আরও ১২ জেলায় চালু হলো অনলাইন ই-বেইলবন্ড
বিচারব্যবস্থার আধুনিকায়ন, বিচারপ্রার্থীদের হয়রানি কমানো এবং জামিনপ্রাপ্ত আসামিদের মুক্তির প্রক্রিয়া সহজ ও দ্রুত করতে দেশের আরও ১২টি জেলায় অনলাইন ই-বেইলবন্ড সিস্টেম চালু হয়েছে। এর ফলে বর্তমানে দেশের মোট ২৮টি জেলায় এ কার্যক্রম চালু হলো।
বৃহস্পতিবার আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান নতুন ১২ জেলায় ই-বেইলবন্ড সিস্টেমের উদ্বোধন করেন।
নতুন করে যেসব জেলায় এ কার্যক্রম চালু হয়েছে সেগুলো হলো—টাঙ্গাইল, কিশোরগঞ্জ, মুন্সীগঞ্জ, কক্সবাজার, চাঁদপুর, রাঙামাটি, সিরাজগঞ্জ, বাগেরহাট, পটুয়াখালী, হবিগঞ্জ, ঠাকুরগাঁও ও জামালপুর। এর আগে ১৬টি জেলায় ই-বেইলবন্ড চালু ছিল।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে আইনমন্ত্রী বলেন, বিচারপ্রার্থীদের হয়রানি বন্ধ করে আইনের শাসন, ন্যায়বিচার ও সুশাসন প্রতিষ্ঠায় সরকার বিভিন্ন যুগোপযোগী পদক্ষেপ নিচ্ছে। ই-বেইলবন্ড সিস্টেম এসব উদ্যোগের গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
তিনি বলেন, প্রচলিত পদ্ধতিতে একটি বেইলবন্ড দাখিল ও সম্পন্ন করতে ১২টি ধাপ অতিক্রম করতে হতো। নতুন ই-বেইলবন্ড ব্যবস্থায় তা মাত্র দুই ধাপে সম্পন্ন করা যাচ্ছে। আইনজীবীরা তাঁদের চেম্বারসহ যেকোনো স্থান থেকে স্মার্টফোনের মাধ্যমে অনলাইনে বেইলবন্ড দাখিল করতে পারবেন। দাখিলের পর তা গ্রহণের বিষয়টি তাৎক্ষণিকভাবে ওটিপি-এর মাধ্যমে নিশ্চিত করা হবে।
এর ফলে বেইলবন্ড দাখিলের পুরো প্রক্রিয়া সহজ, দ্রুত ও স্বচ্ছ হবে বলে জানান মন্ত্রী।
মো. আসাদুজ্জামান বলেন, ই-বেইলবন্ড চালুর ফলে জামিনপ্রাপ্ত আসামি ও তাঁদের পরিবারের সদস্যদের কারাগার, ম্যাজিস্ট্রেট আদালত এবং জেলা জজ আদালতে বারবার যাতায়াতের দুর্ভোগ ও হয়রানি অনেকাংশে কমবে। সরকার জনগণকে হয়রানি করতে চায় না; বরং আইনের শাসন, ন্যায়বিচার ও সুশাসন প্রতিষ্ঠা করতে চায়।
তিনি জানান, আগে চালু হওয়া ১৬টি জেলায় গত কয়েক মাসে প্রায় ১ লাখ ২০ হাজার ই-বেইলবন্ড অনলাইনে দাখিল হয়েছে। এ অভিজ্ঞতা ব্যবস্থাটির কার্যকারিতা এবং জনগণের জন্য এর প্রয়োজনীয়তা প্রমাণ করেছে।
এ সময় বিচারক, আইনজীবী ও কারা কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানিয়ে আইনমন্ত্রী বলেন, কোনো বন্দি যদি আপসযোগ্য মামলায় কারাগারে আটক থাকেন, তাহলে সংশ্লিষ্ট জেলা লিগ্যাল এইড অফিসের সঙ্গে যোগাযোগ করে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া যেতে পারে। এসব মামলার দ্রুত নিষ্পত্তি হলে বিচারপ্রক্রিয়ার দীর্ঘসূত্রতা কমার পাশাপাশি সরকারের বিপুল অর্থ সাশ্রয় হবে।
বিচারব্যবস্থাকে আরও কার্যকর ও জনবান্ধব করতে ই-বেইলবন্ডের পাশাপাশি মেডিয়েশন ও লিগ্যাল এইডসহ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার অন্যান্য ক্ষেত্রেও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে বলে জানান তিনি। একই সঙ্গে মামলার সংখ্যা কমানো এবং নিষ্পত্তির হার বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
মন্ত্রী বলেন, আগামী এক বছরের মধ্যে যেসব জেলায় মামলা কমানো এবং নিষ্পত্তির হার বাড়ানোর ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য সাফল্য অর্জিত হবে, সেসব জেলার সংশ্লিষ্টদের উৎসাহিত বা পুরস্কৃত করার বিষয়ে আইন মন্ত্রণালয় পরিকল্পনা করছে।
অনুষ্ঠানে আইন ও বিচার বিভাগের সচিব লিয়াকত আলী মোল্লা ও অতিরিক্ত সচিব মো. খাদেম উল কায়েস বক্তব্য দেন। এ সময় একই বিভাগের অতিরিক্ত সচিব এসএম এরশাদুল আলম, বাংলাদেশ আইনগত সহায়তা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মনজুরুল হোসাইনসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন, ই-বেইলবন্ড সিস্টেম চালুর ফলে বিচারপ্রার্থীদের হয়রানি ও দুর্ভোগ কমার পাশাপাশি জামিন-সংক্রান্ত কার্যক্রমে স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা ও দক্ষতা আরও বাড়বে।
