আগামী ১৫ দিনের মধ্যে বিদ্যুৎ পরিস্থিতির উন্নতির আশা জ্বালানি প্রতিমন্ত্রীর
দেশের চলমান বিদ্যুৎ সংকট আগামী ১৫ দিনের মধ্যে কিছুটা কমে আসবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত।
তিনি বলেন, 'সরকার আশা করছে আগামী ১৫ দিনের মধ্যে বিদ্যুৎ পরিস্থিতির উন্নতি হবে। আমরা সর্বোচ্চ চেষ্টা করছি। যে কষ্ট বাংলাদেশের মানুষকে আগস্ট মাসে পোহাতে হয়েছে, অন্তত সেপ্টেম্বর মাসে যেন এই কষ্ট না পোহাতে হয়।'
বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) জাতীয় সংসদে প্রশ্নোত্তর পর্বে চাঁপাইনবাবগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য মো. নূরুল ইসলামের এক সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে প্রতিমন্ত্রী এসব কথা বলেন। স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমেদ অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন।
এসময় প্রতিমন্ত্রী বলেন, 'বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে আমরা কোনো লুকোচুরি করতে চাই না। মানুষ বিদ্যুৎ ও গ্যাসের অভাবে কষ্টে আছে। এ জন্য আমি আমার মন্ত্রণালয় এবং প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের পক্ষ থেকে দেশবাসীর কাছে দুঃখ প্রকাশ করছি। তবে আজকের এই পরিস্থিতি একদিনে তৈরি হয়নি। বিগত দেড় দশক ধরে ফ্যাসিস্ট সরকারের ভুল নীতির অনিবার্য পরিণতি আজ এ দেশের মানুষকে ভোগ করতে হচ্ছে।'
এই পরিস্থিতির জন্য তিনি দীর্ঘদিনের ভুল জ্বালানি নীতি, আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংকট এবং সাম্প্রতিক সময়ে গ্যাস সরবরাহ ব্যবস্থায় তৈরি হওয়া সমস্যাকে দায়ী করেন।
প্রতিমন্ত্রী জানান, গত ২১ জুলাই এলএনজি সরবরাহের একটি ভাসমান টার্মিনালে (এফএসআরইউ) ত্রুটি দেখা দেয়। এরপর প্রায় ২১-২২ দিন গ্যাস সরবরাহে বড় ধরনের বিঘ্ন ঘটে। মেরামতের পর ১৫ আগস্ট এটি পূর্ণ সক্ষমতায় চালু হলেও সরবরাহ এখনও পুরোপুরি স্বাভাবিক হয়নি।
তিনি বলেন, 'বর্তমানে সরবরাহ প্রায় ৮৮% স্বাভাবিক হয়েছে। সেপ্টেম্বরের প্রথম দিকেই গ্যাস সরবরাহ পুরোপুরি স্বাভাবিক করার আশা করছে সরকার। গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক হলে বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোতে জ্বালানি সরবরাহ বাড়বে।'
তিনি বলেন, 'নতুন একটি এফএসআরইউ স্থাপনের উদ্যোগও নেওয়া হয়েছে। চুক্তি দ্রুত সম্পন্ন করা গেলে ২০২৮ সালের পর এর সুফল পাওয়া যাবে।'
তিনি আরও বলেন, একই সঙ্গে পায়রা বিদ্যুৎকেন্দ্রের ৬১৬ মেগাওয়াটের একটি ইউনিট কারিগরি ত্রুটির কারণে বন্ধ এবং মাতারবাড়ীর একটি ইউনিট রক্ষণাবেক্ষণে রয়েছে। এগুলো দ্রুত চালু করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, চাহিদা ও সরবরাহের বড় ব্যবধান থাকায় সরকার ব্যয়বহুল ফার্নেস অয়েলভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রও বাড়তি ব্যবহারের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এসব কেন্দ্র থেকে বর্তমানে প্রায় ৩২০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন করা হচ্ছে। এসব কেন্দ্রের সর্বোচ্চ ৪০০০ মেগাওয়াট পর্যন্ত উৎপাদনের সক্ষমতা রয়েছে।
তিনি বলেন, অর্থ মন্ত্রণালয় থেকে সম্প্রতি ৬০০০ কোটি টাকা বরাদ্দ পাওয়া গেছে। এই অর্থ বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোর বকেয়া পরিশোধে ব্যবহার করা হবে, যাতে কেন্দ্রগুলো বাড়তি বিদ্যুৎ উৎপাদন করতে পারে।
প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, আদানি গ্রুপের সঙ্গে আগের সরকারের করা চুক্তি অনুযায়ী ১৬০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ পাওয়ার কথা থাকলেও বর্তমানে দিনে প্রায় ৯০০ মেগাওয়াট এবং সন্ধ্যায় প্রায় ১১০০ মেগাওয়াট পাওয়া যাচ্ছে।
চলমান সংকটের দীর্ঘমেয়াদি সমাধানে ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদন বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে জানিয়েছেন অনিন্দ্য ইসলাম অমিত।
তিনি বলেন, 'আগামী গ্রীষ্ম ও সেচ মৌসুম সামনে রেখে দ্রুত উৎপাদনে আসতে পারে—এমন রুফটপ সোলার প্রকল্প নেওয়া হচ্ছে। আগামী ছয় মাসের মধ্যে স্থাপিত কিছু রুফটপ সোলার ব্যবস্থা থেকে উৎপাদিত উদ্বৃত্ত বিদ্যুৎ তিন বছর পর্যন্ত প্রতি ইউনিট ১০.৫০ টাকা দরে সরকারের কাছে বিক্রির সুযোগ দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।'
প্রতিমন্ত্রী বিদ্যুৎ ব্যবহারে সাশ্রয়ী হওয়ার আহ্বান জানিয়ে রাত ৮টার মধ্যে বিপণিবিতান ও দোকানপাট বন্ধের সরকারি নির্দেশনা বাস্তবায়নে সংসদ সদস্যদের সহযোগিতা চান।
