রাঙামাটিতে পিকআপ নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে দেয়ালে ধাক্কা, নিহত ৪
রাঙামাটিতে মালবাহী একটি পিকআপ নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সড়কের পাশের দেয়ালে ধাক্কা দেওয়ার ঘটনায় দুই নারীসহ চারজন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আরও দুজন আহত হয়েছেন।
রোববার (১৬ আগস্ট) ভোর সোয়া ৫টার দিকে রাঙামাটি-কুতুকছড়ি সড়কের সাপছড়ি ইউনিয়নের মানিকছড়ি আর্মি ক্যাম্পের সামনে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহতরা হলেন মেঘ রাণী চাকমা (৪৫), শান্তি রঞ্জন চাকমা (৬০), শান্তনা চাকমা (৪০) ও শোভা চাকমা। আহত দুজন হলেন সুমন চাকমা (৪৫) ও পিকআপচালক জ্ঞান বিকাশ চাকমা (৫০)।
পুলিশ ও স্থানীয়দের তথ্যমতে, কুতুকছড়ির সাপ্তাহিক হাটে পণ্য বিক্রির জন্য রোববার ভোরে কল্যাণপুর থেকে মালামাল নিয়ে পিকআপটি রওনা হয়। মানিকছড়ি আর্মি ক্যাম্পের সামনে পৌঁছালে চালক নিয়ন্ত্রণ হারালে পিকআপটি সড়কের পাশের একটি দেয়ালে ধাক্কা দেয়।
দুর্ঘটনায় ঘটনাস্থলেই তিনজন নিহত হন। স্থানীয়রা আহতদের উদ্ধার করে রাঙামাটি জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যান। পরে গুরুতর আহত শোভা চাকমাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। চট্টগ্রামে নেওয়ার পথে তিনি মারা যান।
আহত সুমন চাকমা রাঙামাটি জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। তার একটি হাত ও একটি পা ভেঙেছে এবং মাথায় আঘাত লেগেছে।
সুমন চাকমা বলেন, 'ভোর ৫টার দিকে কুতুকছড়ির হাটে যাওয়ার জন্য মালামাল নিয়ে কল্যাণপুর থেকে রওনা দিই। সাপছড়ি মানিকছড়ি পুলিশ চেকপোস্টের কাছে পৌঁছালে হঠাৎ পিকআপটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে দেয়ালে ধাক্কা দেয়।'
প্রত্যক্ষদর্শী সিএনজি অটোরিকশাচালক জিকেল চাকমা বলেন, তিনি দুর্ঘটনাকবলিত পিকআপটির পেছনে ছিলেন। হঠাৎ পিকআপটিকে দেয়ালে ধাক্কা লাগা অবস্থায় দেখতে পান। পরে স্থানীয়দের সহায়তায় আহতদের হাসপাতালে নেওয়া হয়।
নিহত শোভা চাকমার স্বজন লিটন চাকমা বলেন, প্রতি রোববার কুতুকছড়িতে হাট বসে। শোভাও সেখানে পণ্য বিক্রির জন্য যাচ্ছিলেন। দুর্ঘটনার পর তাকে চট্টগ্রামে নেওয়ার পথে মৃত্যু হয়।
রাঙামাটি কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ জসিম উদ্দিন বলেন, কুতুকছড়ির হাটে কাঁচামাল নেওয়ার পথে পিকআপটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে দুর্ঘটনার কবলে পড়ে। ঘটনাস্থলে তিনজন মারা যান। গুরুতর আহত একজনকে চট্টগ্রামে পাঠানো হয়েছিল। চিকিৎসাধীন অবস্থায় পরে তার মৃত্যু হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, আহত দুজন রাঙামাটি জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। নিহতদের মরদেহ হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে। আইনি প্রক্রিয়া শেষে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে।
