সাবেক মেজর সাদিককে গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন নাকচ আদালতের
রাজধানীর বসুন্ধরা এলাকায় প্রাইভেটকার পোড়ানোর ঘটনায় করা সন্ত্রাসবিরোধী আইনের মামলায় সেনাবাহিনী থেকে চাকুরিচ্যুত মেজর সাদিকুল হক সাদিককে গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন নাকচ করে দিয়েছেন আদালত। ফলে সাদিকের বিরুদ্ধে আর কোনো মামলায় আটকাদেশ না থাকায় কারামুক্তিতে আইনগত কোনও 'বাধা নেই' বলে জানিয়েছেন তার আইনজীবী।
আজ রোববার (১৬ আগস্ট) বিকেলে শুনানি শেষে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ এহসানুল ইসলামের আদালত গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন নামঞ্জুর করে এ আদেশ দেন।
ঢাকা মহানগর প্রসিকিউশন বিভাগের উপপরিদর্শক কামাল হোসেন এতথ্য নিশ্চিত করেন। তিনি বলেন, "এই মামলায় তাকে (সাদিক) গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন নামঞ্জুর করেছেন আদালত। তবে শুনেছি নতুন আরেক মামলায় তাকে গ্রেপ্তার দেখানো হতে পারে।"
সাদিকের আইনজীবী এইচ এম আল আমিন বলেন, "আসামির বিরুদ্ধে আর কোন মামলা না থাকায় তার কারামুক্তিতে বাধা নেই।"
ভাটারা থানার সন্ত্রাসবিরোধী আইনে করা এই মামলায় গত ৭ অগাস্ট মেজর সাদিককে গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন করেন তদন্ত কর্মকর্তা ভাটারা থানার উপ-পরিদর্শক চাঁদ আলী। আদালত আসামির উপস্থিতিতে শুনানির দিন রাখেন গত ১০ আগস্ট। ওই দিন শুনানিকালে মেজর সাদিককে আদালতে হাজির করা হয়।
আসামিপক্ষের আইনজীবী আল-আমিন সেদিন আদালতকে বলেন, "ঘটনার সময় আসামি নিজেই কারাগারে বন্দি ছিলেন। তিনি কীভাবে বাইরে গাড়ি পোড়ানোর সাথে যুক্ত থাকতে পারেন?"
এ বিষয়ে আদালত ভাটারা থানার ওসি ও তদন্ত কর্মকর্তাকে লিখিত ব্যাখ্যার নির্দেশ দেন। রোববার তদন্ত কর্মকর্তা আদালতে হাজির হয়ে লিখিত ব্যাখ্যায় জানান—চাকরিচ্যুত মেজর সাদিক সেনাবাহিনীতে থাকাকালে ২০২৫ সালের ৩ থেকে ৮ জুলাই বসুন্ধরার কেবি কনভেনশন হলে নিষিদ্ধ সংগঠন বাংলাদেশ ছাত্রলীগ ও কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের নিয়ে গোপন সভা ও প্রশিক্ষণের আয়োজন করেছিলেন। সেখান থেকেই দেশে অস্থিতিশীল পরিবেশ তৈরির পরিকল্পনা করা হয় এবং পরবর্তীতে সাদিকের মদদেই ওই গাড়ি পোড়ানোর ঘটনা ঘটে।
আসামি মেজর সাদিক ভাটারা থানার অন্য একটি সন্ত্রাসবিরোধী আইনের মামলায় গ্রেপ্তার হয়ে কারাগারে আছেন। তদন্তে এ ঘটনায় তার প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ সম্পৃক্ততা পাওয়া গেছে। মামলাটির সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে আসামিকে এই মামলায় তাকে গ্রেপ্তার দেখানো একান্ত প্রয়োজন।
ব্যাখ্যায় আরো বলা হয়, সাবেক মেজর সাদিক প্রধান প্রশিক্ষক এবং কানেক্টরের ভূমিকায় থেকে রুপগঞ্জ থানার পূর্বাচল সি-সেল নামে রিসোর্ট, কাঁটাবনের একটি রেস্টুরেন্ট, মিরপুর ডিওএইচএসসহ উত্তরায় ১২ নম্বর সেক্টর এবং আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিসের বিপরীতে প্রিয়াংকা সিটিতে তার স্ত্রী সুমাইয়া যাফরিনসহ তার ফ্ল্যাটের একাধিকবার এ ধরনের গোপন প্রশিক্ষণ/ওয়ার্কশপ আয়োজন করেছিলেন। এ ধরনের গোপন সভা, প্রশিক্ষণ/ওয়ার্কশপে অংশগ্রহণকারী আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগ নেতাকর্মীদের মধ্যে অনেকেই পরবর্তীতে গ্রেপ্তার হয়েছেন, আবার অনেকেই হননি।
সেনাবাহিনী থেকে চাকুরিচ্যুত মেজর সাদিককে ২০২৪ সালের ২৯ অক্টোবর তিন মাসের কারাদণ্ড দেয় সামরিক আদালত। এরপর থেকে তিনি কারাগারে আটক ছিলেন।
