কোনো জোটে না গিয়েই প্রতিরক্ষা সক্ষমতা বৃদ্ধিতে নজর দেওয়া উচিত: আসিফ শাহান
বাংলাদেশের ইতিহাস পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, দেশটি সবসময়ই নির্দিষ্ট কোনো সামরিক বা রাজনৈতিক জোটে যোগ দেওয়া এড়িয়ে চলেছে এবং পরাশক্তিগুলোর প্রতিযোগিতার মাঝে একটি নিরপেক্ষ ভারসাম্য বজায় রেখে নিজস্ব বৈদেশিক সম্পর্ক নির্ধারণ করেছে।
এই জোটে বা চুক্তিতে যোগদান করা হবে দেশের পররাষ্ট্রনীতির এক বিশাল পরিবর্তন। তাই এতে কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে অত্যন্ত গভীর কৌশলগত চিন্তাভাবনা এবং বিস্তারিত সুবিধা-অসুবিধার বিশ্লেষণ প্রয়োজন। বাংলাদেশের অবশ্যই নিজের প্রতিরক্ষা সক্ষমতা বাড়ানো দরকার এবং সরকার ইতোমধ্যে সেই লক্ষ্যে একাধিক পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে।
তবে বড় প্রশ্নগুলো হলো: এই জোটে যোগ দিলে কি বাড়তি কোনো প্রতিরক্ষা সুবিধা নিশ্চিত হবে? সেই নিরাপত্তার কি আদৌ প্রয়োজন আছে? কিংবা জোটে থাকা দেশগুলোর পক্ষে কি সত্যিই এই সুরক্ষা প্রদান করা সম্ভব? আর এই তথাকথিত নিরাপত্তা ব্যবস্থা পাওয়ার সম্ভাব্য মূল্য বা মাশুল কতটুকু হতে পারে?
এই পদক্ষেপে সবচেয়ে বড় ঝুঁকি হলো—আমাদের নিকটতম প্রতিবেশী দেশটির সাথে বাণিজ্যিক সম্পর্ক নেতিবাচকভাবে প্রভাবিত হতে পারে, সেই সাথে অন্যান্য দেশগুলোর সাথে সম্পর্ক বজায় রাখার ক্ষেত্রেও নতুন জটিলতা তৈরি হতে পারে। সমস্ত দিক বিবেচনায় রেখে এটি কি সত্যিই লাভজনক হবে?
আমি মনে করি, এই মুহূর্তে বাংলাদেশের মূল মনোযোগ হওয়া উচিত দ্বিপাক্ষিক ও বহুপাক্ষিক উন্নয়ন সহযোগীদের সাথে সুসম্পর্ক বজায় রাখা এবং কোনো জোটে না গিয়েই নিজস্ব প্রতিরক্ষা সক্ষমতা বৃদ্ধিতে শক্তি প্রয়োগ করা।
আমি এখনই এই জোটে না যোগ দেওয়ার পক্ষেই যুক্তি দেব। সরকারের উচিত কেবল একজন 'পর্যবেক্ষক' হিসেবে পরিস্থিতি কীভাবে এগোচ্ছে তা পর্যবেক্ষণ করা এবং একটি পুঙ্খানুপুঙ্খ সুবিধা-অসুবিধার বিশ্লেষণ পরিচালনা করা।
আসিফ শাহান ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নয়ন অধ্যয়ন বিভাগের অধ্যাপক।
