শাহজালাল বিমানবন্দরে অভিযান, মিথ্যা ঘোষণায় আমদানি করা কোটি টাকার পণ্য জব্দ
হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের এয়ারফ্রেইট এলাকায় অভিযান চালিয়ে মিথ্যা ঘোষণায় আমদানি করা ১০১ কার্টন পণ্য জব্দ করা হয়েছে।
আজ বৃহস্পতিবার কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তরের সদর দপ্তর এবং এয়ারফ্রেইট সার্কেলের কর্মকর্তারা যৌথভাবে এ অভিযান পরিচালনা করেন। পরে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানায় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)।
জব্দকৃত এসব পণ্যের মধ্যে ল্যাপটপ, ব্যবহৃত অটোমোবাইল পার্টস, হাতঘড়ি, হার্ডড্রাইভ ও মিনি পিসিসহ বিভিন্ন পণ্য রয়েছে।
প্রাথমিক তথ্যে জানা যায়, আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান সরদার গ্লোবাল ট্রেড সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকে পণ্যচালানটি আমদানি করে। চালানে মোটর পার্টস, কসমেটিকস, মিনি পিসি, ট্যাবলেট, প্রজেক্টর ও কম্পিউটার পার্টসের ঘোষণা দেওয়া হয়েছিল। প্রতিষ্ঠানটির সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট ছিল ফাহিম ফাইভ স্টার লিমিটেড।
তবে পণ্যচালানটির বিষয়ে কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তরের কাছে আগে থেকেই গোপন তথ্য ছিল। এই তথ্যের ভিত্তিতে চালানটি আটক করে কায়িক পরীক্ষা করা হয়। পরীক্ষায় দেখা যায়, নতুন পণ্যের ঘোষণার আড়ালে পুরোনো ও ব্যবহৃত পণ্য আমদানি করা হয়েছে, যা ঘোষণাবহির্ভূত এবং আমদানি বিধি লঙ্ঘনের শামিল।
মোট ১০১টি কার্টনের মধ্যে রয়েছে বিভিন্ন ব্র্যান্ডের ৪৫০টি ল্যাপটপ, ৯৬৩.৮ কেজি কার পার্টস, ৯৬টি হার্ড ডিস্ক, ২৯১.১৪ কেজি কসমেটিকস, ৯৬টি মিনি পিসি। প্রায় কোটি টাকার এসব পণ্য আমদানি নিষিদ্ধ ও নিয়ন্ত্রিত হওয়ায় এগুলো আইনগতভাবে খালাসের কোনো সুযোগ নেই।
অভিযান পরিচালনাকারী কর্মকর্তারা জানান, আমদানি শর্ত পূরণযোগ্য না হওয়ায় জনস্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর কসমেটিক্স এভাবে খালাসের অপচেষ্টা করা হয়। ব্যবহৃত ইলেকট্রনিক্স সামগ্রী আমদানি নিষিদ্ধ, কারণ এগুলো নতুন হিসেবে বিক্রির মাধ্যমে সাধারণ ভোক্তাদের প্রতারণা করার ঝুঁকি রয়েছে এবং পরিবেশের জন্য এগুলো ক্ষতিকর। আর মোটর পার্টস আসলে আনঅ্যাসেম্বলড গাড়ি কি না, যার চেসিস হয়তো কন্টেইনারে আলাদাভাবে আনা হতে পারে এরকম অভিযোগ খতিয়ে দেখতে বিস্তারিত তদন্ত করা হবে। এ ঘটনায় সংশ্লিষ্ট আমদানিকারক ও সিঅ্যান্ডএফ এজেন্টের দায় নিরূপণসহ কাস্টমস আইন অনুযায়ী পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
