অত্যাবশ্যকীয় ওষুধের তালিকা হালনাগাদে আপত্তি নেই, নিয়মিত মূল্য সমন্বয়ের দাবি ওষুধ শিল্প সমিতির
অত্যাবশ্যকীয় ওষুধের তালিকা হালনাগাদের সঙ্গে কোনো বিরোধিতা নেই বলে জানিয়েছেন ওষুধ শিল্প নেতারা। তবে তালিকা প্রণয়নে বিশেষজ্ঞদের মতামত নেওয়া এবং ওষুধের দাম নির্ধারণে স্বচ্ছ, টেকসই ও নিয়মিত সমন্বয়যোগ্য নীতি প্রণয়নের দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ ওষুধ শিল্প সমিতি (বাপি)।
একই সঙ্গে গ্যাস ও বিদ্যুতের সংকটে উৎপাদন ব্যয় বাড়ায় দীর্ঘমেয়াদে জ্বালানি ব্যয়ের চাপ অব্যাহত থাকলে ওষুধের দাম সমন্বয়ের প্রয়োজন হতে পারে বলে জানিয়েছে সংগঠনটি।
সোমবার রাজধানীর তেজগাঁওয়ে বাপি কার্যালয়ে বাংলাদেশ হেলথ রিপোর্টার্স ফোরাম ও বাপির যৌথ আয়োজনে 'ওষুধ শিল্পের অগ্রগতি: চ্যালেঞ্জ ও সম্ভাবনা' শীর্ষক মতবিনিময় সভায় এসব কথা বলেন ওষুধ শিল্পের নেতারা।
বাপির সাবেক মহাসচিব ও ডেল্টা ফার্মা লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ডা. জাকির হোসেন বলেন, শুধু মূল্য নিয়ন্ত্রণের দৃষ্টিকোণ থেকে ওষুধ শিল্পকে দেখলে দীর্ঘমেয়াদে উৎপাদন ও বিনিয়োগ ক্ষতিগ্রস্ত হবে।
তিনি বলেন, 'আমরা অত্যাবশ্যকীয় ওষুধের তালিকা তৈরির কোনো বিরোধিতা করছি না। আমরা চাই, যোগ্য বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে আলোচনা করে এটি নিয়মিত হালনাগাদ করা হোক এবং মূল্য নির্ধারণের একটি সঠিক ও স্বচ্ছ প্রক্রিয়া থাকুক।'
ডা. জাকির হোসেন বলেন, বর্তমানে ১৯৯৪ সালের মূল্য নির্ধারণ কাঠামোর ভিত্তিতে ওষুধের দাম নির্ধারণ করা হচ্ছে। অথচ গত ৩২ বছরে মাত্র দুইবার দাম সমন্বয় করা হয়েছে। এই সময়ে মূল্যস্ফীতি, ডলারের বিনিময় হার, শ্রমিকের মজুরি ও উৎপাদন ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। তাই নির্দিষ্ট সময় পরপর ওষুধের দাম সমন্বয়ের ব্যবস্থা থাকা প্রয়োজন।
অত্যাবশ্যকীয় ওষুধ সুলভে জনগণের কাছে পৌঁছে দেওয়া সরকারের দায়িত্ব উল্লেখ করে তিনি বলেন, সরকার চাইলে ভর্তুকি বা সরকারি ক্রয়ের মাধ্যমে কম দামে ওষুধ সরবরাহ নিশ্চিত করতে পারে। তবে বেসরকারি উৎপাদনকারীদের কোনো ধরনের ভর্তুকি ছাড়া দীর্ঘদিন কম দামে ওষুধ উৎপাদনের প্রত্যাশা বাস্তবসম্মত নয়।
রাষ্ট্রায়ত্ত এসেনশিয়াল ড্রাগস কোম্পানি লিমিটেডের (ইডিসিএল) সঙ্গে বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোর সরাসরি তুলনা করাও ঠিক নয় বলে মন্তব্য করেন তিনি। তার মতে, ইডিসিএলের নির্দিষ্ট সরকারি ক্রয়াদেশ ও নিশ্চিত বাজার রয়েছে। পাশাপাশি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের মতো বিপণন ব্যয়ের চাপও নেই। সরকার চাইলে ইডিসিএলের মাধ্যমে ওষুধ উৎপাদন করে সরকারি হাসপাতালের রোগীদের বিনা মূল্যে বা কম দামে দিতে পারে।
ওষুধের দাম নিয়ে জনমনে উদ্বেগের বিষয়ে ডা. জাকির হোসেন বলেন, বর্তমানে বাজারে সর্বোচ্চ দামে বিক্রি হওয়া ওষুধগুলোর দাম ২০২৬ সালের মধ্যে আর না বাড়ানোর বিষয়ে শিল্প সমিতি অভ্যন্তরীণভাবে সিদ্ধান্ত নিয়েছে। ভবিষ্যতে মূল্য সমন্বয়ের ক্ষেত্রেও সর্বোচ্চ বৃদ্ধির একটি সীমা বা 'আপার সিলিং' নির্ধারণের প্রস্তাব দেওয়া হবে।
বাপির জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি এম মোসাদ্দেক হোসেন বলেন, অত্যাবশ্যকীয় ওষুধের তালিকার মূল উদ্দেশ্য হওয়া উচিত বহুল ব্যবহৃত ও প্রয়োজনীয় ওষুধের প্রাপ্যতা ও সহজলভ্যতা নিশ্চিত করা; শুধু দাম নিয়ন্ত্রণ করা নয়।
তিনি বলেন, উদ্ভাবনী ও বায়োলজিক্যাল ওষুধে অতিরিক্ত মূল্য নিয়ন্ত্রণ আরোপ করা হলে নতুন বিনিয়োগ নিরুৎসাহিত হতে পারে।
১৯৯৪ সালের ওষুধ নীতি দেশের ফার্মাসিউটিক্যাল শিল্পের বিকাশে বড় ভূমিকা রেখেছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ওই নীতির মূল দর্শন ছিল প্রয়োজনীয় ওষুধের সরবরাহ নিশ্চিত করা এবং বাজারভিত্তিক প্রতিযোগিতার মাধ্যমে যৌক্তিক মূল্য বজায় রাখা।
