মাদ্রাসার শৌচাগারে শিক্ষার্থীর লাশ: এক শিক্ষকের ৩ দিনের রিমান্ড, আদালতে আসামিদের কিল-ঘুষি
রাজধানীর রায়েরবাগের জোড়াখাম্বা এলাকার রওয়াজাতুল উলুম হাফিজিয়া নুরানি মাদ্রাসার শৌচাগার থেকে ১৩ বছর বয়সী শিক্ষার্থী নাঈম শেখের লাশ উদ্ধারের ঘটনায় করা মামলায় গ্রেপ্তার ওই প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক হাফেজ মো. জাকারিয়াকে (৩৫) তিন দিনের রিমান্ডে পাঠিয়েছেন আদালত। একই মামলায় গ্রেপ্তার হাফেজ মো. জোবায়ের আহম্মেদ (২০) নামের আরেক শিক্ষকের রিমান্ড আবেদনের ওপর শুনানির জন্য শিশু আদালতে পাঠানো হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) শুনানি শেষে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মাহবুব আলমের আদালত তদন্ত কর্মকর্তার আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে এ আদেশ দেন। এদিন নাঈম শেখের মৃত্যুর ঘটনার বিচার চেয়ে সকাল থেকে আদালত প্রাঙ্গণে জড়ো হন ভুক্তভোগীর পরিবারের সদস্যরা। শুনানি শেষে আসামিদের এজলাস থেকে নামানোর সময় পুলিশকে ঘিরে ধরে তাদের কিল-ঘুষি মারতে দেখা যায়। এ ছাড়া আসামিদের ফাঁসির দাবিতে বিভিন্ন ধরনের স্লোগানও দিতেও দেখা গেছে।
গত ৩ আগস্ট রওয়াজাতুল উলুম হাফিজিয়া নুরানি মাদ্রাসা থেকে ওই দুই শিক্ষককে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। পরদিন তাদের কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন আদালত। পরবর্তীতে ৫ আগস্ট আসামিদের জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পাঁচ দিনের রিমান্ড চেয়ে আবেদন করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা কদমতলী থানার উপপরিদর্শক মো. আমজাদ হোসেন। আদালত আসামিদের উপস্থিতিতে শুনানির দিন হিসেবে বৃহস্পতিবার ধার্য করেন। শুনানির সময় কারাগার থেকে তাদের আদালতে হাজির করে পুলিশ।
দুই পক্ষের শুনানি শেষে আদালত প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক হাফেজ মো. জাকারিয়া (৩৫)কে তিন দিনের রিমান্ডে পাঠানোর আদেশ দেন। একই মামলায় গ্রেপ্তার হাফেজ মো. জোবায়ের আহম্মেদ (২০) নামের আরেক শিক্ষককে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন আদালত।
গত ৩ আগস্ট বেলা দেড়টার দিকে মাদ্রাসাটির তৃতীয় তলার একটি শৌচাগার থেকে মো. নাঈম শেখের লাশ উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় নাঈমের মা নাজমা বেগম বাদী হয়ে ওই রাতেই কদমতলী থানায় হত্যা মামলা করেন। এরপর পুলিশ মাদ্রাসা থেকে ওই দুই শিক্ষককে গ্রেপ্তার করে।
মামলার এজাহারে অভিযোগ করা হয়, নাঈম ও তার ছোট ভাই ওই মাদ্রাসায় পড়াশোনা করত। বিভিন্ন অজুহাতে ওই দুই শিক্ষক নাঈমকে নির্যাতন করতেন। বিষয়টি নাঈম তার মাকে জানালে তিনি ছেলেকে মাদ্রাসা থেকে নিয়ে আসতে চেয়েছিলেন; কিন্তু মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ ছাড়পত্র দিতে অস্বীকৃতি জানায়। ভুক্তভোগী নাঈম শিক্ষকদের জানায়, সে আর ওই মাদ্রাসায় পড়তে চায় না। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে শিক্ষকেরা তাকে মারধর করেন। এরপর গত ৩ আগস্ট বেলা একটা থেকে আড়াইটার মধ্যে তাকে শ্বাসরোধে হত্যা করা হয় বলে এজাহারে অভিযোগ করা হয়েছে।
