কক্সবাজার রুটে ট্রেনে পাথর নিক্ষেপ, জানালার কাচ ভেঙে আহত ১
কক্সবাজার থেকে ঢাকাগামী 'পর্যটক এক্সপ্রেস' ট্রেনে পাথর নিক্ষেপের ঘটনায় জানালার কাচ ভেঙে এক যাত্রী আহত হয়েছেন।
বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) রাত সাড়ে ৮টার দিকে চকরিয়ার ডুলাহাজারার কাছাকাছি এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
প্রত্যক্ষদর্শীদের তথ্যমতে, ট্রেনটি সন্ধ্যা ৭টা ৪৭ মিনিটে কক্সবাজার স্টেশন থেকে ঢাকার উদ্দেশে ছেড়ে আসে। চকরিয়ার ইসলামাবাদ এলাকা অতিক্রম করে ডুলাহাজারার কাছাকাছি পৌঁছালে হঠাৎ বাইরে থেকে ট্রেনটিকে লক্ষ্য করে পাথর ছুড়ে মারা হয়। পাথরের তীব্র আঘাতে ট্রেনের নন-এসি কোচের 'ঝ' বগির জানালার কাচ ভেঙে যায়। এতে ১১ নম্বর আসনে বসা যাত্রী বিপ্লব কুমার দাশের হাত কেটে যায়। একই বগিতে থাকা দীপ্ত নামের অপর এক যাত্রীর হাতেও চোট লাগে। আহত বিপ্লব কুমার কক্সবাজার জেলা জজ কোর্টে কর্মরত। পরে ট্রেনের ভেতরেই তাকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়।
ওই জানালার ঠিক পাশেই ১২ নম্বর আসনে বসা উন্নয়ন সংস্থার কর্মকর্তা তাওহীদ মুরাদ জানান, তিনি জানালা বন্ধ করে ল্যাপটপে কাজ করছিলেন। হঠাৎ বিকট শব্দে কাচ ভেঙে তার গায়ে এসে পড়ে। তিনি বেঁচে গেলেও পাশে থাকা যাত্রীর হাত কেটে যায় বলে জানান তিনি।
এ বিষয়ে জানতে রেলওয়ে চট্টগ্রাম বিভাগীয় পরিবহন কর্মকর্তা ফারহান মাহমুদের মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি। চট্টগ্রাম রেলওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নুরুল হুদা টিবিএসকে বলেন, 'এই ঘটনার বিষয়ে এখনও কিছু জানি না। খোঁজখবর নিচ্ছি।'
বগিতে থাকা অন্য যাত্রীরা জানান, দুর্ঘটনার পর ট্রেনের অ্যাটেনডেন্ট ও গার্ডদের ঘটনাস্থলে পৌঁছাতে বেশ দেরি হয়। নিরাপত্তার কথা ভেবেই মানুষ ট্রেনে যাতায়াত করে। কিন্তু এভাবে চলন্ত ট্রেনে পাথর ছুড়লে যেকোনো সময় বড় ধরনের প্রাণহানি ঘটতে পারে।
রেলওয়ের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, পূর্বাঞ্চলের বিভিন্ন রুটে গত এক বছরে অন্তত ১৪৭ বার ট্রেনে পাথর নিক্ষেপের ঘটনা ঘটেছে। এতে আহত হয়েছেন ৪০ জন যাত্রী। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি পাথর নিক্ষেপের ঘটনা ঘটেছে কক্সবাজার রুটে। গত এক বছরে অন্তত ৪০টি ঘটনায় আহত হয়েছেন ১৫ জন। ঢাকা ও চট্টগ্রামের সঙ্গে প্রতিদিন এ রুটে চার জোড়া ট্রেন চলাচল করে। ফলে এ ধরনের ঘটনা যাত্রীদের নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে।
