গ্রামীণ সড়ক উন্নয়নে একনেকে ৪,৯৬৩ কোটি টাকার প্রকল্প অনুমোদন
সারাদেশে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে গ্রামীণ সড়ক উন্নয়নের লক্ষ্যে ৪ হাজার ৯৬৩ কোটি ৬৭ লাখ টাকা ব্যয়ে একটি প্রকল্প অনুমোদন দিয়েছে সরকার। আজ বুধবার রাজধানীর শেরেবাংলা নগরের এনইসি সম্মেলন কক্ষে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় 'গ্রাম সড়ক পুনর্বাসন ও শক্তিশালীকরণ' শীর্ষক এই প্রকল্পটি অনুমোদন দেওয়া হয়।
একনেক সভা শেষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে অনুমোদিত প্রকল্পের বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরেন পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী জোনায়েদ সাকী।
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, পল্লী এলাকার সড়ক অবকাঠামো চলাচলের উপযোগী রেখে দেশের অর্থনৈতিক গতিশীলতা বজায় রাখার লক্ষ্যে এই প্রকল্পটি নেওয়া হয়েছে। প্রকল্পের আওতায় গ্রাম সড়কে অবস্থিত ব্রিজ ও কালভার্ট পুনর্নির্মাণের মাধ্যমে সড়ক অবকাঠামো সম্পদ সংরক্ষণ করা হবে। এছাড়া গ্রামীণ সড়কের ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ এবং পুঞ্জীভূত পুনর্বাসন কার্যক্রম কমিয়ে গ্রাম অঞ্চলের সব ধরনের যানবাহন চলাচলের জন্য নিরাপদ, সুষ্ঠু ও যথাযথ পরিবহন সুবিধা নিশ্চিত করা হবে।
প্রকল্প প্রস্তাবে বলা হয়েছে, বাংলাদেশ বিশ্বের অন্যতম ঘনবসতিপূর্ণ এবং দ্রুত অগ্রসরমাণ উন্নয়নশীল দেশ। দেশের প্রায় ৭০ শতাংশ মানুষ গ্রামে বসবাস করে, ফলে গ্রামীণ জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়ন সরাসরি পল্লী অবকাঠামোর উন্নয়নের সঙ্গে সম্পৃক্ত। স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের অধীনে সারাদেশে পল্লী এলাকায় মোট ৪,১০,৫৩০.৯৪ কিলোমিটার সড়ক বিদ্যমান, যার মধ্যে বর্তমানে প্রায় ১,৬৭,১৮১.৯৪ কিলোমিটার সড়ক পাকা। এর মধ্যে উপজেলা সড়ক ৩৪,৫৬৭.৪৮ কিলোমিটার, ইউনিয়ন সড়ক ৩৪,৩৮২.১৯ কিলোমিটার এবং গ্রাম সড়ক ৯৮,২৩২.২৭ কিলোমিটার। এছাড়া গ্রাম সড়কে সেতু ও কালভার্টের মোট দৈর্ঘ্য ২,১৯,৯৭১.০০ মিটার।
বর্তমানে পাকা গ্রাম সড়কের মোট ৯৮,২৩২.২৭ কিলোমিটারের মধ্যে প্রায় ৩১,৪৩৪.৩২ কিলোমিটার সড়ক ক্ষতিগ্রস্ত অবস্থায় রয়েছে। এই অবস্থায় যাচাই-বাছাইপূর্বক অগ্রাধিকার ভিত্তিতে এই প্রকল্পের আওতায় ৫,২২৩.০০ কিলোমিটার গ্রাম সড়ক পুনর্বাসন এবং অধিক ক্ষতিগ্রস্ত ৭,০০০.০০ মিটার সেতু বা কালভার্ট পুনর্নির্মাণের প্রস্তাব করা হয়েছে।
সরকার আশা করছে, প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে একটি উন্নত ও টেকসই যোগাযোগ নেটওয়ার্ক গড়ে উঠবে, যা গ্রামীণ জনগণের যাতায়াত সুবিধা বৃদ্ধির পাশাপাশি বাণিজ্যিক কার্যক্রমকে গতিশীল করবে। এর ফলে গ্রামীণ অর্থনীতি শক্তিশালী হবে, কর্মসংস্থানের সুযোগ বৃদ্ধি পাবে এবং দারিদ্র্য বিমোচনে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে। সার্বিকভাবে দেশের আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন ত্বরান্বিত করতে এই গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়ন অত্যন্ত সময়োপযোগী ও প্রয়োজনীয়।
সংবাদ সম্মেলনে আরও জানানো হয়, আজকের একনেক সভায় সব মিলিয়ে ৯৩৩.৫৮ কোটি টাকা ব্যয়ে মোট ১০টি প্রকল্প অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।
