধ্যে ব্যাপক সৃজনশীলতা রয়েছে। অর্থের অভাবে অনেকেই তাদের সৃজনশীলতাকে কাজে লাগাতে পারেন না। আবার অনেকে ব্যাংকে যেতে ভয় পান কিংবা ব্যাংকিং সেবার আওতার বাইরে রয়েছেন। তাই তাদের কাছে অর্থায়ন পৌঁছে দেওয়া জরুরি।'
তিনি বলেন, '৫০ কোটি টাকার এসবিএমএমইএফ প্রকল্পটি একটি পাইলট উদ্যোগ। অতিদরিদ্র, প্রান্তিক, সুবিধাবঞ্চিত, পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর মধ্যে যারা ব্যাংকে যেতে ভয় পান, তাদের আর্থিক অন্তর্ভুক্তির মাধ্যমে কর্মসৃজন করে জাতীয় অর্থনীতিতে অবদান রাখতে প্রকল্পটি পাইলটিং কার্যক্রম হিসেবে গ্রহণ করা হয়েছে।'
গ্রামীণ অর্থনীতির সম্ভাবনার কথা তুলে ধরে অর্থমন্ত্রী বলেন, 'তাঁতি, কাঁসাশিল্পী ও মৃত্তিকাশিল্পীসহ ঐতিহ্যবাহী বিভিন্ন পেশার সঙ্গে যুক্ত পরিবারগুলো প্রজন্মের পর প্রজন্ম একই কাজ করে আসছে। তাদের দক্ষতা বাড়ানোর পাশাপাশি আধুনিক নকশা, মানসম্মত কাঁচামাল, ব্র্যান্ডিং ও বিপণনে সহায়তা করা গেলে এসব পণ্যের মূল্য অনেক বাড়ানো সম্ভব।'
তিনি বলেন, 'এসব ক্ষেত্রে সহায়তা দেওয়া গেলে ১০০ টাকার একটি পণ্যকে মূল্য সংযোজনের মাধ্যমে ২০০ থেকে ৩০০ টাকার পণ্যে উন্নীত করা সম্ভব হবে।'
আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, 'সরকার সৃজনশীল অর্থনীতির ওপরও গুরুত্ব দিচ্ছে। প্রান্তিক পর্যায়ের সৃজনশীল মানুষদের শুধু ঋণ দেওয়াই নয়, তাদের প্রশিক্ষণ, পণ্যের ব্র্যান্ডিং ও বিপণনের মাধ্যমে বাজারের সঙ্গে যুক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।'
কর্মসংস্থান ব্যাংককে এ ধরনের কর্মসূচি গ্রহণের আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, 'সৃজনশীলতা ও প্রতিভাকে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে যুক্ত করতে হবে। গানসহ বিভিন্ন সৃজনশীল কাজের সঙ্গে যুক্ত মানুষদেরও প্রমোট করা যেতে পারে। তাদের সৃজনশীলতাকে অর্থনৈতিকভাবে মূল্য সংযোজন করে বাজারজাত করার মাধ্যমে অর্থনীতির মূল স্রোতে নিয়ে আসতে চায় সরকার।'
কর্মসংস্থান ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক অরুন কুমার চৌধুরী বলেন, 'সরকার আগামী ৫ বছরে দেশে এক কোটি কর্মসংস্থান সৃষ্টির যে লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে, তার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে কর্মসংস্থান ব্যাংক আগামী পাঁচ বছরে ৯ লাখ বেকারের কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে।'
তিনি আরও বলেন, 'এসবিএমএমইএফ প্রকল্পের ঋণের সুদের হার ৬% এবং ঋণ বিতরণে ৫০ শতাংশ নারী উদ্যোক্তাদের অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। প্রাথমিকভাবে দেশের ৩টি জেলা- কুড়িগ্রাম, শেরপুর ও বরগুনায় এ প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করা হবে।'
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন কর্মসংস্থান ব্যাংক পরিচালনা বোর্ডের চেয়ারম্যান ড. এ এফ এম মতিউর রহমান।
