অনলাইনেই দায়িত্ব পালন করছেন ডুয়েটের নতুন ভিসি; বিরোধীদের আন্দোলন অব্যাহত
ঢাকা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (ডুয়েট) নবনিযুক্ত উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ ইকবাল দায়িত্ব বুঝে নিয়ে অনলাইনে দাপ্তরিক কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছেন। অন্যদিকে, তার নিয়োগের প্রতিবাদে শিক্ষার্থীদের একাংশের আন্দোলনও অব্যাহত রয়েছে।
সোমবার নতুন ভিসি অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ ইকবাল বলেন, তিনি নিয়মিতভাবে দায়িত্ব পালন করছেন। তবে কিছু শিক্ষার্থী ও লোকজন ক্যাম্পাসে তার বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছে।
তিনি বলেন, 'নিরাপত্তার স্বার্থে প্রধান ফটকে দায়িত্বপ্রাপ্তদের আইডি কার্ড দেখে প্রবেশের অনুমতি দিতে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের সার্বিক পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে সংশ্লিষ্ট সবার সঙ্গে আলোচনা চলছে। আশা করছি দ্রুত পরিস্থিতি স্বাভাবিক হবে।'
বিশ্ববিদ্যালয় সূত্র জানায়, গত বৃহস্পতিবার শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগ দেশের ১২টি বিশ্ববিদ্যালয়ে নতুন ভিসি নিয়োগের প্রজ্ঞাপন জারি করে। এতে শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ ইকবালকে ডুয়েটের ভিসি হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়।
রোববার দুপুরে তিনি দায়িত্বভার গ্রহণ করেন। এ সময় তার যোগদানকে কেন্দ্র করে শিক্ষার্থীদের একাংশ বাধা দিলে ক্যাম্পাসে সংঘর্ষ, ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও ইটপাটকেল নিক্ষেপের ঘটনা ঘটে। এতে তিন পুলিশ সদস্য, সদর উপজেলার ইউএনও, সাংবাদিকসহ অন্তত ১৫ জন আহত হন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ কয়েক রাউন্ড টিয়ার শেল নিক্ষেপ করে।
দায়িত্ব গ্রহণের সময় গাজীপুর মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার বেলায়েত হোসেন, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) রাকিবুল হাসান, সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাজ্জাদ হোসেন এবং ডুয়েটের রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ড. মো. আবু তৈয়ব উপস্থিত ছিলেন।
দায়িত্ব নেওয়ার পর নতুন ভিসি বিভিন্ন ব্যাংক হিসাবের স্বাক্ষর পরিবর্তনসংক্রান্ত নথিতে সই করেন। পাশাপাশি মাস্টাররোলে নিয়োজিত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতনসংক্রান্ত কাগজপত্রেও স্বাক্ষর করেন। পরে বিকেলে তিনি গাজীপুর ত্যাগ করেন। সোমবার প্রশাসনিক কাজে তার ঢাকায় মন্ত্রণালয়ে থাকার কথা রয়েছে।
এদিকে ভিসি ক্যাম্পাসে উপস্থিত না থাকলেও আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা সোমবার সকাল থেকে 'ডুয়েট ব্লকেড' কর্মসূচি পালন করছে। তারা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটক ও প্রশাসনিক ভবনে তালা ঝুলিয়ে দেয়।
সরেজমিনে দেখা যায়, সকাল থেকে কর্মকর্তা-কর্মচারীরা মূল ফটকের সামনে অবস্থান করলেও আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা কাউকে ভেতরে প্রবেশ করতে দিচ্ছেন না। ডুয়েট ও আশপাশের এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের তিন দফা দাবি হলো— নবনিযুক্ত ভিসি অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ ইকবালের নিয়োগ বাতিল, ডুয়েটের নিজস্ব শিক্ষককে ভিসি নিয়োগ এবং রোববারের সংঘর্ষে জড়িতদের বিচার।
তবে ভিসি নিয়োগকে কেন্দ্র করে চলমান আন্দোলনে ছাত্রশিবির ও ছাত্রদলের সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ উঠলেও কোনো পক্ষ আনুষ্ঠানিকভাবে দায় স্বীকার করেনি।
এদিকে গত রাতে 'সাধারণ ডুয়েটিয়ানদের' ব্যানারে জানানো হয়, ক্যাম্পাসে কোনো ধরনের দলীয় রাজনীতি করতে দেওয়া হবে না।
গাজীপুর সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আমিনুল ইসলাম বলেন, 'কিছু শিক্ষার্থী ও বাইরের লোকজন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকে অবস্থান করছেন। পরিস্থিতি এখন পর্যন্ত শান্ত রয়েছে। নিরাপত্তার জন্য অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন আছে।'
