গাজীপুরে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ নেতার বাড়ির সামনে বস্তায় পাওয়া ১০ ককটেল নিষ্ক্রিয়, ২ ব্যানার উদ্ধার
গাজীপুর মহানগরীর টঙ্গীতে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ নেতা নূর নবী হোসেন ওরফে হৃদয়ের (২২) বাড়ির সামনে রাখা একটি বস্তা থেকে ১০টি ককটেল উদ্ধার করেছে পুলিশ। একই স্থান থেকে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের দুটি ব্যানারও উদ্ধার করা হয়েছে। ব্যানার দুটিতে আওয়ামী লীগের ওপর নিষেধাজ্ঞা, আদালতের রায় বাতিল এবং কারাবন্দিদের মুক্তির দাবিতে বিক্ষোভ মিছিলের ঘোষণার কথা রয়েছে।
শনিবার (৩ অক্টোবর) ভোরে টঙ্গী পশ্চিম থানার গুটিয়ার আন্দারুল এলাকায় বস্তার ভেতর থেকে ককটেলসদৃশ ১০-১২টি বস্তু পাওয়ার খবর ছড়িয়ে পড়ে। পরে বিকেল ৪রটার দিকে পুলিশের বোমা নিষ্ক্রিয়করণ ইউনিট ককটেলগুলো নিরাপদে নিষ্ক্রিয় করে।
নূর নবী হোসেন ওরফে হৃদয় টঙ্গী পশ্চিম থানা ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ছিলেন।
পুলিশ ও স্থানীয়রা জানান, শনিবার সকালে নূর নবী হোসেন ওরফে হৃদয়ের বাড়ির সামনে একটি বস্তার মধ্যে ককটেলসদৃশ বস্তু পড়ে থাকতে দেখে স্থানীয়রা পুলিশকে খবর দেন। খবর পেয়ে টঙ্গী পশ্চিম থানার পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে এলাকাটি নিরাপত্তা বেষ্টনী দিয়ে ঘিরে ফেলে। প্রথম দিকে বস্তার ভেতরে ১০ থেকে ১২টি ককটেলসদৃশ বস্তু থাকার খবর ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় উত্তেজনা তৈরি হয়।
ঘটনাস্থলে উপস্থিত টঙ্গী পশ্চিম থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মেহেদী হাসান বলেন, "আমরা পুরো এলাকাটি ঘিরে রেখেছি। মানুষের জানমালের নিরাপত্তার জন্য কাজ করে যাচ্ছি।"
ঘটনার সময় টঙ্গী পশ্চিম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আরিফুল ইসলাম বলেন, "আমরা ১০টি ককটেলসদৃশ বস্তু ঘিরে রেখেছি। ককটেলের মতো ১০-১২টি বস্তু দেখা গেছে। ধারণা করছি এগুলো ককটেল হবে। বম্ব ডিসপোজাল ইউনিটকে খবর দেওয়া হয়েছে, তারা ঘটনাস্থলে আসছে। তারা আসার পরই নিশ্চিত হওয়া যাবে এগুলো ককটেল নাকি ককটেলসদৃশ বস্তু।"
পরে বোমা নিষ্ক্রিয়করণ ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে ককটেলগুলো পরীক্ষা করে। বিকেল ৪টার দিকে ইউনিটের সদস্যরা ১০টি ককটেল নিরাপদে নিষ্ক্রিয় করেন।
ককটেলের পাশাপাশি ঘটনাস্থল থেকে আওয়ামী লীগের দুটি ব্যানার উদ্ধার করা হয়। টঙ্গী পশ্চিম থানার ওসি মোহাম্মদ আরিফুর রহমান জানান, উদ্ধার হওয়া ব্যানার দুটিতে আওয়ামী লীগের ওপর নিষেধাজ্ঞা ও আদালতের রায় বাতিল এবং কারাবন্দিদের মুক্তির দাবিতে বিক্ষোভ মিছিলের ঘোষণা রয়েছে।
তিনি আরো জানান, ব্যানার দুটিতে টঙ্গী পশ্চিম থানা ও ৫২ নম্বর ওয়ার্ড যুবলীগ এবং ছাত্রলীগের কয়েকজন নেতা-কর্মীর নাম উল্লেখ করা হয়েছে।
একটি ব্যানারে ৫২ নম্বর ওয়ার্ড যুবলীগের বিভিন্ন পদপ্রত্যাশী হিসেবে ফরিদ, হাবিবুর রহমান, বাবুল ও আলী আকবরের নাম রয়েছে। অপর ব্যানারে টঙ্গী পশ্চিম থানা ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক নূর নবী হোসেন ওরফে হৃদয়, সাজিদ হোসেন দিপু এবং ৫২ নম্বর ওয়ার্ড ছাত্রলীগের হাসান নাহিদ ও সজিবের নাম উল্লেখ করা হয়েছে।
ওসি মোহাম্মদ আরিফুর রহমান বলেন, "আমরা ধারণা করছি, নাশকতার উদ্দেশ্যে দুর্বৃত্তরা ককটেলগুলো সেখানে রেখে যায়। উদ্ধারের পর পুলিশের বোমা নিষ্ক্রিয় করণ ইউনিটকে জানানো হয়। ঢাকা থেকে ইউনিটের সদস্যরা এসে বিকাল চারটার দিকে ককটেলগুলো উদ্ধার করে সেখান থেকে বালি ভর্তি বালতিতে ভরে দুরে জন মানবশুন্য স্থানে নিয়ে নিরাপদে নিষ্ক্রিয় করেছেন। তবে ককটেল উদ্ধারের সঙ্গে উদ্ধার হওয়া ব্যানার দুটির কোনো যোগসূত্র রয়েছে কি না, তা তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি বলে জানান তিনি।
ওসি আরও বলেন, "ব্যানারগুলোর সঙ্গে এসব বিস্ফোরক উদ্ধারের কোনো যোগসূত্র রয়েছে কি না তা তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। ঘটনার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করতে তদন্ত চলছে। তদন্তের ভিত্তিতে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।"
এদিকে, ককটেলসদৃশ বস্তু পাওয়ার খবর ছড়িয়ে পড়ার পর ঘটনাস্থলে স্থানীয়দের মধ্যে উত্তেজনা তৈরি হয়। পুলিশ পুরো এলাকা ঘিরে রেখে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নেয়। বোমা নিষ্ক্রিয়করণ ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর ককটেলগুলো নিষ্ক্রিয় করায় পরে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়।
