ডুয়েটে নতুন ভিসির যোগদানকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষ, শিক্ষার্থী-পুলিশসহ আহত ১৫
ঢাকা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (ডুয়েট) নতুন উপাচার্য (ভিসি) অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ ইকবালের যোগদানকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের সংঘর্ষে তিন পুলিশ কর্মকর্তা, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও সাংবাদিকসহ অন্তত ১৫ জন আহত হয়েছেন।
রবিবার (১৭ মে) সকাল ১০টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসের মূল ফটকের সামনে এ সংঘর্ষ ঘটে।
জানা গেছে, গত বৃহস্পতিবার শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগ থেকে দেশের ১২টি বিশ্ববিদ্যালয়ে নতুন ভিসি নিয়োগের প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়। ওই প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ ইকবালকে ডুয়েটের ভিসি হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়।
পূর্বনির্ধারিত সূচি অনুযায়ী, আজ রবিবার সকাল ১০টার দিকে নবনিযুক্ত ভিসি অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ ইকবাল দায়িত্ব গ্রহণের উদ্দেশ্যে ডুয়েট ক্যাম্পাসে আসেন। তিনি ক্যাম্পাসে পৌঁছানোর আগেই শিক্ষার্থীদের একাংশ বিশ্ববিদ্যালয়ের অভ্যন্তরীণ শিক্ষকদের মধ্য থেকে ভিসি নিয়োগের দাবিতে নতুন ভিসিকে অবাঞ্চিত ঘোষণা করে 'লাল কার্ড কর্মসূচি'র ব্যানার নিয়ে মূল ফটকে তালা লাগিয়ে বিক্ষোভ শুরু করেন।
অপরদিকে, ভিসিকে স্বাগত জানিয়ে শিক্ষার্থীদের আরেক অংশ মূল ফটকের সামনে মিছিল করে। এসময় শিক্ষার্থীরা তালাবদ্ধ ফটক খুলে ভেতরে প্রবেশের চেষ্টা করলে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ শুরু হয়।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, দফায় দফায় প্রায় দুই ঘণ্টাব্যাপী চলা এই সংঘর্ষে পুরো এলাকা রণক্ষেত্রে পরিণত হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ টিয়ারশেল নিক্ষেপ করে। এসময় শিক্ষার্থী ও পুলিশসহ কমপক্ষে ১৫ জন আহত হন।
এসময় গাজীপুর মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার তাহেরুল হক চৌহানসহ ঊর্ধ্বতন ৩ পুলিশ কর্মকর্তাসহ ৮ পুলিশ সদস্য, গাজীপুর সদর উপজেলার ইউএনও সাজ্জাত হোসেন, দৈনিক দিনকালের গাজীপুরের স্টাফ রিপোর্টার দেলোয়ার হোসেন এবং ৫/৬ জন শিক্ষার্থী আহত হয়েছেন।
এদিকে, রবিবার (১৭ মে) দুপুরে নবনিযুক্ত ভিসি অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ ইকবাল দায়িত্ব গ্রহণ করেন।
গাজীপুর সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আমিনুল ইসলাম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, 'ছাত্রশিবিরের সমর্থনে শিক্ষার্থীদের একটি অংশ গেটের ভেতরে অবস্থান নিয়ে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করেছে। এতে গেটের বাইরে থাকা পুলিশ, সাংবাদিক ও সাধারণ ছাত্রসহ ১৪/১৫ জন আহত হয়েছে।'
তিনি আরও বলেন, 'ক্যাম্পাসের সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কাজ চলছে।'
