যে কোটার বিরুদ্ধে আন্দোলন, সেই কোটা এখন নিকৃষ্টভাবে বাস্তবায়ন হচ্ছে: শফিকুর রহমান
যে কোটার বিরুদ্ধে আন্দোলন শুরু হয়েছিল, সেই কোটাই এখন নিকৃষ্টভাবে বাস্তবায়ন হচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন বিরোধী দলীয় নেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমান।
তিনি বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য, "জেলা পরিষদের প্রশাসক, ব্যাংক, বীমা করপোরেশন এবং সরকারি, আধা-সরকারি ও বেসরকারি সব প্রতিষ্ঠানে নির্লজ্জ দলীয়করণ শুরু হয়েছে। দুর্নীতির স্বর্গরাজ্য কায়েম করতে যোগ্য ব্যক্তিদের সরিয়ে— বাছাই করে অসৎ ও দুর্নীতিপরায়ণদের গুরুত্বপূর্ণ পদে নিয়োগ দেওয়া হচ্ছে।"
আজ বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) রাজধানীর ইনস্টিটিউশন অব ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স, বাংলাদেশ (আইডিইবি) মিলনায়তনে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের শহীদ পরিবার ও জুলাই যোদ্ধাদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
শফিকুর রহমান বলেন, ১১ জন শীর্ষ নেতাসহ এক হাজার নেতা-কর্মীকে ঠান্ডা মাথায় হত্যা করা এবং বাড়িঘর ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান দখলের পরও জামায়াতে ইসলামী বিগত সরকারের সঙ্গে কোনো আপস করেনি।
তিনি বলেন, "আমরা কারও সঙ্গে তলে তলে রাতের বেলা আপস করিনি। আবার দিনের বেলা রাস্তায় নেমে চিৎকারও করিনি। আমরা স্বৈরাচারের অনুমতি নিয়েও রাস্তায় নামিনি। ওই অনুমতির তোয়াক্কাও করিনি। আমাদের যতটুকু সামর্থ্য ছিল, দফায় দফায় তা নিয়েই স্বৈরশাসনের প্রতিবাদ করেছি।"
তিনি আরও বলেন, ২০২৪ সালের জুলাইয়ে আন্দোলনের শুরু থেকেই জামায়াতের পূর্ণ সমর্থন ছিল। তবে সরকার যখন জামায়াতকে নিষিদ্ধ করে, তখন দলের পক্ষ থেকে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়—হয় মরতে হবে, নয়তো বাঁচার মতো বাঁচতে হবে। সে সময় কোনো কোনো দলের শীর্ষ নেতারা বলেছিলেন, আন্দোলনের সঙ্গে তাদের কোনো সম্পর্ক নেই। কিন্তু একই দিন জামায়াত দলীয় নেতা-কর্মীসহ দেশবাসীকে তরুণ সমাজের পাশে দাঁড়িয়ে আন্দোলনে ঝাঁপিয়ে পড়ার আহ্বান জানিয়েছিল।
২০২৪ সালের ৬ আগস্ট থেকে একদল লোক চাঁদাবাজিতে ঝাঁপিয়ে পড়ে উল্লেখ করে জামায়াত আমির বলেন, "তখন জামায়াত এ বিষয়ে আলোচনার জন্য দলটির শীর্ষস্থানীয় দুই নেতাকে নিয়ে বসে। জামায়াতের পক্ষ থেকে চাঁদাবাজি বন্ধ করার অনুরোধ জানানো হয়। কিন্তু তাদের কাছে সেই আহ্বান ভালো লাগেনি। সর্ষের মধ্যেই যদি ভূত থাকে, তাহলে তা তাড়ানো যায় না। মাথা থেকে পা পর্যন্ত সবাই যদি অপরাধে জড়িয়ে পড়ে, তাহলে অপরাধীদের বিরত রাখা যায় না। সে কারণেই এখনও চাঁদাবাজির মহোৎসব চলছে।"
বিরোধী দলীয় নেতা বলেন, জুলাই যোদ্ধারা সিস্টেম পরিবর্তনের জন্য জীবন দিয়েছিলেন। অথচ দেশ আবার অন্ধকার গলির দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। জামায়াত সেই অন্ধকার গলিতে হাঁটবে না। তারা সংসদে শহীদদের এবং জনগণের পক্ষে কথা বলবে।
শফিকুর রহমান বলেন, "আপস করার জন্য জামায়াতকে নানা ধরনের প্রলোভন দেখানো হয়েছিল। কিন্তু দলটি সেসব প্রস্তাব ঘৃণাভরে প্রত্যাখ্যান করেছে। জামায়াতের বক্তব্য ছিল, তারা জাতির সঙ্গে বেঈমানি করতে পারে না। সে কারণে গণভোটের গণরায় বাস্তবায়নের দাবি থেকেও তারা সরে আসবে না।"
জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের শহীদদের হত্যার বিচার দাবি করে তিনি বলেন, এ দেশে কারও বাবা, মা, ভাই বা বোন হত্যার বিচার যেমন হয়েছে, তেমনি গণ-অভ্যুত্থানের শহীদদের হত্যার বিচারও হতে হবে। কোনো কোনো হত্যার বিচার ২১ বছর বা ৫০ বছর পরেও হয়েছে। এই হত্যাকাণ্ডের বিচারও যত সময়ই লাগুক, একদিন না একদিন হবেই।
সরকার জাতির সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করেছে দাবি করে বিরোধী দলীয় নেতা বলেন, সরকার যেন ধানাই-পানাই বাদ দিয়ে সোজা পথে চলে। অনেকে জামায়াতের নেতা-কর্মীদের ভয়ভীতি দেখাচ্ছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, "জামায়াত আল্লাহ ছাড়া কাউকে ভয় পায় না। অন্যায়ের কাছে জামায়াত মাথা নত করবে না।"
অন্যায়ের বিরুদ্ধে কথা বলায় জুলাইযোদ্ধা ও জামায়াতের নেতা-কর্মীদের ওপর হামলা হচ্ছে দাবি করে শফিকুর রহমান বলেন, "আক্রমণ করতে করতে কে কোথায় পালাবে আর ডুববে, সেটি আল্লাহই ভালো জানেন।"
