দুই বছরে এলএনজি আমদানি ৬০০ এমএমসিএফডি বাড়ানোর পরিকল্পনা সরকারের
জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় আগামী দুই বছরের মধ্যে দেশে এলএনজি আমদানি আরও ৬০০ মিলিয়ন ঘনফুট (এমএমসিএফডি) বাড়ানোর পরিকল্পনা নিয়েছে সরকার। এর অংশ হিসেবে কক্সবাজারের মহেশখালীর কুতুবজোমে নতুন একটি ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল স্থাপনের জন্য আগ্রহী প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে আলোচনা চলছে।
বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) জাতীয় সংসদের প্রশ্নোত্তর পর্বে মহিলা আসন-৩৫-এর সংসদ সদস্য সেলিনা সুলতানার প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এ তথ্য জানান। স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমেদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সংসদ অধিবেশনে প্রধানমন্ত্রীর প্রশ্নের উত্তর দেওয়া হয়।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, 'বিগত স্বৈরাচার সরকারের সময়, স্বয়ংসম্পূর্ণ সরকারি প্রতিষ্ঠান বাপেক্সকে রীতিমত পঙ্গু করে রাখা হয়েছিল। তার ফলে দীর্ঘদিনের অপর্যাপ্ত গ্যাস অনুসন্ধানের কারণে আমদানি নির্ভরতা সৃষ্টি হয়েছে। এ কারণে সৃষ্ট জ্বালানি সংকট থেকে দেশকে বের করে আনার জন্য বর্তমান সরকার বেশকিছু পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে।'
প্রধানমন্ত্রী বলেন, 'মহেশখালীর কুতুবজোমে প্রস্তাবিত ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল থেকে ২০২৮ সালের ডিসেম্বর নাগাদ রিগ্যাসিফাইড এলএনজি বা গ্যাস সরবরাহ করা সম্ভব হবে বলে সরকার আশা করছে। এর ফলে আগামী দুই বছরের মধ্যে এলএনজি আমদানি সক্ষমতা আরও ৬০০ এমএমসিএফডি বাড়বে।'
এ ছাড়া পায়রা বা মোংলা বন্দর এলাকা অথবা দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের সমুদ্র উপকূলে জরুরি ভিত্তিতে আরও এক থেকে দুটি ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল স্থাপনের সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানান প্রধানমন্ত্রী।
তবে আমদানিনির্ভরতা কমিয়ে দেশীয় উৎস থেকে গ্যাস উৎপাদন বাড়ানোর ওপরও জোর দিচ্ছে সরকার।
প্রধানমন্ত্রীর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, দেশীয় গ্যাস উৎপাদন বাড়াতে ১৫০টি কূপ খনন ও ওয়ার্কওভারের কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে ৩০টি কূপ খননের কাজ ইতোমধ্যে শেষ হয়েছে। এসব কূপ থেকে দৈনিক ১৪০ এমএমসিএফডি গ্যাস জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হয়েছে।
বর্তমানে আরও সাতটি কূপ খননের কাজ চলছে। এগুলোর কাজ শেষ হলে জাতীয় গ্রিডে আরও ৮৫ এমএমসিএফডি গ্যাস যুক্ত হবে বলে জানান প্রধানমন্ত্রী। বাকি কূপগুলো খননের জন্য পর্যায়ক্রমে প্রকল্প নেওয়া হচ্ছে।
দেশে নতুন গ্যাসের উৎস অনুসন্ধানে ৪ হাজার ৫০০ লাইন কিলোমিটার ২ডি সাইসমিক সার্ভে এবং ৪ হাজার ২০০ বর্গকিলোমিটার ৩ডি সাইসমিক সার্ভে পরিচালনার পরিকল্পনাও নেওয়া হয়েছে।
দেশীয় অনুসন্ধান সক্ষমতা বাড়াতে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম এক্সপ্লোরেশন অ্যান্ড প্রোডাকশন কোম্পানি লিমিটেডকে (বাপেক্স) আরও শক্তিশালী করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ লক্ষ্যে দুটি নতুন রিগ কেনার প্রক্রিয়া চলছে।
এ ছাড়া সমুদ্র ও স্থলভাগে গ্যাস অনুসন্ধানে নতুন বিনিয়োগ আকর্ষণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। অফশোর মডেল পিএসসি (প্রোডাকশন শেয়ারিং কনট্রাক্ট) ২০২৬ অনুমোদনের পর বিড রাউন্ড আহ্বান করা হয়েছে। অনশোর মডেল পিএসসি অনুমোদনের প্রক্রিয়াও চলছে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, 'অফশোর ও অনশোর গ্যাস অনুসন্ধানের মাধ্যমে নতুন গ্যাসের মজুত পাওয়া গেলে তা দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।'
সরকারের কর্মপরিকল্পনায় একই সঙ্গে দেশীয় গ্যাস উৎপাদন বৃদ্ধি, নতুন গ্যাসক্ষেত্র অনুসন্ধান এবং এলএনজি অবকাঠামো সম্প্রসারণকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। এর মাধ্যমে দীর্ঘদিনের অপর্যাপ্ত গ্যাস অনুসন্ধান ও আমদানিনির্ভরতার কারণে তৈরি হওয়া জ্বালানি সংকট কাটিয়ে একটি স্বনির্ভর ও টেকসই জ্বালানি ব্যবস্থা গড়ে তোলার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে বলে সংসদে জানান প্রধানমন্ত্রী।
