পুলিশ কোনো দলের লাঠিয়াল বাহিনী নয়, দুর্নীতির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি মেনে চলবে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, পুলিশ কোনো দলের বা গোষ্ঠীর লাঠিয়াল বাহিনী নয়, বরং দলীয় প্রভাবমুক্ত, আধুনিক, প্রযুক্তিবান্ধব ও মানবিক একটি সংস্থা যা দুর্নীতির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি মেনে চলবে।
রোববার (২ আগস্ট) রাজশাহীর সারদায় বাংলাদেশ পুলিশ একাডেমিতে আয়োজিত ২৭তম বিসিএস (পুলিশ) ক্যাডারের শিক্ষানবিশ সহকারী পুলিশ সুপারদের মৌলিক প্রশিক্ষণ সমাপনী কুচকাওয়াজ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, দেড় যুগ আগে 'অবৈধ সরকারের' নির্যাতনের শিকার হয়েছিল ২৭তম বিসিএস ব্যাচ (পুলিশ)। ১৮ বছরের বঞ্চনা কাটিয়ে রাষ্ট্রের রূপান্তরে এই পুলিশ ব্যাচের কাঁধে চেইন অভ কমান্ড বজায় রেখে বৈষম্যহীন সমাজ গঠন, আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা ও জনমনে স্বস্তি ফিরিয়ে আনা।
সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, 'ফ্যাসিবাদী হাসিনা সরকারের আমলে' অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের মতো পুলিশবাহিনীও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। শৃঙ্খলাভঙ্গ ও অপরাধের সাথে সঙ্গে পুলিশ সদস্যদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে ও চলমান থাকবে।
তিনি বলেন, ডিজিটাল অপরাধ দমন ও সাইবার নিরাপত্তার জন্য কারিগরি দক্ষতা অর্জন করে সাধারণ মানুষের অকৃত্রিম বন্ধু ও সেবক হতে হবে পুলিশ কর্মকর্তাদের।
শিক্ষানবিশ সহকারী পুলিশ সুপারদের কুচকাওয়াজ শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, 'আগস্ট মাসে নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের কার্যক্রম দেখা যাচ্ছে। এজন্য সারাদেশের পুলিশকে সতর্ক করা হয়েছে।'
তিনি আরও বলেন, 'ঢাকার মতিঝিল, আশুলিয়ায় বোমা উদ্ধারের ঘটনায় পৃথক তদন্ত হচ্ছে। বিগত সরকার আমল ও এই সরকারের গত ছয় মাস তুলনা করলে আনুপাতিক হারে বোমা উদ্ধার কমেছে। এটি বিপজ্জনক কোনো ইঙ্গিত দিচ্ছে না। তারপরও আমরা সতর্ক আছি। দিনরাতের জন্য বোম ডিসপোজাল ইউনিট প্রস্তুত রাখা হয়েছে।'
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এর আগে শিক্ষানবিশ সহকারী পুলিশ সুপারদের অভিবাদন গ্রহণ ও প্যারেড পরিদর্শন করেন। পরে প্রশিক্ষণ শেষে বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে শ্রেষ্ঠত্ব অর্জনকারীদের হাতে তিনি পুরস্কার তুলে দেন।
চলতি বছরের ১ ফেব্রুয়ারি শুরু হওয়া ২৭তম বিসিএস পুলিশ ব্যাচের ৪ জন নারী, ৫৩ জন পুরুষ ও ২৮ তম ব্যাচের ১ জন কুচকাওয়াজে অংশ নেন।
তারা ২৭তম বিসিএস পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়ার পরও প্রায় দেড় যুগ নিয়োগবঞ্চিত ছিলেন। পরে আইনি প্রক্রিয়ায় নিয়োগের সুপারিশ পান। পরে রাজশাহীর সারদায় তাদের এক বছর মেয়াদি মৌলিক প্রশিক্ষণ সংক্ষিপ্ত করে ছয় মাসে সম্পন্ন করা হয়েছে।
৫৬ শিক্ষানবিশ সহকারী পুলিশ সুপারকে এরইমধ্যে বাস্তবভিত্তিক প্রশিক্ষণের জন্য বিভিন্ন জেলায় সংযুক্ত করা হয়েছে। আগামী ২ বছরে দুই ধাপে প্রশিক্ষণের অবশিষ্ট ছয় মাস সম্পন্ন করা হবে।
এই কর্মকর্তারা জেলাগুলোতে মাঠপর্যায়ের প্রশিক্ষণ নিলেও তাদের মূল পদায়ন ঢাকা পুলিশ সদর দপ্তরে বহাল থাকবে।
প্রশিক্ষণ সমাপনী কুচকাওয়াজ অনুষ্ঠানে ভূমিমন্ত্রী মিজানুর রহমান মিনু, পুলিশের আইজিপি, বিভিন্ন আসনের সংসদ সদস্য ও সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
