চট্টগ্রামে ‘সন্ত্রাসী’ পিচ্চি জাহিদকে কুপিয়ে হত্যা
চট্টগ্রামের সাতকানিয়ায় পুলিশের তালিকাভুক্ত 'সন্ত্রাসী' জাহিদুল ইসলাম ওরফে পিচ্চি জাহিদকে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। রোববার (৩০ আগস্ট) রাতে উপজেলার পুরানগড় ইউনিয়নের মনোয়ারাবাদ এলাকায় মোটরসাইকেলে করে যাওয়ার সময় তার ওপর এই হামলার ঘটনা ঘটে।
নিহত জাহিদুল ইসলাম পুরানগড় ইউনিয়নের বাসিন্দা। চট্টগ্রাম নগর ও জেলা পুলিশের তালিকাভুক্ত এই 'সন্ত্রাসীর' বিরুদ্ধে বিভিন্ন থানায় হত্যা, অস্ত্র ও মাদকসহ অন্তত ১২টি মামলা রয়েছে।
চট্টগ্রাম জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সাতকানিয়া সার্কেল) আরিফুল ইসলাম সিদ্দিকী বলেন, 'মোটরসাইকেলে করে যাওয়ার সময় দুর্বৃত্তরা জাহিদুলকে কুপিয়ে মাথাসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে গুরুতর জখম করে। গুরুতর আহত অবস্থায় জাহিদুলকে স্থানীয় একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।'
তিনি আরও বলেন, 'কারা এ হত্যাকাণ্ডে জড়িত, তা আমরা খতিয়ে দেখছি। প্রাথমিকভাবে জেলার বিভিন্ন থানায় জাহিদুলের বিরুদ্ধে হত্যা ও অস্ত্রসহ ছয়টি মামলার তথ্য পাওয়া গেছে।' পুলিশের প্রাথমিক ধারণা, পূর্ব শত্রুতার জেরে পরিকল্পিতভাবে তাকে হত্যা করা হয়েছে।
স্থানীয়দের তথ্যমতে, জাহিদুল ইসলাম ওরফে পিচ্চি জাহিদ চট্টগ্রাম নগরীর ফিরোজশাহ এলাকায় বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত ছিলেন। চলতি বছরের শুরুতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হাতে গ্রেপ্তার হয়েছিলেন তিনি।
পুলিশের রেকর্ড অনুযায়ী, জাহিদের বিরুদ্ধে হত্যা, অস্ত্র ও মাদকসহ অন্তত ১২টি মামলা রয়েছে। এসব মামলার মধ্যে চট্টগ্রাম জেলার বিভিন্ন থানায় ছয়টি এবং নগরীর বিভিন্ন থানায় আরও কয়েকটি মামলা নথিভুক্ত রয়েছে। এসব মামলায় হত্যা, অবৈধ অস্ত্র, বিস্ফোরক ও মাদকসংক্রান্ত অভিযোগ রয়েছে। নগরীর ফিরোজশাহ এলাকায় মাদক ব্যবসা, চাঁদাবাজি ও অস্ত্রবাজির সঙ্গে তার সম্পৃক্ততার অভিযোগও রয়েছে। চলতি বছরের জানুয়ারিতে যৌথ বাহিনীর একটি অভিযানে জাহিদুলকে গ্রেপ্তার করা হয়। ওই সময় তার কাছ থেকে ১৫টি দেশীয় তৈরি অস্ত্র ও ১০৪টি ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধারের কথা জানায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। এ ঘটনায় তার বিরুদ্ধে অস্ত্র ও মাদক আইনে নতুন করে মামলা করা হয়। পরে তিনি জামিনে মুক্তি পান।
সম্প্রতি জামিনে মুক্ত হয়ে এলাকায় ফিরেছিলেন জাহিদুল। তবে তার জামিনে মুক্তির বিষয়টি নিশ্চিত করতে পারেননি অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আরিফুল ইসলাম। হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে পুলিশ কাজ করছে বলে জানিয়েছেন তিনি।
