সন্ধ্যা থেকে বিদ্যুৎ পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতির আশা প্রতিমন্ত্রীর
বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত জানিয়েছেন, আজ সন্ধ্যা থেকে দেশের সার্বিক বিদ্যুৎ পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতির সম্ভাবনা রয়েছে।
আজ বুধবার (১২ আগস্ট) বিকেলে সচিবালয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ তথ্য জানান৷
প্রতিমন্ত্রী বলেন, 'গতকাল সন্ধ্যা থেকেই আমরা একটি কৌশল গ্রহণ করেছি। আশা করছি, আজ সন্ধ্যা থেকে বিদ্যুৎ পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হবে।'
মালয়েশিয়া থেকে এলএনজি আমদানির বিষয়ে আলোচনার অগ্রগতি জানতে চাইলে প্রতিমন্ত্রী বলেন, 'আমরা অন্তত একটি এলএনজি কার্গো পাওয়ার আশা করছি। তবে আইএসও ট্যাংকের মাধ্যমে এলএনজি আনতে হলে তা একটি প্রক্রিয়ার বিষয়। আপনারা জানেন, বর্তমানে আইএসও ট্যাংক সহজলভ্য নয়।'
চলমান জ্বালানি সংকট নিরসনে সরকার সব ধরনের সম্ভাব্য বিকল্প পথ খতিয়ে দেখছে উল্লেখ করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, 'আমাদের হাতে থাকা সম্ভাব্য সব বিকল্প নিয়েই আমরা কাজ করে যাচ্ছি।'
চলমান সংকট নিয়ে সরকারের পক্ষ থেকে জনগণের উদ্দেশে কোনো বিশেষ বার্তা রয়েছে কি না—এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, 'জনগণ অবশ্যই সরকারের বার্তা জানতে চায়। আমি যদি সেই বার্তা দেওয়ার মতো পরিস্থিতিতে থাকতাম, তবে অবশ্যই দিতাম।'
তিনি আরও যোগ করেন, ''জনদুর্ভোগের বিষয়টি বিবেচনায় রেখে আমরা সম্ভাব্য সব ধরনের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। আমি বিশ্বাস করি, সাধারণ মানুষ বুঝতে পারছেন যে আমাদের প্রচেষ্টায় কোনো কমতি নেই।'
একই সঙ্গে প্রতিমন্ত্রী উল্লেখ করেন, রাতারাতি দেশীয় গ্যাস উৎপাদন বৃদ্ধি করা সম্ভব নয়। তিনি জানান, এলএনজি সরবরাহ নিশ্চিত করতে বাংলাদেশ ইতোমধ্যে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সহযোগিতাও কামনা করেছে।
দেশের জ্বালানি খাতের চাহিদা পূরণে মধ্যম ও দীর্ঘমেয়াদি পদক্ষেপ না নেওয়ার জন্য তিনি পূর্ববর্তী সরকারগুলোকে দায়ী করেন।
তিনি বলেন, 'আপনি যখন একটি ভুল নীতি গ্রহণ করবেন, তখন কোনো না কোনো সময় তার মাশুল আপনাকে গুনতেই হবে।'
প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, 'আগের সরকারগুলো কোনো মধ্যম বা দীর্ঘমেয়াদি সমাধানের পথ খোঁজেনি। তারা শুধু তাৎক্ষণিক সমাধান নিয়ে চলেছে; আর সে কারণেই আজ হঠাৎ এমন সংকট তৈরি হয়েছে।'
তার মতে, বর্তমান সংকট এড়ানো সম্ভব ছিল না এবং এটি যেকোনো সময় দেখা দিতে পারত।
তিনি বলেন, 'আজ যদি এটি না হতো, তবে হয়তো আগামীকাল হতো। আগামীকাল না হলে হয়তো পরশু। কোনো না কোনো সময়ে আমাদের এই পরিস্থিতির মুখোমুখি হতেই হতো।'
